mission71

মিশন একাত্তর

চলুন শুরু করি একটা মহান উক্তি দিয়ে।
“ভাবিয়া করিও কাজ
করিয়া ভাবিও না”
খুব সরল সোজা এই কথাটা যে কতোটা কঠিন আর লাইফ চেঞ্জিং যারা এটা ফলো করেন তারা খুব ভালো করেই জানেন। 🙂
আসলেই, আমরা যদি যে কন কাজ করার আগে একটু ভেবে তা করতে শুরু করি, তাহলে লাইফের ৮০% ভুল গুলিই হয়তো আর আমাদের দ্বারা হতো না। কিন্তু আমাদের এতো সময় কই? অমুক করেছে, তমুক করেছে, আরে আমিও করে ফেলব। আমদের অধিকাংশদের অধপতনের মুল কারণ এই এরে ওরে ফলো করা। কারণ যারা এই প্রফেশনে আসছেন তারদের অধিকাংশ ই এসেছেন নিচের এই তিনটা কারণের কথা চিন্তা করে
১। সবাই করছে আমিও করি
২। ঘরে বসে লাখ টাকা? ওয়াও, এটাই আমি করবো
৩। চাকরি পাইনা বা চলে গেছে, তাই আমি এখন ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা কামাবো।
ভাই রে ভাই সত্যি করে বলি এই তিনটা কারণ যে কত বড় ভুল ধারনা আপনাদের ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে তা বলার অবকাশ রাখে না। 🙁
এই সিরিজের ৬ নাম্বার পোস্ট টা পড়লে বুঝবেন আসলে কি কি বাধা আসতে পারে ফ্রিল্যান্সিং এ যা কিনা আপনাকে ফেস করতে হবে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার এ।
সুতরাং না বুঝে এর তার দেখে এই লাইনে আসা বা এই লাইনে ইনভেস্ট করাটা আপনার জন্য হতে পারে পুরা একটা লস আইটেম আর তা সময় এবং টাকা উভয়ে ক্ষেত্রেই।
এবার আসুন একটু জেনে নেই এই লাইনে আসতে হলে বেসিক কি কি জিনিস আমাদের জানতে হবে
১। ফ্রিল্যান্সিং কি? এর বিষয়ে বিষদ ধারণা নেয়া দরকার। কারণ হুট হাট করে কিছু শিখে টিখে দেখবেন আসলে এটা কিভাবে করে এটাই জানেন না। তথা কথিত ট্রেনিং সেন্টার গুলি অনেকটা দায়সারা ভাবে আপনাকে গছিয়ে দেবে একটা কোর্স। তার পরে তাদের আর দায়িত্ব নেই। তাই ফুটবল খেলায় একটা বল নিয়ে দউড়াতে হবে আর গোল বারে গোল দিতে হবে এটা জানলেই হবে না, আপনাকে এটাও জানতে হবে যে আরও ১১ জন বিপক্ষীয় প্লেয়ার আপনাকে তুলোধুনা করার জন্য বরাবর রেডি থাকবে। আর জানতে হবে সেই খেলার নিওম কানুন তা না হলে যে কোন সময় লাল কার্ড হতে পারে আপনার এক মাত্র সাথী।
২। আপনাকে জানতে হবে এখানে হুট হাট করে ক্যারিয়ার গড়া যায়না। আসে না ইনকাম। প্রথম দুই একটা কাজ পেলেও কন্টিনিউয়াস কাজ পেতে হলে আপনাকে এখানে দিন রাত লেগে থেকে নানান স্ট্রাটেজি অ্যাপ্লাই করে বিভিন্ন ভাবে কাজের জন্য ট্রাই করে যেতে হবে। এর পরেও কেউ নিশ্চিত বলতে পারবেন না যে কাজ পাবেন ই কারণ কাজ পাওয়ার অনেক অনেক গুলি প্যারামিটার এর মধ্যে কোন একটা ফল করলেও কমে যাবে কাজ উল্লেখযোগ্য ভাবে। ডাউন হয়ে যাবে প্রফাইল।
৩। এখানে পান থেকে চুন খসলেই হাওয়া হয়ে যাবে আপনার আইডি। আর অধিকাংশ মার্কেটেই দ্বিতীয় আইডি খোলার নিওম নেই কাজেই একটা আইডি নষ্ট হলে পরে উক্ত মার্কেটে কাজ করা হয়ে পড়তে পারে দুরহ আর তাই জেনে নিতে হবে নিওম কানুন। সামাকিজ মাধ্যম গুলি থেকে খুটিয়ে খুটিয়ে খুজে বার করতে হবে নিজের ভুল গুলি আর সুধ্রাতে হবে প্রতিনিয়ত।
৪। হিসেব কষলে একটা রিকশা ওয়ালা কেও ফ্রিল্যান্সার বলা যেতে পারে কিন্তু যদি অনলাইন মার্কেটে আসলেই আপনি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাহলে আপনাকে জানতে হবে ভালো ইংরেজি। অনেকেই বলবে হয়তো বেশি জানা লাগে না, গুগোল ট্রান্সলেট করেই সব কাজ করা যায় তা সেগুলি তাদের ভিডিওর ভিউ বাড়ানোর কারসাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। বরং আমি বলবো, সো সো ইংলিশ জেনে কাজ করলে লাইফ এই দুই একটা কাজেই আটকে থাকবে। তা আর ক্যারিয়ার এ রুপ নেবে না কোন দিন। কাজেই ইংলিশ টা মানে কমিউনিকেটিভ ইংলিশ টা শিখতে হবে আপনাদের জমিয়ে! যারা আমার ফ্রি স্পোকেন সেশানে যুক্ত হতে চান, তারা কমেন্ট এ লিখুন। আমি লিঙ্ক দিয়ে দেব।
৫। এখানে প্রফাইল থেকে শুরু করে নিজের গিগ বা সারভিস আর ক্লায়েন্ট এর সাথে কথোপকথন সবি সাজাতে হবে একেবারে পারফেক্টলি। যেখানে সবি কিওয়ার্ড আর প্রেজেন্টেশানের খেলা (প্রেজেন্টেশান নিয়ে আমরা আগের কোন এক পর্বে কথা বলেছি) সেখানে আপনি অনলাইন রিসার্চ বা এনালাইটিক্স এ কাঁচা হলে এই মার্কেটে ডুবে মোরে যেতে হবে আপনাকে! হয়তো অনেকেই বলবেন, এহ, এগুলা ছাড়াই রেগুলার অর্ডার পাচ্ছি দিব্যি, হয়তো তিনি আসলেই পাচ্ছেন, কিন্তু ঐযে বললাম, ক্যারিয়ার আগাবে না। লাইক ক্লাস ৮ পাশ করে হতে পারে আপনি বিরাট মুদির দোকানের মালিক বনে যেতে পারেন, কিন্তু দুনিয়ার টপ ক্লাস জায়গায় নিজেকে উপস্থাপন করতে হলে আপনার ডিগ্রির কাগজ ঠিকি লাগবে। সুতরাং ফ্রিল্যান্সিং এও এই জিনিস গুলি একেবারেই ফ্যালনা যে নয়, তা মাঝ পথে গিয়ে প্রতিটা লোক হাড়ে হাড়ে টের পান আর তখন করার মতো তেমন কিছুই থাকে না।
৬। ফিউচার তৈরি করতে হবে আপনাকে। কারণ যারা বিগত সময়ে ফ্রিল্যান্সিং করে আজকে ভালো পর্যায়ে এসেছেন, তাদের কেউ ই কেবল মাত্র এই চেয়ারে বসে বসে একা ইনকাম করেন নি। তারা নিজেদের প্রশার করেছেন, ফেদেছেন নতুন বিজনেস আইডিয়া। ফ্লপ খেয়েছেন, ধরা খেয়েছেন, কিছু বিজনেস আবার উঠে গেছে। রিস্ক নিয়েছেন আর তা হয়তো একাই। আর এভাবেই একটা সময় ফ্রিল্যান্সিং করার পর সেখান থেকে লব্ধ জ্ঞ্যান ও পুঁজি নিয়ে শুরু করেছেন নিজের মতো যে কোন অনলাইন বা অফলাইন বিজনেস। কাজেই ফিউচার নিয়ে চিন্তা করার অ্যাবিলিটি না থাকলে এই লাইনে একদিন পতন আপনার নিশ্চিত।
৭। আগে একবার বলেছি, এইটা আর বাকি ১০ টা জব এর মতো স্বাভাবিক না। এখানে দিন রাত আপনাকে গাধার মতো খেটে যেতে হবে। এর প্রভাব পড়বে শরীরে, মনে, পরিবারে। আর কাজেই এসবের প্রতি যত্নশীল হতে হবে।

  • ২ মাসেই টাকা কামাবো বলে বাবা তথা কারও কাছ থেকে টাকা নিয়ে পিসি কেনা যাবে না। মনে রাখবেন এই শর্ত হয়তো আপনি পুরন করতে পারবেন না।
  • জব চলে গেছে, সংসারের ভার আপনার উপর, এই সময় সঞ্চিত সব দিয়ে পিসি কিনে ফ্রিল্যান্সিং করে সংসারের ভার নিবেন, এই ভুল কখনোই করবেন না। নতুন জব খুজুন। জবের পাশা পাশি স্কিল গেইন করেন।
  • কাজের আশায় দিন রাত নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে বসে আছেন এক টানা, নিজের অজান্তেই নষ্ট করে ফেলছেন নিজের শরীর যা পরে একটা সময় আপনাকে কোন কাজের জন্যই যোগ্য রাখবে না তা আপনি যতই স্কিলড হন না কেন।
    সো এই ব্যপার গুলি মাথায় রেখে আমার মনে হয় প্রতিটা মানুষের ফ্রিল্যান্সিং সেক্টর টাতে আসা দরকার না কি ভুগিজুগি বিজ্ঞাপন দেখে ১ মাসে টাকা উপার্জনের প্রলোভনে পড়ে। কারণ দিন শেষে ধরা আপনি খাবেন। আর পস্তাবে আপনার পুরো পরিবার।
    শেষ পর্ব বলেই একটু বেশি লিখা হয়ে গেলো। যারা ১-৬ পড়েন নি, গ্রুপের ডক সেকশনে সব গুলি পোস্ট এর লিঙ্ক দেয়া আছে। দয়া করে পড়ে নিবেন। 🙂
    আমার এই সিরিজ পোস্ট গুলি অনেকের হতাশার কারণ হতে পারে কারণ আমি এখানে রিয়ালিটি তুলে ধরেছি যা আসলে তেমন কেউ তুলে ধরেন না। অনেকেই প্রশ্ন করতে পারবেন তাহলে কি এটা কেউ করবে না? আপনারা কিভাবে টিকে আছেন? কিভাবে এতো এতো লোক কাজ করছে? তাদের বলি, ভাই সবার ধৈর্য এক না, সবার স্কিলস এক না, সবার বুদ্ধি এক না। আর ফ্রিল্যান্সিং টাও সবার জন্য না! আর যদি এটা করতেই হয়, পোস্ট গুলি সব পড়ে নিজেকে প্রস্তুত করে তার পরে ফিল্ড এ আসুন। সাফল্য নিজেই এসে আপনার হাতে ধরা দেবে।
    তো আর কথা না বাড়াই। সিরিজ শেষ করে মনে অনেক শান্তি লাগছে কারণ অন্তত নতুনদের একটা বেসিক গাইডলাইন দিতে পেরেছি এই ফিল্ডটার বেপারে। হয়তো একটু কঠিন হয়ে গেছে নতুনদের জন্য। কিন্তু যত কঠিন দিয়ে শুরুটা করবেন, ততই সহজ হয়ে উঠবে আগামীর পথ গুলি।
  • লেখক:সুলতান নীর