mission71

মিশন একাত্তর

বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে চট্টগ্রাম চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সহ সভাপতি এবং বন্দরের শীর্ষ টার্মিনাল অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিন অনবদ্য ভূমিকা রেখে চলেছেন ।তরফদার মো. রুহুল আমিন মিশন একাত্তরকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর পিছিয়ে পড়লে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। করোনার এই দুর্যোগ মোকাবেলায় সবাইকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বন্দরে কনটেইনার লোড-আনলোড কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। লোড-আনলোড কার্যক্রমের সাথে জড়িত প্রায় ২ হাজার শ্রমিককে ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বন্দর কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পোশাক এবং তাদের প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চবক চেয়ারম্যানের হাতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়েছে।প্রসঙ্গত তিনি বলেন, এনসিটি ও সিসিটির কর্মীদের নগরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে আনা-নেওয়া করতে তিনটি বাসের ব্যবস্থা করেছি আমরা।এর ফলে আমাদের অধীন টার্মিনালগুলোতে নিরবিচ্ছিন্ন অপারেশন চলছে।করোনা মোকাবিলা করেই আমাদের দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে হবে। দেশের শিল্পবাণিজ্য বাঁচাতে আমি ও আমার প্রতিষ্ঠান নিরলসভাবে কাজ করছি। শুরু থেকে চট্টগ্রাম বন্দর সচল রাখতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি।

চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ৯২ শতাংশই হয়ে থাকে এই বন্দর দিয়ে। তাই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে সব সময় বিবেচিত হয়ে আসছে বন্দরটি।চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ও সাধারণ পণ্য মিলিয়ে মোট ১০ কোটি ১৫ লাখ টন পণ্য ওঠানামা হয় গত বছরে। এর মধ্যে ১৩ শতাংশ পণ্য ওঠানামা করে থাকে সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড। চট্টগ্রাম বন্দরের একমাত্র টার্মিনাল অপারেটর প্রতিষ্ঠানটি বন্দরের নিউমুুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি), পানগাঁও কনটেইনার টার্মিনাল, কমলাপুর ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) পরিচালনা করছে। ফলে সাধারণ এবং কনটেইনার পণ্য ওঠানামায় তার অভিজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি।

সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তরফদার রুহুল আমিন বলেন, ২০০৬ সালের সঙ্গে ২০২০ সালের চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কাজের তুলনা করলে একেবারে শতভাগ অগ্রগতি হয়েছে। বন্দরের সবচেয়ে বড় অর্জন এখন শ্রমিক অসন্তোষ নেই; কথায় কথায় বন্দর অচল করার সুযোগ নেই। এখন নির্বিঘ্নে এবং নিরবচ্ছিন্ন কাজ করে বন্দরের উত্তরোত্তর অগ্রগতি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘প্রবৃদ্ধির সঙ্গে জেটির সংখ্যা না বাড়লেও আমরা আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং দেশি-বিদেশি বন্দর পরিচালনায় অভিজ্ঞ এবং দক্ষ কর্মী দিয়ে পণ্য ওঠানামার প্রবৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ সামাল দিচ্ছি, যা বিশ্বের অন্য যেকোনো উন্নত বন্দর পরিচালনাকারীদের কাছে এখনো মিরাকল!’

‘এখন সব কাজের সময় নির্ধারণ করে দেওয়ায় একজন বন্দর ব্যবহারকারী কতদিনে পণ্য বন্দর হয়ে কারখানায় নিতে পারবেন, তার হিসাব কষতে পারছেন। আবার রপ্তানি পণ্য কতদিনে বিদেশি ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে পারবেন তারও হিসাব আগেই মেলাতে পারছেন।’

বন্দর সেবার মান বাড়িয়ে আমরা পণ্য ওঠানামার সময় আরো সাশ্রয় করতে চাই উল্লেখ করে সাইফ পাওয়ারটেকের এমডি বলেন, বন্দরে নতুন জেটি নির্মাণের সময় নির্ধারণ করে দিতে হবে; বন্দরের কনটেইনার টার্মিনাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিটিএমএস) সবচেয়ে আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আধুনিক সব যন্ত্রপাতি সংযোজন করে নতুন সব জেটির পণ্য ওঠানামা করতে হবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর বোর্ড এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দক্ষ সব কর্মকর্তা আছেন, যাঁদের পরামর্শে দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি সামাল দিতে দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে পারবেন।আমাদের কাছে দেশি-বিদেশি বন্দর পরিচালনায় অভিজ্ঞ টিম আছে; বন্দর চাইলে আমরা যেকোনো সময় সহায়তা দিতে প্রস্তুত ।

চট্টগ্রাম চেম্বার সহসভাপতি তরফদার রুহুল আমিন বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজের গড় অবস্থানকাল কমেছে, জেটিতে অবস্থান সময় কমেছে, বন্দর থেকে ডেলিভারি উন্নতি হয়েছে। আধুনিক কি গ্যান্ট্রি ক্রেন যোগ করায় পণ্য ওঠানামায় সময় লাগছে অনেক কম। আমরা সীমিত সক্ষমতা দিয়ে ব্যবহারকারীদের সর্বোচ্চ সেবা দিচ্ছি।