mission71

১৯৭১ সালের ৮ আগস্ট দিনটি ছিল রবিবার। এদিন রাত ৮ টার পরপরই হলিক্রস স্কুল পেরিয়ে ফার্মগেটের মুখে ২ নম্বর সেক্টরের কয়েকজন গেরিলা, বদিউল আলম বদি, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, হাবিবুল আলম, পুলু , কামরুল হক স্বপন এবং আবদুস সামাদ ক্ষিপ্র গতিতে একটি টয়োটা সেডান গাড়ি থেকে নেমে আসেন, চোখের পলকে তাদের হাতের পাঁচটি স্টেনগান ও এলএমজি গর্জে ওঠে। মুহূর্তেই ৫ পাকসেনা এবং ৬ রাজাকার নিহত হয়।
সুনামগঞ্জ মহকুমার জামালগঞ্জের সাচনায় পাকিস্তানী বাহিনীর একটি শক্তিশালী ঘাঁটি আক্রমণে নিঃশব্দে এগিয়ে চলা একদল মুক্তিযোদ্ধার উপর পাকিস্তানী সেনারা বাংকার থেকে ব্যাপক গুলি শুরু করে। আকস্মিক এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধারা কিছুটা হকচকিত হলেও পাল্টা আক্রমণ চালায়। প্রবল গুলির কারণে সামনে এগোতে পারছিল না মুক্তিযোদ্ধারা, হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছিল। এ অবস্থায় মুক্তিসেনা সিরাজুল ইসলাম সহযোদ্ধাদের আর না এগিয়ে ওই অবস্থানে থেকে গুলি চালাতে বলে এবং কয়েকটি গ্রেনেড নিয়ে একাই ক্রল করে এগিয়ে গিয়ে সফলতার সঙ্গেই গ্রেনেড চার্জ করে শত্রুর দুটি বাংকার ধ্বংস করে। পাকিস্তানী সেনাদের তৃতীয় বাংকারে গ্রেনেড চার্জ করতে গেলে শত্রুর একটি গুলি এসে লাগে সিরাজুল ইসলামের শরীরে। সেদিনের এ যুদ্ধে সিরাজুল ইসলামসহ ছয়জন মুক্তিযোদ্ধা শহিদ এবং কয়েকজন আহত হন। পাকিস্তানী বাহিনীরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। (স্বাধীনতার পর শহিদ সিরাজুল ইসলাম বীর বিক্রম খেতাবে ভূষিত হন।)

খুলনায় রাজাকার বাহিনীর ব্যাপক হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। তেরখাদা থানার রাজাকাররা ২৫ জন মুক্তিযোদ্ধাকে এদিন নৃশংসভাবে হত্যা করে ও অনেককে আহত করে। সিলেটের গোপালগঞ্জ থানার রাজাকার ও শান্তি কমিটির সদস্যদের অমানুষিক অত্যাচারে একজন মুক্তিযোদ্ধা শাহাদৎবরণ করেন।

বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খানের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে তার জীবননাশের প্রহসনমূলক বিচার অনুষ্ঠান থেকে বিরত না হলে এর দায়ভার ইয়াহিয়াকে বহন করতে হবে। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি অবিলম্বে বাংলাদেশের নেতার প্রহসনমূলক বিচার বন্ধের উদ্দেশ্যে ইয়াহিয়া খানের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য বিশ্বনেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।

ভারতীয় লোকসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরদার শরণ সিং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক সামরিক আদালতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির বিচার অনুষ্ঠানের ঘোষণায় ভারত সরকারের উদ্বেগ ও ক্ষোভের কথা জানান। তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশ্বনেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।

সোভিয়েত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঁদ্রে গ্রোমিকো বাংলাদেশ বিষয়ে আলোচনার জন্য বিশেষ সফরে নয়াদিল্লীতে পৌঁছান। পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হামিদুল হক চৌধুরী ও পিডিপি নেতা মাহমুদ আলী লন্ডনে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকারকে স্বীকৃতি দানের ব্যাপারে ভারতকে নিবৃত্ত করার জন্য সোভিয়েত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঁদ্রে গ্রোমিকোর প্রতি আহ্বান জানান।

ঢাকা শহর শান্তি কমিটির সভায় ঢাকা শহর জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গোলাম সরওয়ার বলেন, “পাকিস্তান টিকে থাকার জন্যে জন্ম লাভ করেছে এবং চিরদিন টিকে থাকবে। আমরা বর্তমান দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর সময়োচিত হস্তক্ষেপে সমস্যা কাটিয়ে উঠেছি।”