mission71
mission71

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, কৃষি ও কৃষকই আমাদের অর্থনীতির রক্ষক। যে কোনো ধরনের সংকটে অর্থনীতিকে তারাই মূলত টিকিয়ে রাখেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন সেখানেও কৃষি ও কৃষকের সুবিধার কথা বলা হয়েছে। ৫ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ দেওয়া হবে এ প্যাকেজের আওতায়। এটা খুব ভালো একটা টনিকের মতো কাজ করবে। কিন্তু কৃষক ঠিকমতো ওই টাকা পাচ্ছেন কিনা তা মনিটরিং করতে হবে। এখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটা বড় ভূমিকা থাকতে হবে। তবে এখানে বেসরকারি ব্যাংকের অংশগ্রহণটা সব সময়ই কম থাকে। এ জায়গাটাতেও বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারি বাড়াতে হবে। সবচেয়ে ভালো হবে এটাকে রিফাইন্যান্স হিসেবে দিতে পারলে। এটা কোনো সংস্থাকে দিয়েও করানো যেতে পারে। এখানে বাংলাদেশ ব্যাংক যে ৪ শতাংশ সুদের কথা বলেছে তা চাইলে আরও কমাতে পারে। এ ছাড়া কৃষি খাতের জন্য এবারের বাজেটে ৯ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকিও রাখা হয়েছে। ২০০৯-১০ সালে বিশ্বমন্দার সময়ও কিন্তু আমরা খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হইনি। তার প্রধান কারণ হচ্ছে কৃষিব্যবস্থা এবং গ্রামীণ অর্থনীতি। গ্রামীণ অর্থনীতি সব সময়ই আমাদের বিপদ থেকে রক্ষা করেছে। ২০১০ সালে গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষির বাম্পার ফলন আমাদের রক্ষা করেছিল। এবারও হয়তো সেটাই হবে। কেননা এ মহামারীর সময়ও গ্রামের মানুষ কিন্তু বসে নেই। তারা দিনরাত কাজ করছে।লকডাউনের মধ্যেও সরকারের সক্রিয় নীতি সমর্থন, স্থানীয় সরকারের সহযোগিতা এবং সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সমাবেশের কারণে হাওর এলাকাসহ সারা দেশেই বোরো ধান সুষ্ঠুভাবে কাটা সম্ভব হয়েছে। আসন্ন আমন মৌসুমেও কৃষককে সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে। এমনকি যারা গরু-ছাগলের খামার করে, মাছ চাষ করে, মৌ চাষ করে তাদেরকেও সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে। ছোটখাটো ব্যবসা-বাণিজ্য করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান আরও বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিই আমাদের অর্থনীতির মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে স্বীকৃত। আমাদের ভরসার কেন্দ্রে রয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি, বিশেষ করে কৃষির অভূতপূর্ব শক্তিমত্তা। সারা বিশ্ব যখন করোনাকালে মহামন্দায় ভীতসন্ত্রস্ত তখন আমাদের চাঙ্গা কৃষি তার আশার ক্ষেত্রকে প্রসারিত করে চলেছে। মাত্র কদিন আগেই জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ফাও) জানিয়েছে, এ দুর্যোগের বছরেও খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশ হবে বাংলাদেশ। প্রতি বছর আমাদের খাদ্য চাহিদা ৩ কোটি ৩৩ লাখ টনের মতো। অনুমান করা হচ্ছে, এ বছর মোট খাদ্য উৎপাদন হবে ৪ কোটি টনের মতো। এ অঙ্ক ২০০৯ সালের খাদ্য উৎপাদন থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। এ বছর আমাদের বোরোর বাম্পার উৎপাদন হয়েছে।