mission71

সোমবার (৩১ মে ) দুপুরে আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে আসন্ন জাতীয় বাজেট নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়কালে চট্টগ্রাম চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মো. রুহুল আমিন সাংবাদিকদের বলেছেন,বাজেটে যাতে সকল ব্যবসায়ী সুযোগ-সুবিধা পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাজেটে কৃষি খাত এবং চিকিৎসা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের দেশে ব্যবসায়ীদের মেধা অন্যান্য দেশের ব্যবসায়ীদের তুলনায় অনেক আপডেটেড। যারা বিদেশে ব্যবসা করতে চায় তাদের জন্য কিছু ছাড়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে তারা অন্য দেশে বৈধভাবে ব্যবসা করে দেশের উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

আসন্ন জাতীয় বাজেট নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়কালে তিনি এসব কথা উল্লেখ করে বলেন, করোনার প্রভাবে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। করোনার দ্বিতীয় আঘাতে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্থানীয় শিল্প আবারও মুখ থুবড়ে পড়েছে। গেল বছর সরকার কর্তৃক যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছিল এই বছরও যেন সেই পরিমাণ অথবা তার থেকে বেশী প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়।আমরা কর্মী ছাঁটাই করতে চাই না। কখন ছাঁটাই করে, যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়।
আমি একটি প্রডাক্ট আমদানি করলাম। পাইকারি বিক্রি করলাম ডিলারকে। এরপর সাব ডিলারের কাছে গেল। ট্রেডিং বিজনেসে ট্যাক্স বন্ধ করতে হবে। অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স সমন্বয়ের আওতায় আনতে হবে।

ট্রেডিং বিজনেসের উপর পয়েন্ট পাঁচ পার্সেন্ট ট্যাক্স প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে বলেন, প্রতিটি প্রোডাক্ট চার থেকে পাঁচবার হাতবদল হয়। পণ্যের উপর প্রত্যেকবার পয়েন্ট পাঁচ পার্সেন্ট ট্যাক্স দিলে সে পণ্যের দাম এমনিত্ই বৃদ্ধি পায়।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামে বন্দর থেকে প্রতিদিন চার হাজার কন্টেইনার লোড আনলোডিং কার্যক্রম চলে। যার কারণে রাস্তাঘাটে প্রচুর ট্রাফিক জ্যামের সৃষ্টি হয়। এতে ব্যবসায়ীদের কর্ম সময় নষ্ট হচ্ছে। বে -টার্মিনালের কাজ সম্পন্ন করতে হলে আগে ব্রেক ওয়াটার তৈরি করতে হবে, আশা করছি খুব শীঘ্রই সকল কাজ সম্পন্ন হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন , সময়ের সাথে সবকিছুই পরিবর্তন করতে হয়। ক্লাইমেট এর উপর নির্ভর করে অনেক কিছুই পরিবর্তন করতে হয়। জেটি যেগুলো নতুনভাবে তৈরি করা হবে সেগুলো যাতে দুর্যোগের কথা মাথা রেখেই তৈরি করা হয়।

তরফদার মো. রুহুল আমিন আরোও বলেন,দেশের বৃহত্তর স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দরকে স্মোথলি অপারেশনে রাখতে হবে। সরকার পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল বানিয়েছে।

বে টার্মিনালের কাজ চলছে। আমার জানা মতে, বর্তমান বন্দর চেয়ারম্যান আন্তরিকভাবে বে টার্মিনাল বাস্তবায়নে কাজ করছেন। এ টার্মিনালের মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে। এটি অনেক বড় কাজ। বন্দরের নিজস্ব একটি টার্মিনাল থাকবে সেখানে। ফার্স্ট ট্রেকে নিতে হবে।

তিনি বলেন, বন্দরের ভেতর প্রতিদিন ৪ হাজার কনটেইনার ডেলিভারি হয়। এক কনটেইনারে ৩টি ট্রাক ধরলে ১২ হাজার ট্রাক চলাচল করছে। আশপাশে কনটেইনার ডিপো আছে। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বন্দর থেকে কনটেইনার ডেলিভারি বাইরে নিয়ে যাওয়া হোক। তারই অংশ হিসেবে বে টার্মিনাল এলাকায় ডেলিভারি ইয়ার্ড ও ট্রাক টার্মিনাল তৈরি করা হচ্ছে। তিন বছর আগে এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। নগরে যানজট, অচলাবস্থা নিরসনে এ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।