mission71

অনলাইনে নিষিদ্ধ ভার্চুয়াল মুদ্রা বিট কয়েন ক্রয় বিক্রয় এবং এর মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করার অপরাধে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আন্দারমানিক এলাকা থেকে এক যুবককে গআটক করেছে র‌্যাব-১। এসময় তার কাছ থেকে ১৯টি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, ২২ সিম কার্ড ও বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আন্দারমানিক এলাকা হতে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত রায়হান হোসেন(২৯) কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আন্দারমনিক পূর্বপাড়া এলাকার আতর আলীর ছেলে।

র‌্যাব-১ এর উপ-অধিনায়ক মেজর গাজী আশিকুর রহমান প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গ্রেফতারকৃত রায়হান দীর্ঘদিন যাবত অনলাইনে ভার্চুয়াল মুদ্রা বিট কয়েন লেনদেন করে আসছিলো। এরই প্রেক্ষিতে বুধবার র‌্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালিয়াকৈর থানার সফিপুর দক্ষিণপাড়াস্থ আতর আলীর ৩য় তলা বাসার নিচ তলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অনলাইনে নিষিদ্ধ মুদ্রা বিট কয়েন ক্রয়-বিক্রয়সহ মানি লন্ডারিং, ক্রেডিট কার্ড হ্যাকিংয়ের মাস্টারমাইন্ড রায়হান হোসেন ওরফে রায়হান গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ১৯টি ভূয়া জাতীয় পরিচয় পত্র, ২২ টি সিমকার্ড, নগদ ২৫ ইউএস ডলারসহ নগদ ১ হাজার ২৭৫ টাকা, একটি কম্পিউটার, ৩টি মোবাইল ফোন, একটি অডি গাড়ী ক্রয়-বিক্রয়ের সনদপত্র, ৩টি ভূয়া চালান বই, একটি ট্রেড লাইসেন্স, একটি টিআইন, বিভিন্ন ব্যাংকের ৪টি চেক বই উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে গত ২০০৬ সালে ব্যক্তিগত আগ্রহে কম্পিউটারের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার পর সে গত ২০১১ সাল হতে ওয়েব সাইট ডেভলপমেন্ট, ডিজাইন ইত্যাদি পরিচালনা করে আসছিল। সে গত ২০২০ সালের জুন মাস হতে পাকিস্তানি নাগরিক জনৈক সাইদের (২২) সহায়তায় সরকার কর্তৃক অননুমোদিত/অবৈধ বিট কয়েন নামক ভার্চুয়াল মুদ্রার মাধ্যমে প্রতারনা করে অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আসছে। সে একই সালের জুন হতে সে পাকিস্তান, নাইজেরিয়া এবং রাশিয়ান স্মাগলার, ক্রেডিট কার্ড হ্যাকার ও অবৈধ বিট কয়েন (ভার্চুয়াল মুদ্রা) এর মাধ্যমে অবৈধ পাচারকারীদের সঙ্গে যোগসাজসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারনা ও জালিয়াতি করে আসছে। সে ক্রেডিট কার্ড হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ভার্চুয়াল মুদ্রা বিট কয়েন ক্রয় করে। আটক রায়হান হোসেন স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার করে নামে-বেনামে দেশী এবং বিদেশী অনলাইন ব্যাংক হিসাব তদারকি করতো। এখন পর্যন্ত ৩৫ হাজার ইউএস ডলার হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছ। সে অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে ৬ মাস পূর্বে ১ কোটি ৭ লাখ টাকা দিয়ে তেজগাঁও গুলশান লিংক রোডের শোরুম হতে অডি গাড়ী ক্রয় করে।তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়া রয়েছে।