mission71

স্বাধীনতার ৫০ বছর পর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেন শহীদ গোলজার হোসেন মৃধা। সর্বশেষ গেজেটে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তিন হাজার মানুষকে একবেলা খাওয়ালেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবার। তাদের এ ব্যতিক্রম আয়োজনে ব্যাপক প্রশংসা করেছেন এলাকার মানুষ।

বুধবার কাশিয়ানী উপজেলার গোয়ালগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিশাল এ গণভোজের আয়োজন করা হয়।

এতে মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ নানা শ্রেণিপেশার তিন হাজার মানুষ অংশ নেন।

জানা গেছে, গোলজার হোসেন ১৯৫২ সালে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের গোয়ালগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আব্দুল করিম মৃধা। গোলজার হোসেন মৃধা আলিমের ছাত্র থাকাবস্থায় মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি একাত্তর সালে খান শিহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে তৎকালীন গোপালগঞ্জ মহকুমার উলপুরে পাকসেনাদের সম্মুখযুদ্ধে বুলেটের আঘাতে মারা যান। পরে ওই এলাকায় তাকে সমাহিত করা হয়। কিন্তু স্বাধীনতার দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও তার নাম মুক্তিযোদ্ধার গেজেটে অন্তর্ভূক্ত হয়নি। ২০২১ সালের সর্বশেষ গেজেটে সাধারণ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় গোলজার হোসেনের নাম অন্তর্ভূক্ত হয়েছে।

শহীদ গোলজার হোসেনের সহযোদ্ধা এম, এম জালাল উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘গোলজার আহম্মেদ আমার সহযোদ্ধা ছিলেন। তিনি আমার সঙ্গে যুদ্ধাকালীন অবস্থায় শত্রুসেনার আক্রমণে নিহত হন। তবে ৫০ বছর পর এসে সহযোদ্ধা গোলজার হোসেনের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেখে যেতে পারলাম। এটা অত্যন্ত আনন্দের খবর। তবে তিনি এখনও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃত পাননি বলে মনে কিছুটা কষ্ট রয়ে গেল।’

শহীদ গোলজার হোসেনের ছোট ভাই মো. আব্দুস সালাম মৃধা অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, ‘একাত্তর সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভাইকে হারিয়েছি। আমার ভাইয়ের এক বছরের মুক্তিযোদ্ধার ভাতা ১ লাখ ৬৪ হাজার ও সঙ্গে আরও টাকা দিয়ে তার রুহের আত্মার শান্তির জন্য তিন হাজার মানুষকে একবেলা খাইয়েছি।’

মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাসুদ রানা বলেন, শহীদ গোলজার হোসেন মৃধার ভাইয়েরা যা দেখিয়েছে, তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এ ধরনের আয়োজন এর আগে কখনও দেখিনি। খুব ভালো লাগল।

কাশিয়ানী থানা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইনায়েত হোসেন বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হয়েও গোলজার ৫০ বছর ধরে স্বীকৃতি পাননি। এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয়। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি স্বীকৃতি পেয়েছেন এটা অনেক আনন্দের খবর।’

কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রথীন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘সর্বশেষ প্রকাশিত গেজেটে বীরমুক্তিযোদ্ধা গোলজার হোসেনের নাম এসেছে। দেরিতে হলেও তিনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছেন।’