mission71

২০২০-২১ অর্থবছরের সেরা করদাতা হিসেবে ১৪১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সম্মাননা ‘ট্যাক্স কার্ড’ দেয়া হয়েছে। ব্যক্তি ৭৫ জন, কোম্পানি ক্যাটাগরিতে ৫৪ ও অন্যান্য ক্যাটাগরিতে ১২ করদাতাকে এ সম্মাননা দেয়া হয়। এছাড়া সর্বোচ্চ ও দীর্ঘসময় আয়কর দেয়া ৫২৫ জন ‘সম্মানিত করদাতা’ সম্মাননা পেয়েছেন। গতকাল রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আয়োজিত সেরা করদাতাদের ‘ট্যাক্স কার্ড ও সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে এ বছরের সম্মাননা তুলে দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিমউদ্দিন। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেশের উন্নয়নে সবাইকে কর দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, দিন দিন জনগণের মধ্যে কর দেয়ার আগ্রহ বাড়ছে। সম্পদশালী সবাইকে তাদের দায়বদ্ধতা থেকে কর দেয়া উচিত। সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আয়োজিত ‘সেরা করদাতা সম্মাননা ও ট্যাক্স কার্ড’ অনুষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমার বিশ্বাস। সম্মানিত সর্বোচ্চ করদাতাদের সম্মাননা দেয়া শুধু একটি পুরস্কারই নয়, এটি একটি স্বীকৃতি, একটি উৎসাহ, একটি অনুপ্রেরণা।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঊষালগ্নে ১৯৭২ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড গঠন করে এ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ধারাবাহিক উন্নয়নের ভিত রচনা করেছিলেন। তিনি অনুধাবন করেছিলেন, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সরকারকে যে উন্নয়ন ব্যয় করতে হয়, তার মূল জোগান আসে রাজস্ব ব্যবস্থা থেকে। ১৯৭২-৭৩ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ২৫০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১৬৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছিল, যা সময়ের পরিক্রমায় আজ মহীরুহে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের রাজস্ব সংগ্রহ আরো অনেক বাড়াতে হবে। এ দেশের সম্মানিত করদাতাদের টাকায় আজ নির্মিত হচ্ছে পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প। আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার প্রাণশক্তি প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ এশিয়ার নব্য টাইগার হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের ২৫তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। আমাদের এখন লক্ষ্য, এ সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০৩০ সালে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বা এসডিজি অর্জন ও বাংলাদেশকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের উন্নয়ন অভিযাত্রাকে সফল করতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সম্পদের জোগান বাড়াতে হবে। রাজস্ব অনুপাত এখনো আমাদের প্রতিবেশী ও উন্নয়ন প্রতিযোগী অনেক দেশের তুলনায় কম। এ বিষয়ে আমাদের আরো কাজ করতে হবে। এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ২০০৫-০৬ সালের ৩৪ হাজার কোটি টাকা থেকে সাড়ে সাত গুণেরও বেশি বেড়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। গত এক যুগে আয়করের পরিমাণ ৭ হাজার কোটি টাকা থেকে ১২ গুণ বেড়ে ৮৫ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে দেশে একটি করদাতাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়েছে। করদাতার সংখ্যাও প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে।