mission71

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য প্রবাসী বাংলাদেশী ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেশ কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে। এগুলোর মধ্যে আছে- পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, একটি উল্লেখযোগ্য যুবক শ্রেণী, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শক্ত আর্থিক অবস্থা। এর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিয়ে কারো কারো মধ্যে বিভ্রান্তি বা অস্পষ্ট ধারণা থাকতে পারে। বাস্তবে এখানে বিনিয়োগ অনেক নিরাপদ। এখানে খুব সহজে বিনিয়োগ করা যায়। একইভাবে বিনিয়োগ ফেরতও পাওয়া যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় না। এছাড়া বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিনিয়োগবান্ধব। তারা বিনিয়োগের নিরাপত্তা দিতে বদ্ধপরিকর।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) আরব আমিরাতের দু্বাইয়ে অনুষ্ঠিত ‘দ্যা রাইজ অব বেঙ্গল টাইগার: বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের সম্ভাবনা’ শীর্ষক রোড-শোর তৃতীয় দিনের সেমিনারে সভাপতির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।

ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজের আয়োজিত এই রোড শো’র আজকের সেমনারের শিরোনাম ছিল, বাংলাদেশে প্রাইভেট ইক্যুইটি ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগের সুযোগ’।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন দুবাই ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অথরিটির প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান স্টায়ারওয়াল্ট। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড প্রাইভেট ইক্যুইটি অব বাংলাদেশ (ভিসিপিইএবি) এর সভাপতি শামীম আহসান। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন ইউসিবি ক্যাপিটালের সিইও এসএম রাশিদুল হাসান।

সেমিনারে তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান উপস্থিত থেকে প্রবাসী বাংলাদেশী ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদেরকে বাংলাদেশেবিনিয়োগের আহ্বান জানান।

সেমিনারেও বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে অনেক স্টার্টআপ কোম্পানি গড়ে উঠেছে। যেগুলো এখন মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য সবাইকে আহবান করেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুবাই ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অথোরিটির প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান স্টায়ারওয়াল্ট বলেন, করোনা মহামারি বিশ্বকে বিপর্যস্ত করেছে। তবে এর সুফলও রয়েছে। বিশ্বব্যাপি প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক বেড়েছে। তিনি বলেন, আরব আমিরাত ও বাংলাদেশ বন্ধু রাষ্ট্র। দুই দেশেরই চলতি বছর সুবর্ণজয়ন্তী সামনে। বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেক সম্ভাবনাময়। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রযুক্তিতে বিশেষ নজর দিতে হবে। একইসঙ্গে যৌথভাবে বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শামীম আহসান বলেন, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও প্রাইভেট ইক্যুইটি নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ নিয়ে আসছে এবং উদ্ভাবনী উদ্যোক্তাদের বড় ধরনের রিটার্নের সুযোগ দিচ্ছে। বাংলাদেশের ই-কমার্স মার্কেট প্রতিদিনই বড় হচ্ছে। বর্তমান মার্কেট ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের। অনলাইনভিত্তিক প্লাটফর্মে নতুন নতুন ক্রেতা তৈরি হচ্ছে। আসছে নতুন বিনিয়োগ। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো জোর দিচ্ছে অনলাইন কেনাকাটার ওপর। চলমান মহামারি করোনায় অনলাইনে কেনাকাটার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। তাই আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে ই-কমার্স মার্কেট ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে। আর তাই ভেঞ্চার ক্যাপিটালে বিদেশিদের বিনিয়োগের বড় সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএসইসির কমিশনার কামালুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুল আলম, অর্থমন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নাহিদ হোসাইন, সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার, এনআরবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. মাহতাবুর রহমান, এনআরবিসি ব্যাংকের পরিচালক আদনান ইমাম, বিএমবিএ সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমান, এলআর গ্লোবাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের চীফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসার রিয়াজ ইসলাম, আইল্যান্ড সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, ইউসিবি স্টক অ্যান্ড ব্রোকারেজের সিইও মোহাম্মদ রহমত পাশা প্রমূখ।

গত মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এই রোড শো শুরু হয়েছে। আগামীকাল এটি শেষ হবে। কালকের কর্মসূচির মধ্যে আছে একাধিক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠক এবং ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজের ডিজিটাল বুথ উদ্বোধন।