mission71

করোনাভাইরাস বর্তমানে সারা বিশ্বে মারাত্মক আকারে রূপ নিয়েছে। ভয়, আতঙ্কের শেষ নেই। ক্রমেই মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। স্বাভাবিক কাজ-কর্মকে স্থগিত করে তুলেছে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হলে করোনাভাইরাসের কাছে ঘায়েল হতে হবে না। বরং লড়াই করার শক্তি থাকবে। তাই এমন সব খাবার খান যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে।

কালোজিরা

মৃত্যু ছাড়া সব রোগের ওষুধ বলা হয় কালিজিরাকে। স্থুলতা, ক্যান্সার ও হৃদরোগ সব কিছুর বিরুদ্ধেই শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ কালিজিরা। সাধারণ সর্দি-কাশি, নাক বন্ধ, গলা ব্যথা, জ্বর, যেকোনো ধরনের শারীরিক দুর্বলতা কাটাতেও কালিজিরার জুড়ি নেই। কালোজিরের মধ্যে রয়েছে নাইজেলোন, থাইমোকিনোন, লিনোলিক অ্যাসিড, ওলিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম, আয়রণ, জিংক, ম্যাগনেশিয়াম ,ফসফেট, সেলেনিয়াম, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি, ভিটামিন-বি ২, নায়াসিন, ভিটামিন-সি, ফসফরাস, কার্বোহাইড্রেট। নিয়মিত কালোজিরা খেলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সতেজ থাকে। এতে করে যে কোনও জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেহকে প্রস্তুত করে তোলে এবং সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যের উন্নতি করে।

রসুন

ভেষজ বা প্রাকৃতিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে রসুনকে অনেক গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। এটি একটি পেনিসিলিন জাতীয় মসলা। রসুনে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফসফরাস, অ্যালুমিনিয়াম, ক্যালসিয়াম, রিবোফ্লাভিন, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, ক্লোরিন, সেলেনিয়াম, জিংক ও ভিটামিন সি। আর তাই রসুনকে বলা হয় প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক। রসুন অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টিফাংগাল, অ্যান্টিভাইরাল হিসেবে কাজ করে। যা আমাদের শরীরকে বিভিন্ন ধরনের রোগবালাই থেকে মুক্ত রাখে। ডাক্তারি পরীক্ষায় প্রমাণিত এটি উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। রসুন খেলে যৌনতা বৃদ্ধি পায়। যৌন অক্ষমতা থেকে মুক্তি পেতে রসুনের জুড়িমেলা ভার। আয়ূর্বেদ শাস্ত্রমতে, মেয়েদের ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধে রসুন উপকারী।

আদা

আদায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম। আছে যথেষ্ট পরিমাণ আয়রণ, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের মতো খনিজ পদার্থ। এছাড়া সামান্য পরিমাণে আছে জিঙ্ক ও ম্যাঙ্গানিজ। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় আদা থাকলে যে কোনো ধরনের ঠাণ্ডা সংক্রান্ত রোগবালাই, কাশি ও হাঁপানির তীব্রতা কমিয়ে দেয়। রক্তের অনুচক্রিকা এবং হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম ঠিক রাখতেও আদা দারুণ কার্যকর। মুখের রুচি বাড়াতে ও বদহজম রোধে আদা শুকিয়ে খেলে বাড়বে হজম শক্তি। আমাশয়, জন্ডিস, পেট ফাঁপা রোধে আদা চিবিয়ে বা রস করে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

মেথি

মেথি থিয়ামিন, ফলিক এসিড, রিবোফ্লাভিন, নিয়াসিন, ভিটামিন এ, বি৬ , এবং সি তে পরিপূর্ণ। এই ভেষজ নানারকমের প্রয়োজনীয় মিনারেল রয়েছে, যেমন কপার, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রণ, সেলেনিয়াম, জিঙ্ক, ম্যাঙ্গানিজ এবং ম্যাগনেসিয়াম। মেথি গাছের পাতায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে-এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে মেথি চিবিয়ে খেলে বা এক গ্লাস পানিতে মেথি ভিজিয়ে রেখে সেই পানি পান করলে শরীরের রোগ-জীবাণু মরে। ডায়াবেটিসের রোগী থেকে শুরু করে হৃদ্‌রোগের রোগী পর্যন্ত সবাইকে তাঁদের খাবারে মেথি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

আমলকি

আমলকি টক আর তিতা স্বাদের ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি ফল। একজন বয়স্ক লোকের প্রতিদিন ৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’ দরকার। এই পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ দিনে দুটো আমলকি খেলেই এসে যায়। আমলকিতে প্রচুর পরিমাণে এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। বিভিন্ন রোগব্যাধি দূর করা ছাড়াও রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে তুলতেও আমলকি দারুণ সাহায্য করে। সর্দি-কাশি, পেটের পীড়া ও রক্তশূন্যতা দূরীকরণে বেশ ভাল কাজ করে। ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল লেভেলেও কম রাখতে যথেষ্ট সাহায্য করে।

মধু

শরীরের জন্য উপকারী এবং নিয়মিত মধু সেবন করলে অসংখ্য রোগবালাই থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। এটি বৈজ্ঞানিকভাবেই প্রমাণিত। মধুতে প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান থাকে। ফুলের পরাগের মধুতে থাকে ২৫ থেকে ৩৭ শতাংশ গ্লুকোজ, ৩৪ থেকে ৪৩ শতাংশ ফ্রুক্টোজ, ০.৫ থেকে ৩.০ শতাংশ সুক্রোজ এবং ৫ থেকে ১২ শতাংশ মন্টোজ। মধু শরীরের রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়ায় এবং শরীরের ভেতরে এবং বাইরে যে কোনো ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাও যোগান দেয়। যৌন অক্ষমতা দূর করে এবং অটুট যৌবন ধরে রাখে। যৌন অক্ষমতা দূর করার জন্য বিশ্বের প্রখ্যাত মধু বিজ্ঞানীদের মতে দৈনিক পর্যাপ্ত মধুই যথেষ্ট।