mission71

জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সহযোগিতায় প্রায় ২২ বছর পর নেপালে থাকা আমেনা খাতুন (৮০) তার পরিবারের কাছে ফিরলেন। আমেনা খাতুনের সন্তানরাও তার মাকে ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা। গত ২২ বছর ধরে সন্তানরা বিশ্বাস করতো তাদের মা আর বেঁচে নেই। মা বেঁচে নেই ভেবে জাতীয় পরিচয়পত্রে মায়ের নাম মৃত বলে লিখেছেন।

সোমবার ঢাকা বিমানবন্দরে সরকারিভাবে নেপাল থেকে দেশে ফেরার পর দুই দেশের নিয়ম পালন শেষে আমেনা বেগমকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেয়। আমেনা বেগম তার সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের চিনতে পারছেন। বয়স বাড়লেও তিনি চিনতে পারছেন। আমেনা বেগম এখনো বাংলায় কথা বলেন। সোমবার ঢাকায় সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বগুড়ার ধুনট উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের মাঝবাড়ি গ্রামে ফিরছেন। সেই গ্রামে আমেনা খাতুনের সকল আত্মীয়স্বজন অপেক্ষা করছে।

জানা যায়, ধুনট উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের মাঝবাড়ি গ্রামের আজগর আলী প্রামানিকের স্ত্রী আমেনা খাতুন। তাদের সংসারে আমজাদ হোসেন, ফটিক মিয়া, ফরিদ মিয়া এবং আম্বিয়া নামের চার সন্তান। প্রথম তিন ছেলে সন্তানের জন্ম হওয়ার পর আমেনা কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। ১৯৯৮ সালে তাদের সন্তানদের মধ্যে ফটিক মিয়া সৌদি আরবে চলে যান। এই সময়ে ছেলে সৌদি যাওয়ার কারণে কষ্ট অনুভব করতেন। একপর্যায়ে মানসিক ভারসাম্যহীন আমেনা খাতুন বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর আর তার কোনো খোঁজ মেলেনি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ধরে নেন তিনি হয়তো মারা গেছেন। যে কারণে সন্তানরা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রে মায়ের নামের আগে মৃত যোগ করে দিয়েছেন।

এর মধ্যে হঠাৎ করে গত মে মাসে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) লোকজন আমেনা খাতুনের সন্তানদের সাথে যোগাযোগ করে আমেনা খাতুন নেপালে রয়েছেন বলে জানায়। মায়ের ছবি দেখে সন্তানরা নিশ্চিত হন। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর নেপালে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর মাসুদ আলম আমেনার সন্তানদের সাথে ভিডিও কলে কথা বলার ব্যবস্থা করে দেন। ভিডিও কলে আমেনা তার সন্তান ও স্বজনদের চিনতে পারেন।

বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর মাসুদ আলম সাংবাদিকদের জানান, নেপালে অবস্থানকালে নেপালের কাঠমুন্ডু থেকে থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে সুনসারি জেলার ইনারোয়া পৌরসভার ডেপুটি মেয়র গত ৩০ মে ফেসবুকে আমেনার ছবি পোস্ট করে জানান বাংলাদেশি এক বৃদ্ধাকে পাওয়া গেছে। যিনি অন্য এক নারীর কাছে আশ্রীত। ফেসবুকের লিংক ধরে মাসুদ আমেনার কাছে পৌঁছে অনেক চেষ্টার পর বাংলাদেশের আমেনার ঠিকানা পেয়ে যান। পরিবারের সদস্যদের সাথে এনএসআই এর মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়। পরে সম্পূর্ণ সরকারি খরচে নেপাল থেকে অসহায় আমেনাকে উদ্ধার করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এসময় তিনি বলেন, সরকারি দ্বায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অসহায় মানুষের সেবা করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছেন।

আমেনা খাতুনের ছেলে ফটিক মিয়া জানান, প্রায় ২২ বছর পর মাকে পেয়ে তারা খুব খুশি। এতদিন মাকে মৃত ভেবে আসতাম। মা ১৯৯৮ সালে অভিমান করে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। ওই সময় মা কিছুটা ভারসাম্যহীন ছিল। মা তাদেরকে চিনতে পেরেছেন। তাদের সকল আত্মীয় স্বজন মাকে দেখতে অপেক্ষা করছে।