mission71

গেরুয়া শিবিরের অনেক আশা ছিল এবার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসবে বিজেপি। শুধু বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতারাই নন, গোটা সঙ্ঘ পরিবার অনেকটাই নিশ্চিত ছিল জয় নিয়ে। অনেক হিসেব নিকেশ, অনেক পরিকল্পনা করা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত ফলের কাছাকাছিও যেতে পারেনি উগ্রবাদী সাম্প্রদায়িক এ দলটি। ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পরে কেন এমন হলো, তা নিয়ে দলের অন্দরে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।

বিবিসির খবর ও বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বিজেপির হারের একটি কারণ ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। যার কারণে হঠাৎ মৃত্যু ও সংক্রমণ—দুটিই বেড়েছে। আর মোদী ব্যস্ত ছিলেন চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভার নির্বাচন নিয়ে; বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিয়ে।

বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে মোদীর দল কতটা ব্যস্ত ছিল, তার প্রমাণ মাসখানেকের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে মোদী গিয়েছেন ১৫ বার। আর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গ সফর করেছেন ৬২ বার। এখানেই শেষ নয়; এই নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১৫ দিন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা–মন্ত্রীরা পশ্চিমবঙ্গ সফর করেছেন।

বিবিসির খবর, পশ্চিমবঙ্গে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছে বিজেপি। কিন্তু অনেকটা হেসেখেলে এই নির্বাচনে জিতেছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস। মোদীর কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত এই মমতা।

পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও নির্বাচন হয়েছে আসাম, তামিলনাড়ু ও কেরালা রাজ্যে এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পদুচেরিতে। আসামে জিতেছে বিজেপি, এবং সেটাই ছিল স্বাভাবিক। তবে অন্য কোথাও বড় কোনো সাফল্য নেই বিজেপির।

বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারের সম্মুখভাগে ছিলেন মোদী। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে তিনি ভোট চেয়েছেন। এ ছাড়া নিজের দাড়ি বড় করেছেন। তার সমর্থকেরা তাকে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। কিন্তু দিন শেষে জিততে পারল না বিজেপি।

করোনা মহামারি ও ভোটের চিত্রটা সমান্তরালে দেখলে দেখা যাবে, হাসপাতালে শয্যা ও অক্সিজেনের সংকটে মানুষ হাহাকার করছেন। মোদী বারংবার পশ্চিমবঙ্গ সফর করছেন। বড় বড় সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন। বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। সেইসঙ্গে ব্যর্থ হলেন নির্বাচনেও।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ব্যর্থতার পেছনে মমতার দুয়ারে সরকার কর্মসূচি, বিজেপি-বিরোধী ভোট এককাট্টা হওয়া, মমতার ব্যক্তিগত ক্যারিশমা ও প্রশান্ত কিশোর ফ্যাক্টরকেও সামনে আনছেন অনেকেই।