mission71

মিশন একাত্তর

যেখানে ইলিক বাতি ঝিলিক বাতি পিসি সেটাপ ছবি দেখে দেখে আপনারা অভ্যস্ত, সেখানে এই তার মার দিয়ে সারা ট্রাইপডের বক্স দুইটার ওপর রাখা মনিটর দেখতে আই প্লিজিং লাগবে না কারো তা আর বলার অবকাশ রাখে না। এখন প্রশ্ন কেন এই কাজ টা করা যেখানে টেবিলে রেখেই ইজিলি কাজ করা যায়?
এবার আসি মূল কথায়! দুইটা ট্রাইপড এর বক্স জোড়া দিয়ে এক ৮-১০ ইঞ্চি ওপরে মনিটর রাখার কারণ শুধু আমার এই কমবখত ঘাড় টাকে ওপরের দিকে সোজা তুলে রেখে কাজ করা! এমন কি অনেকে বলবেন টেবিলে থাকলেও তো ঘাড় সজাই থাকে। এতো কিছুর কি দরকার! কিন্তু আপনি খেয়াল করে দেখবেন কাজ করতে করতে আপনার ঘাড় কিছুটা হোলেও নিচে ঝুকে থাকে আর যার পরিনাম ভয়াবহ!
মজার ব্যাপার হল, আপনার মাথা শুধু মাত্র ১৫ ডিগ্রি ঝুকিয়ে কাজ করলে আপনার ঘাড়ে ১২ কেজি প্রেশার পরে!! কি হা হয়ে গেলো চোয়াল? এই প্রেশার ৩০ ডিগ্রির জন্য হয়ে যায় ১৮ কেজি! ভাবতে পারেন ঘাড়ে এই পরিমান বা এর থেকেও বেশি ওজন নিয়ে আমরা কাজ করছি দিনের পর দিন! আর তা পারছি আমরা মানুষ বলেই। কিংবা হতে পারে ইয়াং তাই ব্যাপার টা এখন কারোই গায়ে লাগছে না কারণ আল্লাহর দেয়া এই শরীর খয় হতে সময় লাগে! তবে আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি এই রকম চলতে থাকলে আগামী ৪-৭ বছরে Shutter হরর মুভির মতো জলজ্যান্ত এক অদৃশ্য ভুতনী সব সময় ঘাড়ে চড়ে বসে থাকবে আর ব্যাথায় ঘাড় নাড়াতে পারবেন না। সেখানে খাটবে না কোন ডাক্তারি বা জাদুকরী বিদ্যা। (Shutter মুভিটা ২০০৮ এ মুক্তি পায়। হরর মুভি লাভার রা দেখতে পারেন। বেশ লেগেছিল আমার মুভিটা)
সেইম কাহিনী ঘটতে পারে আপনার পিঠের মাঝের বা নিচের অংশে! অক্টোপাসের মতো আঁকড়ে ধরবে ব্যাথা যা কিনা যে কোন ব্রেকাপ পেইনের থেকেও কয়েক হাজার গুন বেশি! এগুলি কেউ বলে না দুইটা কারণে, এক যারা কোর্স করান তাদের দরকার টাকা। এই কথা বললে অনেকেই কোর্স না করে ভেগে যেতে পারেন ফ্রিল্যান্সিং কে বিদায় জানিয়ে, আর আরেকটা কারণ কেউ স্বীকার করতে চান না যে তাঁরা প্রতিনিয়ত অনিওমের কারণে এখন এই রোগে আক্রান্ত। নিজের দুর্বলতা অন্য কেউ কেন, আমি নিজেও হয়তো স্বীকার করতে চাইবনা আর এটাই মানব প্রবৃত্তি। কিন্তু ভালো লাগার কথা হচ্ছে ইয়াং বয়সে ইচ্ছে করলেই কিছু নিয়ম নীতি মেনে চলে কাজ করলেই আপনি এভয়েড করতে পারবেন এই ঘাড়ে চড়া ভুতের। সারা দিন রাত কাজ করলেও কোন প্রবলেম ই হবে না। আসুন আমরা নিয়ম গুলি একটু জেনে নেই
প্রবলেম হচ্ছে কম বয়সে টানা অনিয়ম করে কাজ করলেও এতটুকু টের পাবেন না আপনার শরীর খয়ে যাচ্ছে দিনকেদিন। আর তাই সচেতন হওয়ার কোন প্রবণতা দেখা যায়না! কিন্তু যখন বুঝতে পারেন তখন আর করার তেমন কিছুই থাকে না। তাই ইয়াং আর নতুন ফ্রিল্যান্সার দের বলবো নিচের খুব সাধারণ নিয়ম গুলি মেনে চলার।
১। বসার জন্য পিঠে ভালো সাপোর্ট পাওয়া যায় এমন চেয়ার ইউস করুন। পিঠের যে শেপ কার্ভ টাইপ শেইপ টা যেন মেইন্টেইন্ড থাকে সেটা খেয়াল রাখতে হবে। সেটা যেন সোজা না হয়ে যায়।
২। যেটা বললাম ঘাড় সোজা রাখতে হবে। মনিটর চোখ থেকে একটু ওপরে রাখার ট্রাই করেন। বা চেয়ার নামিয়ে নিয়ে অ্যাডজাস্ট করে নিন।
৩। দুই কাধ যেন কাজের সময় বা টাইপের সময় বেকে না যায় তা খেয়াল রাখবেন। মানে বুক টান টান করে কাজ করতে হবে। বাম ও ডান কাধ বেকে রাউন্ড হয়ে সামনের দিকে চলে আসা যাবে না।
৪। প্রতি দুই ঘন্টা পর পর ১০ মিনিটের ব্রেক নিতে হবে। এই সময় কোমরের বেয়াম করতে হবে! ইউটিউবে অনেক রিল্যান্সিং প্লাস বসে থেকে কাজ করা মানুষদের জন্য অনেক এক্সারসাইস রয়েছে! নেক পেইন, থোরাসিক ব্যাক পেইন, সল্ডার পেইন লিখে সার্চ দিলেই অনেক ভিডিও পেয়ে যাবেন। সেগুলি ট্রাই করেন। আমি নিজেও কিছু ভিডিও করে দেবো সামনের উইন্টারে!
৫। প্রচুর পানি পান করুন।
৬। ট্রাই করুন প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার স্পীড নিয়ে হাটাহাটি করতে (অবশ্যই করোনার মধ্যে নয়, কিংবা উপযুক্ত সেইফটি মেইন্টেইন করে)।
৭। বেসিক শারীরিক বেয়াম গুলি করুন।
৮। চোখ থেকে স্ক্রিন এর দূরত্ব ২০ ইঞ্চির বেশি রাখুন।
৯। যাদের ল্যাপটপ রয়েছে তাঁরা ট্রাই করুন কাজের বাইরে টুক টাক রিসার্চ, ভিডিও দেখা, শেখা বা টাইপ করা ইত্যাদি সেকেন্ডারি কাজ দাঁড়িয়ে করতে তবে অবশ্যই ঘাড় সোজা রেখে। চাইলে উঁচু কোন জায়গায় যেমন ওয়ারড্রভ বা এমন কিছুর ওপরে রেখে করতে পারেন। কিংবা চাইলে টেবিলের ওপরে কার্টুন (বক্স) রেখেও কাজ করতে পারেন।
১০। প্রাত্তাহিক জীবনের কাম কাজ করুন। শুধু বসে বসে কাজ করলে শরীরের কর্মক্ষমতা কমে যায়। তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন কাজে আলসেমি তো আসেই প্লাস একটু কাজ করলেই হাপিয়ে উঠবেন। কাজেই যারা গ্রামে থাকেন তাঁরা মাঝে মধ্যে বাইরের কাজ গুলি করেন। খেতে খামাড়ে কাজ করেন। সাইকেল চালান। বাজার করেন। বাসার কাজ করেন, বন্ধুদের সাথে টুর দেন! এগুলি ভিশন দরকার শরীর কে ধরে রাখার জন্য।
এই বেসিক ১০ টা কাজ আপাদত মেনে চলেন! এগুলি আপনার ফ্রিল্যান্সিং এর থেকেও অনেক অনেক বেশি দরকারি। কারণ যদি আপনি পিসিতে বসতেই না পারেন, তাহলে কাজ করবেন কি ভাবে? কাজেই ট্রাই করেন নিয়ম গুলি মেনে চলার! সবাই বলে কিভাবে টাকা কামাতে হয়, কিন্তু কিভাবে তা আজীবন ধরে রাখতে হয় সেই কথা কেউ বলে না! একটা সময় হিউজ স্কিলস হয়েও হয়তো দেখবেন কাজের ক্ষমতা আর আপনার নেই

লেখক:

freelancer Sultan Neer