mission71

মিশন একাত্তর

যারা এক এবং দুই নাম্বার পোস্ট পড়েছেন, আশাকরি এই পোস্ট টার অপেক্ষায় ছিলেন। তো চলে এলাম আবার সিরিজের তৃতীয় পোস্ট নিয়ে যেখানে আমরা বলবো গবেষণার অভাব তথা স্টাডি কিংবা রিসার্চ নিয়ে। তো চলুন শুরু করি।
এরি মধ্যে প্রিন্স ভাই বা হয়তো আরও অনেকেই রিসার্চ নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট দিয়েছেন। আপনারা জেনেছেন যে ব্যাপার টা কতোটা জরুরি। তার পরেও যাদের পুরু মগজের চামড়া ভেদ করে ব্যপারটা ভেতরে ঢোকেনি, তাদের মগজভদী তাবিজ আমি এই মন্ত্র ফুকে আজকে আপনাদের সামনে পোস্ট করছি। 🙂
ঠিক যেখান থেকে আপনি আমার আজকের এই পোস্টটা পড়ছেন, সেই জায়গাটা অনেক উঁচু একটা জায়গা। এমনকি আপনি নিজেও তা জানেন না। উঁচু জায়গা বলতে আমি মিন করেছি সাধারণ মানুষের থেকে সব দিক থেকেই উঁচু আর তা সম্মান, দক্ষতা আর শ্রম সব মিলিয়েই তা আপনি যাই বলুন কেউ ফ্রিল্যান্সারদের সম্মান করতে চাক আর না চাক, তাতে আমার কিচ্ছু আসে যায় না ভাই। 🙂
তবে আপনাদের বলি, ফ্রিল্যান্সিং আসলে গুটি কয়েক ভিডিও দেখে, এখানে ওখানে বর্ণালী ছবি টবি পোস্ট করে বিদেশি বায়ার থেকে এই পাঁচ দশ ডলার বাগিয়ে নেয়াকে বলেনা কোন ভাবেই। আপনি আজ শুরু করলেও এটা একটা এন্ডলেস বিজনেস যেখানে আপনাকে প্রতিটা ঘন্টা থাকতে হবে প্রফেশনাল শুধু তাই না, আপনার চিন্তা চেতনার মধ্যেও আনতে হবে প্রফেশনালিজম।
আশা করি সবাই জব এবং বিজনেস এর মধ্যে মুল তফাৎ গুলি জানেন। অন্তত এটুকু তো দেখেছেন যে যেকোন ব্যবসায় কেউ গেলে অন্তত আগে ৫-১০ বছর জব করে তার পরে যে নিজের কিছু শুরু করছে যেখানে আমরা ফ্রিল্যান্সার রা ২ দিনের কোর্স করে মুখ উঠিয়ে চলে আসছি এই বিজনেসে আর এখানে ব্যবসার স্ট্রাটেজিক ৯০% জিনিস ই অজানা যা কিনা আমাদের অধিকাংশ এখানে ওখানে ব্যঙ্গের ছাতার মতো গড়ে ওঠা কোচিং সেন্টার গুলিতে শেখানো হয়না কোন দিনি কারণ এটা এক দিনে শেখার ব্যপার নয়।
তো বুঝতেই পারছেন, ফ্রিল্যান্সিং এ হয়তো আপনি এখন টুক টাক ইমেজ এডিট করতে পারেন, কিংবা ওয়ার্ডপ্রেস বা সিমিলার সিস্টেম থাকার ফলে আপনি বানিয়ে ফেলতে পারেন সহজ একটা ওয়েবসাইট যা মাসে কিছু ডলার উপার্জনের জন্য যথেষ্ট হলেও একজন ব্যবসায়ী হিসেবে আপনার জ্ঞ্যান কিন্তু একেবারেই শুন্য। আর সেখানে এই স্টাডি বা রিসার্চটা অনেকের কাছেই নতুন নাম ই বটে।
আসুন অল্প কথায় আমার ভাষায় জেনে নেই রিসার্চ জিনিস টা আসলে কি? রিসার্চ মানে ঘাঁটাঘাঁটি। অনেক ধরণের ঘাঁটাঘাঁটি ই করা হয় এখানে, কিন্তু আমি বলি ফ্রিল্যান্সিং এরটা। এখানে আপনি ঘাটবেন আপনি যা করছেন, তা আদৌ কি ডিমান্ডফুল কিনা। যা করছেন তা কি আসলেই আপ টু দ্যা মার্ক করছেন কিনা? যা করছেন তা অন্যদের কম্পিট করার মতো ষ্ট্যাণ্ডার্ড কিনা। এর পরে আসে আপনি কি করছেন আর অন্যরা কি করছেন। কার টা ভালো? সেটাকে আরও বেটার ভাবে আপনি কি উপায়ে রিপ্রেসেন্ট করতে পারেন? কোন দেশে কোন কাজের ডিমান্ড বেশি হচ্ছে! ইকনমি কোন দিকে যাচ্ছে! কোথায় কি ইভেন্ট হচ্ছে, কি কি স্পেশাল ডে আছে আগামী বছরে? জানতে হবে কোন দেশের জন্য আপনি কখন জেগে থাকবেন আর ঘুমাবেন? কিভাবে আপনার কাজ টাই আরও ইজিলি কেউ কিভাবে প্রভাইড করছে কিন্তু আপনি হয়তো পারছেন না! আপনার কাজের প্রগ্রেস হচ্ছে কিনা, নতুন কি রিলিজ হল যা আপনার অজানা। কাজের ক্ষেত্রে কি কি আপডেট এলো যা আপনি এখনো এডপ্ট করেননি ইত্যাদি। আর বুকে চিন চিন ব্যাথা করার মতো বিষয় হল এটা একটা কন্টিনিউয়াস প্রসেস যা আপনাকে সারা দিন এমন কি সারা জীবন করেযেতে হবে।
সো, এই রিসার্চ টা যদি আপনি ভালো করে করতে না পারেন, তবে আপনাকে তুলনা করা যেতে পারে একজন অন্ধ ফুটবলার এর সাথে। সেরা ফুটবলার হয়েও যদি আপনি চোখে না দেখেন, তো গোল সেটা আপনার কপালে যে জুটবেনা, তা মাইকিং করে বলে বেড়ানোর কিছু কিন্তু নেই। সবাই বুঝতে পারবে তবে এই আপনি যদি তা বুঝতে না পারেন, তবে সত্যি ভাই, আপনার মগজের চামড়া অনেক মোটা। দিমাগ কি বাত্তি জ্বালাতে হবে আর আমাদের নিজেদের সব কিছু সাথে বাকিদের সব কিছু নিয়েই করতে হবে রিসার্চ।
এটা আমাদের অভ্যাসে নেই কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং তথা যে কোন ব্যবসায় এই জিনিসের কোন বিকল্প নেই! আর এই রিসার্চ করার জন্য আপনাকে ইন্টারন্যাশনাল রিসারচার হতে হবে না, না আপনাকে গুগল এনালাইটিক্স তথা এসিও তে করে আসতে হবে গন্ডায় গন্ডায় কোর্স (তবে দক্ষ হতে আমি দোষের কিছু কিন্তু দেখিনা একেবারেই তবে তা অবশ্যই একটা দীর্ঘ পথ যা এক দিনে পাড়ি দেয়া সম্ভব নয় কখনই)

লেখক:সুলতান নীর