mission71

আমাদের শরীরে বিভিন্ন রকম অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থাকে। এই গ্রন্থিগুলো থেকে রস বের হয়। হরমোন এক প্রকার তরল বা রস, যা শরীরের এক জায়গা থেকে নিঃসৃত হয়ে সারা শরীরে কাজ করে। এ প্রাণরস মানব শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করে। শরীরের স্বাভাবিক কার্যাবলী ঠিক রাখতে হরমোন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হরমোনের সঠিক সরবরাহ বজায় রাখতে শরীরের সকল গ্রন্থি সমানতালে মিলিয়ে কাজ করে। ইনসুলিন, ইস্ট্রোজেন, ডোপামিন, এফএসএইচ, টিএসএইচ ইত্যাদি জৈবিক রাসায়নিক উপাদান মানসিক অবস্থা, চুলের বৃদ্ধি, ওজন, প্রজনন ক্ষমতা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে। প্রাকৃতিক উপায়েও হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করতে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন করতে হয়:

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস:
স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে তার প্রভাব শরীরে চোখে পড়বেই আর অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শরীরের বিভিন্ন গ্রন্থি। তাই গ্রন্থিগুলোর সক্রিয়তা যাতে অতিরিক্ত বা অতি সামান্য না হয় সেজন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদানের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। খেতে হবে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ভোজ্য আঁশ আর কমাতে হবে কার্বোহাইড্রেট এবং চিনির পরিমাণ। সেই সঙ্গে হরমোনের উৎপাদন বাড়াতে চাই স্বাস্থ্যকর চর্বি।
তবে ‘ক্যাফেইন’ ও দুগ্ধজাত খাবার অতিরিক্ত গ্রহণ করলে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে। আর ‘গ্রিন টি’ শরীরে ‘অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট’ সরবরাহের মাধ্যমে ‘ঘ্রেলিন’, ‘ইন্সুলিন’য়ের মাত্রা কমায় এবং শরীরে ‘কর্টিসল’ হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

পরিমাণমতো খাওয়া:

শরীরের চাহিদার তুলনায় কম কিংবা বেশি খাবার খাওয়ার কারণেও হরমোনে ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হল অতিরিক্ত খাওয়া কিংবা অতিসামান্য খাওয়ার কারণে ‘ইন্সুলিন’য়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়া, ‘কর্টিসল’য়ের উৎপাদন বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি। যা শরীরের বিপাকক্রিয়ার উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। আর তাই লিঙ্গ, বয়স এবং স্বাস্থ্য বিবেচনা করে ক্যালরি গ্রহণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

নিয়মিত শরীরচর্চা:

ব্যায়াম করলে শুধু শরীর গঠনই হয় না সঙ্গে হরমোনের ভারসাম্যও বজায় থাকে। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের মধ্যে থাকলে শরীর সুঠাম হওয়ার পাশাপাশি ঝরবে বাড়তি চর্বি, উৎপাদন বাড়বে প্রদাহরোধক হরমোনের এবং ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা বাড়বে। এছাড়াও অ্যারোবিকস, স্ট্রেংথ ট্রেইনিং, এন্ডুরেন্স ট্রেইনিং ইত্যাদি হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর।

মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকা ​:

ব্যস্ত জীবনযাত্রা, সময়ের সামঞ্জস্যতার অভাব ইত্যাদি মানসিক চাপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। আর শরীর যখন চাপে থাকে তখন হরমোনের উৎপাদন প্রক্রিয়াও শৃঙ্খলা হারায়। ‘কর্টিসল’ এবং ‘অ্যাড্রেনালিন’ হল জরুরি পরিস্থিতিতে শরীরকে মোকাবিলা করার শক্তি সরবরাহকারী দুটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন। মানসিক অশান্তিতে থাকলে তাদের ভারসাম্যও নষ্ট হয় যা সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য ধ্বংসাত্বক হতে পারে। ধ্যান, যোগ ব্যায়াম, অ্যারোমাথেরাপি হরমোনের লাগাম টেনে রাখতে সহায়ক হবে।

পর্যাপ্ত ঘুম:

ঘুমের অভাব থাকলে মেজাজ খারাপ থাকে, তার পেছনে একটি বড় কারণ হরমোনজনীত সমস্যা। ঘুমানোর সময় শরীর তার বিষাক্ত উপাদান অপসারণ করার সুযোগ পায়, পরের দিনের জন্য শক্তি সঞ্চয় করে। আর ঘুম পর্যাপ্ত না হলে সবকাজই অসম্পুর্ণ থেকে যায়।