mission71

প্রথম ফ্লাইট সফলভাবে সম্পন্ন করেছে রোলস-রয়েসের বিদ্যুচ্চালিত উড়োজাহাজ। সবমিলিয়ে যুক্তরাজ্যের আকাশে প্রায় ১৫ মিনিট উড়েছে ব্রিটিশ বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতার এই উড়োজাহাজ।

এক আসনের এই উড়োজাহাজে রয়েছে ছয় হাজার সেল ব্যাটারি প্যাক। এর তিন-মোটরের পাওয়ারট্রেইন চারশ’ কিলোওয়াট বিদ্যুৎশক্তি সরবরাহ করতে পারে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে লাইভমিন্ট।

রোলস-রয়েসের দাবি, উড়োজাহাজটি এক পর্যায়ে প্রতি ঘণ্টায় তিনশ’ মাইল গতিতে ছুটতে পারবে। নিজেদের উড়োজাহাজকে ‘স্পিরিট অব ইনোভেশন’ আখ্যা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
রোলস-রয়েস প্রধান ওয়ারেন ইস্ট বলেন, “আমরা এখন প্রযুক্তিগত সাফল্য অর্জনে মনোনিবেশ করেছি যা আকাশ, স্থল এবং জলে ভ্রমণকে ‘ডিকার্বোনাইজ’ করতে এবং কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার পথে অর্থনৈতিক সুযোগের সদ্ব্যবহারে সমাজের প্রয়োজন।”

“এটি শুধু বিশ্ব রেকর্ড ভাঙার ব্যাপার নয়; এ প্রকল্পের জন্য তৈরি উন্নত ব্যাটারি এবং প্রোপালশন প্রযুক্তির ‘আরবান এয়ার মোবিলিটি’ বাজারে আকর্ষণীয় প্রয়োগ রয়েছে এবং এটি ‘জেট জিরো’-কে বাস্তবতায় রূপ দিতে সহায়তা করতে পারে,” যোগ করেন তিনি।

‘স্পিরিট অব ইনোভেশন’ উদ্যোগটি ‘অ্যাক্সেলারেটিং দ্য ইলেকট্রিফিকেশন অফ ফ্লাইট’ (এসিসিইএল) নামের এক প্রকল্পের ফলাফল বলে জানিয়েছে রোলস-রয়েস। এ উদ্যোগের অন্যান্য অংশীদারদের মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রোফ্লাইট এবং মার্সেইডিজ-বেঞ্জের মালিকানাধীন ‘ওয়াইএএসএ’।

আকাশ ভ্রমণ ও কার্গো ফ্লাইট খাতের উচ্চ কার্বন নিঃসরণ সমস্যার সমাধানে এখন বহু আকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুচ্চালিত উড়োজাহাজের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি’র তথ্য অনুসারে, ২০১৯ সালে বিমানচালনা খাতের কার্বন নিঃসরণ এক মেট্রিক গিগাটনে গিয়ে ঠেকেছে। হিসেবে এটি জীবাশ্ম জ্বালানী থেকে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের প্রায় ২.৮ শতাংশ।

উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যের আকাশে প্রথমবারের মতো উড়েছিল হাইড্রোজেন-জ্বালানি সেলের উড়োজাহাজ। ওই উড়োজাহাজে যাত্রী বহনের সক্ষমতাও রয়েছে।