mission71

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের পর বন্ধ থাকা সিনেমা হলগুলো খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক ও প্রদর্শক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আরো বলেন, আগামী মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এরপর দেশের সিনেমা হল খোলার বিষয়ে স্থির সিদ্ধান্তে আসা যাবে।

এ সময় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সিনেমা হলগুলো খোলার ব্যাপারে আমি আপনাদের সঙ্গে ইতিপূর্বেও আলোচনা করেছি। তবে এই মাসে কোভিড-১৯-এর প্রতিদিনের যে মৃত্যুর হার, মৃত্যুর সংখ্যা কিংবা আক্রান্তের সংখ্যা যেটি দেখতে পাচ্ছি, এটি আসলে খুব বেশি কমেছে বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে না। কারণ বুধবারও ৫৪ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে খোলাটা কতটুকু যৌক্তিক হবে সেটা একটা বড় প্রশ্ন। আমি অনুরোধ জানাব, আগামী মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে তারপর আমরা বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব কখন খোলা যায়। আমার মনে হয়, আমরা অন্তত আগামী মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করি। এরপর আপনাদের সঙ্গে বসে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। এর আগে খোলা কতটুকু সমীচীন হবে, এ ব্যাপারে আমি পরিপূর্ণভাবে কনভিন্স নই।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, এবার বাণিজ্যিক ছবি নির্মাণের জন্য অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনুদানের ছবি ও অনুদানের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। অন্যান্য বছর ১০টি সিনেমার জন্য অনুদান দেওয়া হতো। এবার সেটা ১৬টি করা হয়েছে। তবে এর জন্য কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে, অত্যন্ত ১০টি সিনেমা হলে সিনেমাটি মুক্তি পেতে হবে। তাহলে অনুদান পাবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আপনাদের সঙ্গে করা আলোচনার বিষয়ে আমি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছি। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, সিনেমা হল যেগুলো বন্ধ আছে সেগুলোকে চালু করা এবং নতুন সিনেমা হল চালু করার লক্ষ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদী সফট লোন দেওয়ার ব্যাপারে তিনি সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে নির্দেশনা দেবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিনেমা হলগুলো উন্নয়নের জন্য অনেক আন্তরিক জানিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, যখনই আমি কথা বলেছি, তিনি এ ব্যাপারে নানা পরামর্শ-নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট আমাকে বলেছেন, আমি চাই প্রতি উপজেলায় অন্তত একটি করে সিনেমা হল হোক। গত একনেক মিটিংয়ে তিনি আইসিটি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সিনেমা হলগুলোকে আধুনিকায়নের জন্য কিছু করা যায়। এ নিয়ে আমি আইসিটি মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা বসব, তাদের মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কীভাবে কী করা যায়।