mission71

মিশন একাত্তর

সাদা চিনি ভালো,তবে যদি সুস্থ্য থাকতে চান তাহলে আর সাদা চিনি নয়, তার পরিবর্তে লাল চিনি খান।
উন্নত বিশ্বে সাদা চিনির বদলে লাল চিনি বা Brown Sugar এর ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশে এই ব্যাপারে সচেতনতা এখনও তেমন একটা বৃদ্ধি পায়নি। বাংলাদেশে লাল চিনি হিসাবে যা পাওয়া যায় তা হচ্ছে সাদা চিনির সাথে চিটাগুড়ের মিশ্রণ। এর দামও অনেক বেশি।

বাসা বাড়িতে মিষ্টি জাতীয় নানা মুখরোচর খাবার তৈরিতে আমরা সাধারণত সাদা চিনি ব্যবহার করে থাকি। চা-কফির সঙ্গে তো এই চিনি না হলে চলেই না। কিন্তু আপনি, আমি, আমরা যে ধবধবে সাদা চিনি খেয়ে ডায়াবেটিস, হার্ট অ্যাটাক ডেকে আনাসহ আমাদের লিভার বিকল করছি সে খবর কি রাখছি?

কাজেই এসব ঝুঁকি এড়াতে লাল চিনি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। লাল চিনি সরাসরি আখ থেকে তৈরি অপরিশোধিত চিনি। লাল চিনিতে থাকে আখের সব উপাদান। যেমনঃ শর্করা, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ, উপকারী অ্যামাইনো অ্যাসিড, জিঙ্ক, থায়ামিন, রাইবোফ্লেবিন, ফলিক অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ইত্যাদি।


সাদা চিনি যত খাওয়া হয় তত এটি ব্রেইনকে উদিপ্ত করে আরও বেশি খাবার জন্য । সাদা চিনি খওয়ার ফলে গ্রেলিন, লেপটিন, ডোপামিন, ইত্যাদি হরমোনের স্বাভাবিক ছন্দ প্রবাহ কিছুটা বাধা প্রাপ্ত হয় যা ব্রেইনে ক্ষুধার অনুভুতি বাড়িয়ে দেয় ফলে আমরা অতিরিক্ত পরিমানে খাবারে অভ্যস্ত হয়ে পরি যা স্থুলতার সৃষ্টি করে ।
আর আমরা সবাই জানি শারীরিক স্থুলতা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ব্লাড প্রেশার ইত্যাদি রোগের কারন।
এক চা চামচ সাদা চিনিতে ১৬ কিলোক্যালরি ও লাল চিনিতে ১৭ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি পাওয়া যায়। লাল চিনির মোলাসেসে স্বাস্থ্যের জন্য দরকারি কিছু খনিজ উপাদান, যেমন ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন ও ফলিক এসিড রয়েছে।


লাল চিনির উপকারিতা গুলো উল্লেখ করা হল :
চিনি কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাবার, যা আমাদের দেহে শক্তির জোগান দেয়। আমরা প্রধানত উদ্ভিজ্জ উৎস যেমনআখ, মিষ্টি বিট থেকে চিনি পাই। এ ছাড়া প্রাকৃতিক কিছু খাবার যেমন দুধ, ফল, মধুও চিনির উৎস। সাধারণত চিনি সাদা এবং লাল বা বাদামিএ দুই রঙের হয়। সুন্দর পরিষ্কার রঙের জন্য সাদা চিনি জনপ্রিয় হলেও পুষ্টিগুণের দিক থেকে লাল চিনি উৎকৃষ্ট।
লাল চিনি মোলাসেস নামক এক প্রকার আঠাল উপাদানের জন্য চিনি লাল বা বাদামি রং ধারণ করে। এ মোলাসেস আখ থেকে চিনি উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় উপজাত হিসেবে উৎপন্ন হয়। অপরিশোধিত ও আংশিক পরিশোধিত চিনিতে প্রায় ৩.৫ শতাংশ মোলাসেস থাকে। তাই একে প্রাকৃতিক চিনিও বলা হয়ে থাকে। সাদা চিনি লাল চিনিকে বেশি পরিশোধিত করে সাদা চিনিতে রূপান্তর করা হয়। যে চিনির রং যত বেশি সাদা, তত বেশি পরিশোধিত, তত কৃত্রিম এবং তত কম পুষ্টিসম্পন্ন।
সাদা ও লাল চিনির পুষ্টিতত্ত্ব স্বাদ ও গন্ধের দিক থেকে লাল চিনি সাদা চিনি অপেক্ষা উন্নত। লাল চিনি দিয়ে তৈরি খাবার সুস্বাদু ও পুষ্টিকর।


লাল চিনির গুণের কথা

লাল চিনির মোলাসেস অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।

এতে বিদ্যমান ফলিক এসিড দেহে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে।

এ চিনি দেহে রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে।

লাল চিনির খাদ্য উপাদান অন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখে এবং ক্ষুধামান্দ্য দূর করে।

এ চিনির উপাদান হজমে সহায়তা করে।

আয়রনসমৃদ্ধ হওয়ায় প্রসব-পরবর্তী সময়ে মায়েদের জন্য উপকারী।

লাল চিনি ত্বক চর্চায় ব্যবহার হয়।
*সর্দিজ্বর হলে লাল চিনি এক কাপ গরম পানির সঙ্গে আদা কুচি ও লাল চিনি মিশিয়ে খেলে
সর্দিজ্বর দ্রুত ভালো হয়।
*ত্বক পরিচর্যায় লাল চিনি লাল চিনি ও দুধ একসঙ্গে মিশিয়ে ফেসিয়াল মাস্ক হিসেবে
ব্যবহার করা যায়।
*প্রতিদিন একবার করে এ মাস্ক ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বকের রোদে পোড়া ভাব দূর হয় এবং
ত্বক উজ্জ্বল হয়।
কতটুকু খাবেন?
একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও মহিলাকে তার সারা দিনের গৃহীত খাদ্যশক্তির ৬-১০ শতাংশ চিনি থেকে গ্রহণ করা উচিত। তবে পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া বেশি চিনি গ্রহণ করা উচিত নয়।