mission71

মিশন একাত্তর

সেবা ও সাফল্যে বছর পার করেছে বন্দরের শীর্ষ টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেক।বৈশ্বিক মহামারী করোনার তান্ডবে সৃষ্ট সংকটকালে তরফদার মোঃ রুহুল আমিনকে দেশের মানুষ পেয়েছে সামনের সারির অন্যতম যোদ্ধা হিসেবে । করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান , অসহায় মানুষদের জন্য খাদ্য সহায়তা , জাহাজের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে থাকা লেসিং বিভাগের এবং ডেলিভারি বিভাগের দুই হাজার অস্থায়ী শ্রমিকদের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের সিসিটি, এনসিটি টার্মিনালে কর্মরত শ্রমিকদের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ , কর্মহীন হয়ে পড়া ২০০ ফুটবল কোচকে প্রায় ২৫ লাখ টাকার আর্থিক সহযোগিতা, দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরে মাস্ক, পিপিইসহ সুরক্ষা উপকরণ উপহার , পায়রা বন্দরে করোনা মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম প্রদান, কক্সবাজারে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের জন্য চিকিৎসা উপকরণ ও সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাহিদ আহসান রাসেলের কাছে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জামাদি হস্তান্তর, আমদানি-রফতানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বন্দরে কর্মীদের আনা-নেওয়ার জন্য বাস, নাশতা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ- বিশেষ করে মাস্ক, গ্লাভস, হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, জ্বর মেপে টার্মিনালে ঢোকানো, মেডিক্যাল টিমের উপস্থিতি ইত্যাদি নিশ্চিতকরণ,শেখ রাসেলের জন্মদিনে শিক্ষাবৃত্তি হিসেবে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ও ১০০ ল্যাপটপ প্রদান , অসহায়, গরিব ও হতদরিদ্র পরিবারকে খাদ্য সহায়তা ,আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও দুঃস্থ্য মানুষের জীবনের চাকা অবিরাম চলমান রাখতে, যা সত্যি খুবই প্রশংসনীয়।চলমান মহামারি করোনায় ইতোমধ্যেই সমাজের বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তথা জনস্বার্থে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে চলেছেন। জাতির এই দুঃসময়ে মানবতার দূত হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছেন বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব, বাংলাদেশ ফুটবল ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক,এবং বন্দরের শীর্ষ টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিন।আর বছর শেষে পেলেন বন্দরের বড় কাজ। ৭ বছরের জন্য বন্দরের খালি কনটেইনার সরানোর কাজটি পেতে যাচ্ছে তারা। সবমিলিয়ে সেবা ও সাফল্যে বছর শেষ করল বন্দরের শীর্ষ এই টার্মিনাল অপারেটর প্রতিষ্ঠান।চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ৯২ শতাংশই হয়ে থাকে এই বন্দর দিয়ে। তাই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে সব সময় বিবেচিত হয়ে আসছে বন্দরটি।চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ও সাধারণ পণ্য মিলিয়ে মোট ১০ কোটি ১৫ লাখ টন পণ্য ওঠানামা হয় গত বছরে। এর মধ্যে ১৩ শতাংশ পণ্য ওঠানামা করে থাকে সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড। চট্টগ্রাম বন্দরের একমাত্র টার্মিনাল অপারেটর প্রতিষ্ঠানটি বন্দরের নিউমুুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি), পানগাঁও কনটেইনার টার্মিনাল, কমলাপুর ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) পরিচালনা করছে। ফলে সাধারণ এবং কনটেইনার পণ্য ওঠানামায় তার অভিজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি।

সূত্র জানায়, সর্বনিম্ন দরদাতা হিসাবে চট্টগ্রাম বন্দরের জেনারেল কার্গো বাথের (জিসিবি) ‘খালি কনটেইনার রিমুভাল অপারেশন প্রজেক্ট’-এর কাজ পেতে যাচ্ছে সাইফ পাওয়ারটেক বিডি লিমিটেড। ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে ‘টেকনিক্যাল রেসপনসিভ’ ঘোষণা করেছে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে ৭ বছর এ প্রকল্পের আওতায় জিসিবির খালি কনটেইনার রিমুভাল অপারেশন কাজ করবে তারা।

করোনাকালে সারা বছরই মানুষের পাশে ছিলেন সাইফ পাওয়ারের কর্ণধার তরফদার রুহুল আমিন। নিজেও ভুগেছেন করোনায়। জীবনকে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ছুটে গেছেন ত্রাণ ও চিকিৎসা সরঞ্জামাদি নিয়ে। করোনাকালে শ্রমিকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম বন্দরকে সচল রাখতে অগ্রণী ভ’মিকা পালন করছেন।

সাইফ পাওয়ারটেকের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে দুই স্তরের শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং খাদ্য নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।এরপরে যশোরের সদর উপজেলার ফতেহপুরে তার নিজ গ্রাম এবং গাজীপুরে শ্বশুর বাড়িতেও মানবিক সহায়তা করেছেন তরফদার রুহুল আমিন।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ ফুটবল ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে দেশের ৬৪টি জেলার ১৯৪ কোচ এবং সাবেক খেলোয়াড়দের আর্থিক সহায়তা করেন এই ক্রীড়াপ্রেমী। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও জনকল্যাণ তহবিলে ২ কোটি টাকা প্রদান করেন তিনি। এদিকে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকেই সাইফ পাওয়ার টেক বিভিন্নভাবে করোনা মেকাবাবেলায় ভূমিকা পালন করে গেছেন।

গত ১৭ জুলাই শুক্রবার বন্দরের শীর্ষ টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশকে (সিএমপি) ২৫ সেট অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম দিয়েছে।

এর আগে ১৪ জুন দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের করোনা ইউনিটের জন্য ৪টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ও ৪টি ভেন্টিলেটর দিয়েছে সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড। চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের বোর্ড রুমে চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম আবুল কালাম আজাদের হাতে এসব জরুরী চিকিৎসা সরঞ্জাম তুলে দেন সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মো. রুহুল আমিন।
এর আগেও করোনার ভাইরাসের মহামারি ক্রান্তিকালে দেশের প্রধান চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর কেন্দ্রীক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে শীর্ষ টার্মিনাল অপারেটর ‘সাইফ পাওযারটেক লিমিটেড’।

মহামারী নভেল করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে গত ১৬ এপ্রিল দুই কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে এ প্রতিষ্ঠান। ২ কোটি টাকার মধ্যে ৬৫ লাখ টাকা কোম্পানির কর্মীদের বেতন থেকে এবং বাকি টাকা কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে দেয়া হয়েছে।

গত ১২ মে প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের হাতে ৫০০টি তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক, রাবার গ্লাভস ২০০টি, রিইউজেবল ও ওয়াশেবল পিপিই ২৫টি, মেডিক্যাল প্রটেকটিভ আই ওয়্যার গগলস ২৫টি এবং ৫টি ইনফ্রারেড থার্মোমিটার তুলে দেন।

জানা গেছে, এই করোনাকালীন সময়ে সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড বন্দরে কনটেইনার লোড-আনলোড স্বাভাবিক রাখা প্রায় ২ হাজার শ্রমিককে ত্রাণসামগ্রী প্রদান করেছে।

এ প্রসঙ্গে তরফদার মো. রুহুল আমিন বলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে আমাদের শ্রমিকদের খাদ্য, পরিবহন সুবিধাসহ করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য সুরক্ষার নানা উদ্যোগ নিয়েছি। এছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের সহযোগিতায় ত্রাণ কার্যক্রম চালু রেখেছি। ফুটবলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোচ ও খেলোয়াড়দের অনুদান দিয়েছি। এভাবেই গতিশীল ছিল করোনা প্রতিরোধে সাইফ পাওয়ার টেকের বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার তরফদার রুহুল আমিনের আরেক পরিচয় তিনি চট্টগ্রাম চেম্বারের সহ-সভাপতি।

করোনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের কতিপয় সিন্ডিকেট অক্সিজেন সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট তৈরী করে রেখেছে। এ কারনে চট্টগ্রামে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের অক্সিজেন পেতে চরম সংকটের পড়তে হয়েছে। এই অবস্থায় নিজ উদ্যোগে ১০০ সিলিন্ডার দিয়ে প্রদান করেন তরফদার রুহুল আমিন। প্রতিটি গ্যাসভর্তি অক্সিজেন সিলিন্ডারের সঙ্গে ট্রলি, ক্যানোলা, মাস্ক, রেগুলেটর, ফ্লো মিটার ছিল।

নিজের কাজের প্রতি আস্থা ও এত কর্মস্পৃহ হওয়ার পিছনে কোন শক্তি কাজ করে এ প্রশ্নের জবাবে তরফদার রুহুল আমিন বলেন, এই পৃথিবীতে সবার সব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ মিলে না। পরম করুণাময়ের রহমতে তিনি সেই সুযোগটা সবসময়ই পেয়েছেন।

তরফদার রুহুল আমিন বলেন. আজকে মানুষের দোয়া, আমি, আমার প্রতিষ্ঠানের অক্লান্ত পরিশ্রমে সাইফ পাওয়ার টেক আজ বন্দরের শীর্ষ টার্মিনাল অপারেটর হিসেবে কাজ পরিচালনা করছে। সাইফ পাওয়ার টেক সবসময়ই তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে এসেছে। নিশ্চিত করছে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা।করোনাযুদ্ধে সামনের সারির অন্যতম যোদ্ধা, ক্রীড়াসংগঠক, জাতির দুঃসময়ে ত্রাতার ভূমিকায় মানবিক মানুষ তরফদার মো. রুহুল আমিন আগামীতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে সবার দোয়া চেয়েছেন।