mission71

মিশন একাত্তর

সোমবার (৩১ মে) আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে চট্টগ্রাম চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মো. রুহুল আমিন সাংবাদিকদের বলেছেন,চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করা হোক সরকারিভাবে ।বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামে বন্দর থেকে প্রতিদিন চার হাজার কন্টেইনার লোড আনলোডিং কার্যক্রম চলে। যার কারণে রাস্তাঘাটে প্রচুর ট্রাফিক জ্যামের সৃষ্টি হয়। এতে ব্যবসায়ীদের কর্ম সময় নষ্ট হচ্ছে। বে -টার্মিনালের কাজ সম্পন্ন করতে হলে আগে ব্রেক ওয়াটার তৈরি করতে হবে, আশা করছি খুব শীঘ্রই সকল কাজ সম্পন্ন হবে।

দেশের বৃহত্তর স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দরকে স্মোথলি অপারেশনে রাখতে হবে। সরকার পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল বানিয়েছে।

বে টার্মিনালের কাজ চলছে। আমার জানা মতে, বর্তমান বন্দর চেয়ারম্যান আন্তরিকভাবে বে টার্মিনাল বাস্তবায়নে কাজ করছেন। এ টার্মিনালের মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে। এটি অনেক বড় কাজ। বন্দরের নিজস্ব একটি টার্মিনাল থাকবে সেখানে। ফার্স্ট ট্রেকে নিতে হবে।

তিনি বলেন, বন্দরের ভেতর প্রতিদিন ৪ হাজার কনটেইনার ডেলিভারি হয়। এক কনটেইনারে ৩টি ট্রাক ধরলে ১২ হাজার ট্রাক চলাচল করছে। আশপাশে কনটেইনার ডিপো আছে। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বন্দর থেকে কনটেইনার ডেলিভারি বাইরে নিয়ে যাওয়া হোক। তারই অংশ হিসেবে বে টার্মিনাল এলাকায় ডেলিভারি ইয়ার্ড ও ট্রাক টার্মিনাল তৈরি করা হচ্ছে। তিন বছর আগে এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। নগরে যানজট, অচলাবস্থা নিরসনে এ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, সিসিটি, এনসিটি ও মেইন জেটি ২০-৩০ বছর আগে হয়েছে। নতুন জেটি যেগুলো হচ্ছে সেগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয় মাথায় রেখে উঁচু করতে হবে। হেজার্ড ম্যাটেরিয়াল নিয়ে বন্দর কাজ করছে। বন্দর আরও স্ক্যানার কিনবে। পানগাঁওতে স্ক্যানার বসাতে হবে।

ব্যাংকঋণ খেলাপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের সুস্পষ্ট দাবি থাকবে, একটি শিল্পগ্রুপের একটি কারখানা খেলাপি হলে বাকি কারখানা বা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতির মুখে পড়ছে। একদিন দেখা যাবে ওই উদ্যোক্তা দেউলিয়া হয়ে গেছে। বিজনেসম্যানদের সুরক্ষা দিতে হবে। কোনো শিল্পগ্রুপের একটি কারখানা ব্যাংকঋণে খেলাপি হলে যদি অন্য কারখানাগুলো সচল থাকে তাহলে রুগণ কারখানাটিকে সাপোর্ট দিতে পারবে।

আসন্ন জাতীয় বাজেট নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়কালে তিনি এসব কথা উল্লেখ করে বলেন, করোনার প্রভাবে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। করোনার দ্বিতীয় আঘাতে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্থানীয় শিল্প আবারও মুখ থুবড়ে পড়েছে। গেল বছর সরকার কর্তৃক যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছিল এই বছরও যেন সেই পরিমাণ অথবা তার থেকে বেশী প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়।আমরা কর্মী ছাঁটাই করতে চাই না। কখন ছাঁটাই করে, যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়।
আমি একটি প্রডাক্ট আমদানি করলাম। পাইকারি বিক্রি করলাম ডিলারকে। এরপর সাব ডিলারের কাছে গেল। ট্রেডিং বিজনেসে ট্যাক্স বন্ধ করতে হবে। অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স সমন্বয়ের আওতায় আনতে হবে।

ট্রেডিং বিজনেসের উপর পয়েন্ট পাঁচ পার্সেন্ট ট্যাক্স প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে বলেন, প্রতিটি প্রোডাক্ট চার থেকে পাঁচবার হাতবদল হয়। পণ্যের উপর প্রত্যেকবার পয়েন্ট পাঁচ পার্সেন্ট ট্যাক্স দিলে সে পণ্যের দাম এমনিত্ই বৃদ্ধি পায়।

জীবনযাত্রার মান বেড়েছে, মাথাপিছু আয় বেড়েছে স্বাভাবিকভাবে বাজেটের আকার বাড়ছে। আমরা চাই কৃষি ও স্বাস্থ্যখাতে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। অগ্রাধিকার দিতে হবে। কোভিডের সময়ে বিদেশে যাতায়াত সীমিত হয়ে পড়ায় উন্নত দেশের বিজনেস মিটিংগুলো ইউএইতে হচ্ছে। সিঙ্গাপুর থেকে গ্লোবালি বিজনেস নিয়ন্ত্রণ করে। বিদেশে যেসব বাংলাদেশি ব্যবসা করছে বিশেষ করে ইউএইতে তারা দেশ থেকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল নিতে পারছে না। ব্যবসায়ী হিসেবে আমি মনে করি, বাংলাদেশিদের ব্যবসায় মেধা অনেক বেশি। সরকারি সাপোর্ট দিতে হবে, ছাড় দিতে হবে। তার যে ক্যাপিটাল লাগবে তা অ্যাসেসমেন্ট করে নিয়ে যাওয়ার পারমিশন দিতে হবে। আইনকানুনের বেড়াজালে কেউ নিতে পারে না। আমাদের দাবি, যারা বিদেশে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল নিতে চায় তাদের সুযোগ দেওয়া হোক। নির্দিষ্ট সময় পর ওই টাকা দেশে ফেরত আনবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদারনীতি গ্রহণ করা উচিত।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর, মাতারবাড়ীতে সমুদ্রবন্দর, জ্বালানি হাব হচ্ছে। বন্দরের বে টার্মিনাল হচ্ছে, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল হচ্ছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন হচ্ছে। কিন্তু এখনো সরকারিভাবে অফিশিয়ালি চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করা হয়নি। আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করা হোক। চট্টগ্রামের মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে অর্থ সংকট থাকলে বাজেটে বরাদ্দ দিতে হবে।

আমরা যারা বিভিন্ন সেক্টরে ইন্ডাস্ট্রি করেছি অনেক কাঁচামাল আমদানি করি। কমপ্লায়েন্স মেনটেইন করি। কিছু অসৎ ব্যবসায়ী বেনামে কাঁচামাল আমদানি করে প্রোডাক্ট তৈরি করে। এনবিআরের কঠোর নজরদারিতে আনা উচিত। সরকারি দফতরে রেজিস্টার্ড বা বৈধ ব্যাটারি উৎপাদকদের পাশাপাশি অনেকে বিভিন্ন নামে অবৈধ ব্যাটারি বাজারজাত করছে। ইজিবাইকে এ ধরনের নকল ব্যাটারি ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে অনেক বৈধ, নামীদামি ব্যাটারি ইন্ডাস্ট্রি লোকসানে পড়ছে, ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে। শোরুমে অভিযান চালাতে হবে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ সারা দেশে যেসব অঞ্চলে ইজিবাইক চলছে সেখানে ব্যাটারির ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে।