mission71

অ্যাজমা বা হাঁপানি অন্যান্য কঠিন রোগের মতোই কষ্টদায়ক একটি অসুখ। এই রোগের ফলে দেখা দেয় তীব্র শ্বাসকষ্টের সমস্যা। তবে বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে হাঁপানিকে নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও, এই রোগকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।

যে কোনো বয়সেই হাঁপানির সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে বাচ্চাদের এই রোগ হওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। তীব্র শ্বাসকষ্টযুক্ত হাঁপানি রোগের লক্ষণ দেখা দিলেই বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করেন চিকিৎসকেরা। তবে একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, এই অসুখ থেকে স্বস্তি পেতে ওষুধের পরিবর্তে কিছু ভেষজ চা ব্যবহার করা হচ্ছে।

এ দিকে, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্ত ভেষজ চা সাময়িকভাবে আপনাকে হাঁপানি থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করবে। আজকের এই ফিচারে জেনে নিন ভেষজ চারটি চা সম্পর্কে-

গ্রিন টি

অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং উপকারী উদ্ভিজ্জ যৌগগুলির দ্বারা পরিপূর্ণ গ্রিন টি, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রিন টি-তে Epigallocatechin Gallate (EGCG) নামক উদ্ভিজ্জ যৌগ থাকে। এটি ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে থাকা ক্যাফেইন হাঁপানি রোগ উপশমও করতে পারে। এ জন্য ১ কাপ ফুটন্ত গরম পানিতে ১ চা-চামচ গ্রিন টি পাতা যোগ করুন। এরপর সেটি চাপা দিয়ে রেখে দিন ৫ মিনিট। ব্যাস এবার ছেঁকে নিয়ে পান করুন।

আদা চা

অপর একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, আদায় থাকা প্রয়োজনীয় উপাদান হাঁপানি রোগীদের লক্ষণগুলি কার্যকরভাবে হ্রাস করতে সাহায্য করে। তাই হাঁপানির লক্ষণ দেখা দিলে খেতে পারেন আদার চা। এ জন্য এক কাপ ফুটন্ত পানিতে এক চা চামচ আদাবাটা যোগ করে ফুটিয়ে নিন। তারপর ছেঁকে নিয়ে পান করুন।

ইউক্যালিপটাস চা

ইউক্যালিপটাস গাছ ঔষধি গুনাগুণ এর জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এই গাছের পাতাতে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং কিছু উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে, যা হাঁপানির লক্ষণগুলি কমাতে সাহায্য করে। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ইউক্যালিপটলের অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য হাঁপানির লক্ষণগুলি হ্রাস করতে সহায়তা করে। কাজেই হাঁপানির সমস্যা থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে এক কাপ ফুটন্ত পানিতে এক চা চামচ শুকনো ইউক্যালিপটাস পাতা যোগ করুন। পাঁচ মিনিট ভালো করে ফুটিয়ে নিন। সর্বশেষ ভালোভাবে ছেঁকে নিয়ে পান করুন।

যষ্টিমধুর চা

যষ্টিমধু গাছের মূল থেকে তৈরি হয় যষ্টিমধুর চা। এটি বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এই চা সাময়িকভাবে হাঁপানির লক্ষণগুলি থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে। তবে গবেষকদের মতে, লক্ষণ বৃদ্ধি পেলে যষ্টিমধু কতটা কার্যকরী হবে তা নির্ণয় করার ক্ষেত্রে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। এই চা তৈরির জন্য এক কাপ পানিতে এক চামচ শুকনো যষ্টিমধু দিয়ে দিন। এরপর পাঁচ মিনিট ধরে ভালো করে ফুটিয়ে নিন। ব্যাস এবার ভালোমতো ছেঁকে নিয়ে পান করুন যষ্টিমধুর চা।