পুতিনের সেই বান্ধবীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পারিবারিক বন্ধুমহলকে নিশানা করে নতুন দফায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ব্রিটেন। যাদের মধ্যে পুতিনের মেয়েবন্ধু, বাল্যবন্ধু, সাবেক স্ত্রী, আপন চাচাতো ভাই রয়েছেন।ওয়াশিংটন পোস্টের খবর বলছে, রুশ প্রেসিডেন্টের মেয়েবন্ধু সাবেক জিমনিস্ট আলিনা কাবাইভাকেও সাজা দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি ১২ জনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তাদের অধিকাংশই পুতিনের স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব। রুশ নেতার বিপুল অর্থ লুকিয়ে রাখতে ও খরচে সহায়তা করছেন তারা।

৩৯ বছর বয়সী আলিনা কাবাইভাকে শাস্তি দেওয়া প্রথম দেশ ব্রিটেন। রিদমিক জিমন্যাস্টিকসে অলিম্পিকজয়ী এই নারী ভোগ সাময়িকীর রুশ সংস্করণের প্রচ্ছদ মডেল হয়েছিলেন। বর্তমানে পুতিনের বয়স ৬৯ বছর।

রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত মালিকানাধীন মিডিয়া গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান হিসেবে মানুষের চোখে পড়েন আলিনা। এসব আউটলেটে যুদ্ধের পক্ষে প্রপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে বলে পাশ্চাত্যের সংবাদমাধ্যমের অভিযোগ।

এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, পুতিনের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্টের ইউনাইটেড রাশিয়ার হয়ে দুমায় ডেপুটির দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।

পশ্চিমাদের অভিযোগ, পুতিনের এসব বন্ধু ও পরিবার সদস্যদের এমন সব পদে বসানো হয়েছে, যেগুলোর তারা যোগ্য না। ছায়ায় লুকিয়ে থেকে অর্থের বিনিময়ে তারা পুতিনকে সহযোগিতা করেন।

এরআগে পুতিন ও আলিনার মধ্যে রোমান্টিক সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছে ক্রেমলিন। দুজনের সম্পর্ক নিয়ে ২০০৮ সালে সংবাদ প্রকাশ করে রাশিয়ার একটি সংবাদমাধ্যম। পরবর্তী সময়ে রহস্যজনকভাবে পত্রিকাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

খবরে বলা হয়, তার গর্ভে পুতিনের কয়েকটি সন্তানের জন্ম হয়েছে। পুতিনের সঙ্গে রোমান্টিক সম্পর্কে জড়ানোর পর অ্যাথলেটিক ক্যারিয়ারের ইতি টানেন আলিনা। পুতিনের ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়ার পার্টির একজন আইনপ্রণেতাও হন তিনি।

২০১৪ সালের সোচি শীতকালীন অলিম্পিকের ছয় মশাল বহনকারীর একজন ছিলেন আলিনা। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুসারে, আলিনার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনেও বিতর্ক হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাকে শাস্তি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আলিনার সঙ্গে সম্পর্কের কথা পুতিন কখনোই স্বীকার করেননি। কিন্তু ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছেন ব্রিটিশ কর্মকর্তারা।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Articles