মিশন একাত্তর

নাসিমকে শ্রদ্ধা জানাতে বনানীতে ডা. জাফরুল্লাহ।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে শ্রদ্ধা জানাতে বনানীতে গিয়েছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

রোববার (১৪ জুন) রাজধানীর বনানীতে মোহাম্মদ নাসিমের দ্বিতীয় জানাজায় অংশ নিয়ে তাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

নাসিমকে শ্রদ্ধা জানাতে বনানীতে ডা ...

এ সময় তার সঙ্গে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গণমাধ্যমবিষয়ক সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দফতর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু উপস্থিত ছিলেন।

নাসিমকে শ্রদ্ধা জানাতে বনানীতে ডা ...

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত মো. নাসিমের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর কবরস্থানে অতীতের সমাহিত সবার জন্য দোয়া ও মোনাজাত করেন।


জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দফতর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু জানান, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বনানী কবরস্থান থেকে সরাসরি ১১টা ৩০ মিনিটে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে তার চিকিৎসাধীন রুমে চলে আসেন। তিনি করোনামুক্ত হওয়ায় মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন।

এর আগে সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে রাজধানীর ধানমন্ডিতে সোবহানবাগ মসজিদে প্রথম এবং ১০টা ৩৫ মিনিটে বনানীতে নাসিমের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

মোহাম্মদ নাসিম বর্তমান সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি। তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের মুখপাত্রও তিনি।

২০১৪ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মোহাম্মদ নাসিম। এর আগে ১৯৯৬-২০০১ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত ১ জুন শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তির পরে করোনাভাইরাস পজিটিভ আসে সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর। গত ৫ জুন ভোররাতে ব্রেন স্ট্রোক হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. রাজিউল হকের নেতৃত্বে অস্ত্রোপচার হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য ডা. কনক কান্তি বড়ুয়াকে প্রধান করে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

অস্ত্রোপচারের পর থেকেই গভীর অচেতন অবস্থায় ছিলেন মোহাম্মদ নাসিম। ভেন্টিলেশন মেশিনের সাহায্যে তিনি কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছিলেন।

বিএসএমএমইউ উপাচার্য ও প্রখ্যাত নিউরোসার্জন অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়ার নেতৃত্বে গঠিত ১৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল আওয়ামী লীগের এই বর্ষীয়ান নেতাকে।

মোহাম্মদ নাসিমের বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারের অভ্যন্তরে নিহত জাতীয় চার নেতার একজন এম মনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ নাসিম। তিনি সংসদে পঞ্চমবারের মতো সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন।