mission71

ষষ্ঠ তম পর্বে আপনাদের স্বাগতম। গত পর্বে আমরা আলোচনা করেছিলাম কিভাবে পুরাতন হয়ে আরও বেশি প্রফেশনাল হতে পারবেন যদি ফ্রিল্যান্সিং করতে চান। তবে আজকে আমি সুলতান নীর আপনাদের সাথে কথা বলবো নতুন হিসেবে কাজ না পাওয়ার আরেকটা কারণ ধৈর্য ধরতে না পারা।
আসলে কি বলবো, চারপাশে যেভাবে বিজ্ঞাপন আর লোল পড়া সব ঝিলিক বাতির ঝলকানি দেখি, তাতে করে মাঝে মধ্যে আমিও পটে যাই এমন একটা অবস্থা। এক মাসে ইনকাম। গ্যারান্টি দিয়ে ইনকাম করানো হয়। ইনকাম করে টাকা পরিশোধ করেন ইত্যাদি নানান চোখ ধাঁধানো যে অ্যাডস গুলি আমাদে দেখানো হয়, তাতে মনে হয় না পাবু, ওই ২ ঘন্টা বাসে করে ঘেমে একাকার হয়ে একটা জব করাটা সত্যি ভীষণ কঠিন কিছু। তার চেয়ে এটাই তো বেশ। বাসায় বসে আম খেতে খেতে কাজ করা যাবে। ইচ্ছে হলে করলাম, নাইলে না, কারণ এটা ফ্রিল্যান্সিং। ফ্রি ভাবেই যখন তখন করা যায় 😛 চাইলাম ১ মাসে টাকা, থুক্কু, ডলার তুলে সেন্ট মারটিন ঘুড়ে এলাম। ফিরে এসে বাকি দুই মাস বসে খেলাম। দেন আবার কাজ করে কয়েক হাজার ডলার কামিয়ে ফেললাম এক মাসেই।
ভাই, এটা এক চরম লেভেল এর ইয়াং একটা ফ্যান্টাসি ক্যারিয়ার নিয়ে যা আজকাল প্রতিটা যুবক দেখছেন চোখে রঙ্গিন চশমা লাগিয়ে যেটা কিনা সম্পূর্ণ ভুয়া একটা কন্সেপ্ট। আসেন কেন তা বলি।
আপনি আজকে ফ্রিল্যান্সিং করতে আসলেন, ফাইন নিজেকে খুব প্র, হ্যাডম মনে হচ্ছে, আর তা হতেই পারে কারণ আপনি তো অমুক কচিং থেকে গ্যারান্টি নিয়ে কোর্স করে এসেছেন। কাজ না পেয়ে যাবেন কই। 😛 কিন্তু একটা ব্যাপার কি খেয়াল করেছেন যে আপনার সাথে সারা পৃথিবী থেকে (এমন কি এলিয়েন রাও মেবি কয়দিন পরে ফ্রিল্যান্সিং এ নাম লিখাবে) কয়েক লাখ ফ্রিল্যান্সার এই অনলাইন মার্কেট গুলিতে যুক্ত হচ্ছেন যার মধ্যে হাজার হাজার ফ্রিল্যান্সার রা আপনার ক্যাটাগরিতে কাজ করছেন আর তাদের মধ্যে শত শত মানুষ আপনার থেকে অনেক অনেক গুন অ্যাডভান্স স্কিলস এ স্কিল্ড?
আর মার্কেট গুলিও তো কাউকে না করতে পারবে না, কাজেই তারা অ্যাপ্লাই করে নতুন নতুন আইন। সেখানে আজ কাল আছে তো কাল কাজ নাই। পরশু কাজ আছে তো আগামি ছয় মাস কাজ নাই। অনেকে অনেক প্রফেশনাল ভাবে ফ্রিল্যান্সিং করলেও নতুনদের অধিকাংশরাই এই ব্যাপার টা ফেইস করছেন এমনকি পুরাতন রাও আর তা বিশ্বাস না হলে গ্রুপ গুলিতে গিয়ে নজর বুলান (জদিও অধিকাংশ পোস্ট ই আমরা রিমুভ করে দেই)।
আর এর মধ্যে তো আছে আরও প্যারা। জেটাকে ফ্রিল্যান্সিং বলছেন, মানে মুক্ত পেশা, ইচ্ছে করল করলাম নাইলে ভ্যাকেশান ওরে শোনেন ভাই, এখানে…

  • মেসেজ এর উত্তর না দিলে কাজ পাবেন না
  • উত্তর দেরিতে দিলে কাজ পাবেন না
  • সময় মতো কাজ না করে দিলে পরে কাজ পাবেন না
  • কাজ ক্যান্সেল হলে আর কাজ পাবেন না
  • সারভিস বেশি সেল না হলে কাজ পাবেন না
  • কাজ না পেলেও আরও বেশি করে কাজ পাবেন না
  • দুইদিন ছুটি নিলে কাজ পাবেন না
  • গিগ রেঙ্ক করলে যদি সেটা দিয়ে এনাফ অর্ডার না আসে, তাহলে আর নতুন কাজ পাবেন না।
  • কনভার্সন রেট কম হলে কাজ পাবেন না
  • নেগেটিভ ফিডব্যাক পেলে কাজ পাবেন না
  • পসিজিটিভ ফিডব্যাক পেলেও যদি ক্ল্যায়েন্ট গোপনে নেগেটিভ ফিডব্যাক দেয় মার্কেট কে তাও কাজ পাবেন না।
  • এমন কি এখানে অখানে কাজ পাওয়ার যে টিপস ট্রিক্স সেটা ফলো করেও কাজ পাবেন না।
  • আরও কত কি!!
    কি হতাস করে দিলাম? জি না, এসব প্রতিকূলতা মেনে নিয়েই আমরা কাজ করছি। অতি মাত্রায় বেড়ে যাওয়া চ্যালেঞ্জ নিয়ে আগে বাড়ছি। সময় দিচ্ছি নিজেকে, কাজ কে। শিখছি সব থেকে বড় কথা যে ধৈর্য ধরে ট্রাই করে যাচ্ছি। সো এই প্ল্যাটফর্ম এ কাজ করতে গেলে বুকে পাথর বেধে ফুল টাইম সময় আর পূর্ণ দক্ষতা নিয়ে আসতে হবে ফাইটে জিততে গেলে!
    বুঝতেই পারছেন, চাইলাম আর ফ্রিল্যান্সার হয়ে গেলাম। সাগরের বুকে গা এলিয়ে সিনেমার মতো ল্যাপ্টপ নিয়ে হাজার ডলার কামাবো এই সিন টা এখন আমাদের স্বপ্নেও আর আসে না। 😛 কাজেই এই আশা বাদ দিয়ে ধৈর্য ধরে এখানে টিকে থাকেন। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে সারাজীবন যে পড়াশুনা করেছেন, সেটার বদৌলতে জব ট্রাই করেন। কোটি কোটি মানুষ ফিজিক্যাল জব করে আসছে হাজার বছর থেকে। আপনার করতে দোষ কি? তবে যদি মনে করেন ফ্রিল্যান্সিং টা হয়তো সহজ, ঘড়ে বসেই করা যায় তবে বলবো আপনি ভুল। জব বিজনেস সব কিছুর থেকে এটা আজকের দিনে সব থেকে টাফেস্ট জিনিস কারণ এখানে আপনাকে নির্ভর করতে অচ্ছে আরেকটা মার্কেটের ওপর যারা মিনিটে মিনিটে রঙ বদলায়।
    তাই আরেকবার ভাবুন, ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করার এখুনি সময় নাকি লোকের দেখে ফ্রিল্যান্সিং এ ঝাপ দেয়ার। কারণ যে ৫ ডলারের স্ক্রিনশট দিল আজকে, যেটা দেখে আপনি নাকি ইন্সপায়ারড, সেই লোক কোনোদিন ও বলবে না যে গত পাঁচ মাসে এটা তার এক মাত্র অর্ডার।
  • লেখক: সুলতান নীর