mission71

পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার পত্তাশী ইউনিয়নের পত্তাশী গ্রামের বাসিন্দা জিল্লুর রহমান শান্তি জোমাদ্দার। তিনি প্রথম দুই বিঘা জমিতে কলা চাষ শুরু করেছিলেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বুলবুল, আম্ফানের তাণ্ডবে কলাগাছ নষ্ট হয়ে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন। এরপর তিনি ৭০ শতক জমিতে শুরু করেন ভাঙ্গর জাতের বেগুন চাষ। এখন পর্যন্ত বেগুনের জমিতে খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। জিল্লুর রহমানের আশা বেগুন বিক্রি করে তার ৪ লাখ টাকার বেশি আয় হবে।

জিল্লুর রহমান বলেন, তিনি প্রথম কলা চাষ শুরু করেন দুই বিঘা জমিতে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বুলবুল, আম্পানের কারণে তা শেষ হয়ে যায়। এরপর ইন্দুরকানী উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা ইব্রাহীম সরদারের পরামর্শে বেগুন চাষ শুরু করেছি।

কৃষক জিল্লুর রহমান গোপালগঞ্জ-খুলনা-বাগেরহাট-সাতক্ষীরা-পিরোজপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইন্সটিটিউট, খুলনা (এসআরডিআই) প্রকল্প থেকে সার ও বীজ কেনা বাবদ ১ হাজার ৭০০ টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন। এরপরই তিনি ভাঙ্গর জাতের বেগুন চাষ শুরু করেন। ৭০ শতাংশ জমিতে তিনি প্রায় ৮০০ চারা রোপণ করেছিলেন।

শান্তি জোমাদ্দার বলেন, প্রতি সপ্তাহে জমি থেকে ১০ থেকে ১২ মণ বেগুন উঠছে। বাজারে তা বিক্রি হয় ২৪ হাজার টাকা। খরচ বাদ দিয়ে ২০ হাজার টাকার মতো থাকে। আশা করছি আগামী জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত জমি থেকে বেগুন তুলতে পারবো। এখন আর তেমন খরচ নাই। সবমিলিয়ে ৪ লাখ টাকার বেশি আয় হবে ইনশাআল্লাহ।

উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা ইব্রাহীম সরদার বলেন, সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে প্রতি শতকে ২০০ কেজি বেগুন উত্পাদন করা সম্ভব। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চাষি জিল্লুর রহমান ৭০ শতক জমি থেকে ১৪ মেট্রিক টন বেগুন পাবেন। এগুলো বিক্রি করে তার পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা আয় হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়রা সিদ্দিকা বলেন, মহামারীর আঘাতের পরে আমরা খাদ্য ও পুষ্টির অভাব পূরণে কাজ করছি। সরকারিভাবে আমরা অনেক রকমের প্রণোদনার জোগান দিচ্ছি। চাষিদের সার, বীজ, চারা সহ আর্থিক সহযোগিতা দিচ্ছে সরকার।