সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ২য়,৩য় ধাপের পরীক্ষার্থীদের জন্য দিকনির্দেশনা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ২য়,৩য় ধাপের পরীক্ষার্থীদের জন্য দিকনির্দেশনা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ১ম ধাপের প্রশ্ন বিশ্লেষণ এবং ২য়,৩য় ধাপের পরীক্ষার্থীদের জন্য দিকনির্দেশনাঃ
ব্যাটিং করার সময় হুট করে একটি ইয়র্কার আসলেই বিভ্রান্ত না হয় সুন্দরভাবে যারা ডিফেন্স করতে জানে তারাই তো প্রকৃত ব্যাটসম্যান। ক্রিজে টিকে থাকলেই তো প্রচুর রান করার সুযোগ থাকে। তেমনিভাবে প্রায় প্রতিটি পরীক্ষায় কিছু কঠিন প্রশ্ন থাকে যা অনেকটা ফাঁদের মত,যে প্রশ্নগুলো আপনাকে বিভ্রান্ত করবে,মস্তিষ্ক গরম করে তুলবে।আচ্ছা ভাই!চাকরির পরীক্ষায় সবগুলো প্রশ্নের উওর করা কি বাধ্যতামূলক? বা চাকরি প্রাপ্তির জন্য সব প্রশ্নের উত্তর করতেই হবে? উত্তর হলো ;অবশ্যই না।তবে আমরা কেন ৪-৬ টি আনকমন প্রশ্নের পিছনে মাথা নষ্ট করে সময়ক্ষেপণের সাথে সাথে নেগেটিভ নম্বরের ফাদে পড়বো! তাই বলি কী সব প্রশ্নের উত্তর করার চেয়ে সময় নিয়ে নির্ভুল উওর করার প্রচেষ্টা থাকলেই চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।তবে হ্যা, . ২৫ নেগেটিভ থাকার কারণে শেষের দিকে কিছু ৫০-৫০ প্রশ্ন দাগানো যেতে পারে(এই থিওরি সম্পূর্ণ অপরিচিত প্রশ্নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নহে)।

👉👉১ম ধাপের প্রশ্ন প্যাটার্ন দেখে যা বুঝলামঃ
বিগত বছরগুলোর প্রাইমারি নিয়োগ পরীক্ষার তুলনায় ১ম ধাপের প্রশ্ন আমার কাছে যথেষ্ট স্ট্যান্ডার্ড মনে হয়েছে এবং বিগত বছরগুলোর মতো জব সলুশন বেজডই প্রশ্ন হয়েছে।৭-৮ টি প্রশ্ন অপরিচিত লেগেছে যা বিগত বছরগুলোতেও হয়েছিল।সুতারাং ঘাবড়ানোর কিছু নেই।মনে রাখবেন চাকরি পেতে আপনার বড়জোড় ৭০ নম্বর লাগবে ;অবশ্যই ৮০ নম্বর নয়।
১ম ধাপে যে টপিকগুলো থেকে প্রশ্ন হয়েছে ২য় ধাপে সেই টপিক থেকেই প্রশ্ন হবে বিষয়টি এমন নাও হতে পারে।২য় ধাপের প্রশ্নের প্যাটার্ন ১ম ধাপের ন্যায় হতে পারে আবার টপিক পরিবর্তন করে প্রথম ধাপে না আসা টপিক থেকে প্রশ্ন হতে পারে।এগুলো সবই কর্তৃপক্ষের ইচ্ছের উপর নির্ভর করবে।কী ঘাবড়ে যাচ্ছেন?আমি যাস্ট সম্ভাবনার কথা বলছি এবং সে সম্ভাবনা অনুযায়ী প্লান ‘এ’ এবং প্লান’বি’ তৈরি করে দিচ্ছি যেন পরীক্ষার হলে আপনাকে হতাশ হতে না হয়।
🟢বাংলাঃ
বিগত বছর এবং এবছরের ১ম ধাপের প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়,বাংলায় তিনটি পার্ট থেকে প্রশ্ন করা হয়।সেক্ষেত্রে ব্যাকরণ অংশের জন্য ৯-১০ম শ্রেণির পুরাতন বোর্ড ব্যাকরন বই বারবার পড়তে হবে(প্রশ্ন কিন্তু এই বইয়ের ব্যাসিক থেকেই হয়)সাথে অনুশীলনের জন্য বিগত প্রশ্ন(প্রাইমারি +এনটি আরসি+ বিসিএস) বারবার সলভ করতে হবে।ব্যাকরণের মুখস্থ অংশ এবং সাহিত্য অংশের জন্য জব সলুশন (বিসিএস,প্রাইমারি, এন টি আরসি এবং একটি রিসেন্ট জবসলুশন)হবে আপনার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।এর বাহিরে পড়ে সময় এবং মাথা দুটোই নষ্ট করার প্রয়োজন নেই।
🟢ইংরেজিঃ
১ম ধাপের প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়,ইংরেজিতেও তিনটি পার্ট থেকে প্রশ্ন করা হয়েছে যেখানে ১ম ধাপে গ্রামার অংশে parts of speech,conditional,right forms of verb,voice,correction, determiner থেকে প্রশ্ন করা হয়েছে।সেক্ষেত্রে ২য় ধাপে ১ম ধাপের টপিকের সাথে number,gender,article,sentence, tense,narration,phrase &clause identification বিস্তারিত দেখে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।গ্রামার অংশে ভালো করার জন্য জব সলুশনের পাশাপাশি একটি গ্রামার বই থেকে টপিকগুলো বিস্তারিত পড়ে যাওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।গ্রামার বই হিসাবে আপনি Expert English বা English for competitive Exam জাতীয় বইগুলো পড়তে পারেন। এতে পরীক্ষায় ভুলের পরিমান কমে যাবে।
memorizing part তথা idioms and phrase,synonym -antonyms, one word substitution, spelling, translation অংশে ভালো করতে বিগত প্রশ্নগুলো পড়লেই হবে,ইনশা-আল্লাহ।
লিটারেচার অংশের জন্য বিগত সালের বিসিএস এবং প্রাইমারির প্রশ্ন দেখে যাবেন।ব্যাস,এনাফ।
🟢গণিত:
নিয়োগ পরীক্ষায় এই অংশে ভালো করা সবচেয়ে সহজ যদি আপনি একটু পরিশ্রম করেন।
সত্যিকথা বলতে কী! এই অংশের প্রায় সবগুলো প্রশ্নই ৭ম,৮ম এবং ৯ম শ্রেনির বইয়ের ব্যাসিক অংশ থেকে হয়ে থাকে।
তবে এত সময় না থাকলে যেকোন একটি গাইড বই থেকে অধ্যায় ধরে ধরে ব্যাসিক ক্লিয়ার করে পরীক্ষার হলে যাবেন।গাইড বইয়ের ক্ষেত্রে আমি খাইরুল ব্যাসিক ম্যাথের কথা বলবো।
যেহেতু প্রাইমারি নিয়োগ পরীক্ষায় পাটিগণিত থেকে বেশি প্রশ্ন হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে এই অংশে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।আমার পরামর্শ পাটিগনিতের সব অধ্যায় দেখে যাবেন।
বীজগনিত থেকে শুধু মান নির্নয়,ধারা,সম্ভব হলে লগ,সূচক অংশ দেখে যাবেন।
জ্যামিতি অংশে একেবারে ব্যাসিক থেকে ৪-৫ টি প্রশ্ন হয়ে থাকে।সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে জ্যামিতি অংশ দেখে যেতে হবে নচেত পরীক্ষার হলে আটকে যাবেন।
পরিমিতি অংশে ভালো করতে জ্যামিতির ব্যাসিকের সাথে বিগত সালে আসা বিভিন্ন পরিমাপ বিষয়ক প্রশ্ন তোতাপাখির মত মুখস্থ করে ফেলবেন।
🟢সাধারণ জ্ঞান(বাংলাদেশ বিষয়াবলী, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী,বিজ্ঞান,আইসিটি,ভূগোল):
সবচেয়ে বড় সিলেবাস এবং মজার ব্যাপার হলো এই অংশে সারাবছর পড়েও আপনি সব প্রশ্ন কমন ফেলতে পারবেন না।তাই এই অংশে পড়াশোনার পাশাপাশি যথেষ্ট কৌশল অবলম্বন করে প্রস্তুতি শেষ করতে হবে।
সেক্ষেত্রে বিগত সালের প্রশ্নের পাশাপাশি বিশেষ যত্ন সহকারে***** মুক্তিযুদ্ধ,৬ দফা,৬৯,***৭ মার্চ ভাষণ** ভাষা আন্দোলন, **প্রাচীন বাংলার ইতিহাস,**৭০ এর নির্বাচন,*****বংগবন্ধু, *****শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের বিগত ১২ বছরের সফলতা,****প্রাইমারি এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিষয়,এসডিজি এবং বাংলাদেশের সফলতা,***করোনা এবং বিশ্ব,**মুজিব-বর্ষ,***জলবায়ু,পররাষ্ট্রনীতি,****জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দিবস(যেমন,জাতীয় শিক্ষক দিবস,ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস ইত্যাদি) *****দেশের বিভিন্ন সফলতার চিত্র যেমনঃ বংবন্ধু স্যাটেলাইট, এলডিসি থেকে উত্তরন,মধ্যম আয়ের দেশ,জি আই পন্য,ভ্যাক্সিন,ব্লু-ইকোনমি,পদ্মা সেতু,মেট্রোরেল, বিদ্যুৎ খাত,পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র,রুপপুর,রেমিট্যান্স,সামাজিক নিরাপত্তা খাত(গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলোর তারিখ) ইত্যাদি সম্ভব হলে গুগল করে দেখে যাবেন।
২য় এবং ৩য় ধাপের পরীক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞান এবং আইসিটি অংশে ভালো করতে বিগত প্রশ্ন পড়ার বিকল্প এবং অদ্বিতীয় ওষুধ নেই।
আন্তর্জাতিক অংশে বিগত প্রশ্নের বাহিরে মোটাদাগে কিছু সাম্প্রতিক প্রশ্ন দেখে যাবেন।তবে অভারঅল,একমুহূর্তে সাম্প্রতিক প্রশ্নে বেশি সময় না দিয়ে জব সলুশন টাইপের বইয়ে বেশি বেশি সময় দিবেন।
ভূগোল অংশে ভালো করতে ৯ম-১ম শ্রেণির প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কিত অধ্যায় এবং নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান থেকে দূর্যোগের সাথে বসবাস অধ্যায়টি দেখে যাওয়া হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
কোন সাজেশনই কমন পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না।তবে ১ম ধাপের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে একটি দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করেছি মাত্র।এই লেখা পড়ে আগামী দুইধাপের একজন পরীক্ষার্থীও যদি উপকৃত হয়,তবে আমার পরিশ্রম সার্থক হবে বলে মনে করি।সর্বোপরি, রিজিকের মালিক আল্লাহ।আপনাদের পরিশ্রম এবং সৃষ্টিকর্তার চাওয়া;এই দুইয়ের সমন্বয়ে একটি ভালো কিছু হবে সেই প্রত্যাশায়….
🟢পরীক্ষার আগে যা মাথায় নিবেন নাঃ
কাট অফ নম্বর কত?
কোটা বিভাজন কিভাবে হবে?
অমুক উপজেলায় কতজন নিবে?
একমুহূর্তে এই প্রশ্নগুলোর উওর দেওয়ার ক্ষমতা স্বয়ং ডিপিইএর নেই বলে আমি মনে করি।
প্রথমত, কাট নম্বর নির্ভর করবে আপনার উপজেলায় আপনার প্রতিযোগীর সংখ্যা,তাদের মেধা এবং উক্ত উপজেলায় কতজন শিক্ষক নিবে তার উপর।তাই কাট অফ নম্বর নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা করার প্রয়োজন নেই।
দ্বিতীয়ত, কোটা বিভাজন বিষয়টি ডিপিই-এর উপর ছেড়ে দেন।গতবছর তাদের নির্দেশিত কোটা তারা অনুসরণ করেনি!
তৃতীয়ত,উপজেলায় কতজন নিবে এই তথ্য নিয়েও আপনার মাথাব্যথার কারণ নেই।ফেজবুকে ভাইরাল হওয়া উপজেলা ভিক্তিক পোস্ট সংখ্যা জাস্ট ধারণামাত্র।তাই আপনার কাজ হবে সবচিন্তা বাদ দিয়ে ভালো প্রস্তুতি নিয়ে একটি ভালো পরীক্ষা দেওয়া।এবং পরীক্ষা যদি আপনি ভালো দিতে পারেন এত হিসাব-নিকাশ ছাড়ায় চাকরি পাওয়ার দৌড়ে আপনি অন্যদের থেকে অনেক এগিয়ে থাকবেন।

Imran Shishir

 

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Articles