mission71

কুমিল্লায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

শনিবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের কার্নিভাল হলে নবাগত সাব-রেজিস্ট্রারদের বরণ এবং রেজিস্ট্রার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, ভিডিও দেখে আসামি শনাক্ত করা হয়েছে। ভিডিও এভিডেন্স গ্রহণ করার একটা ধারা আছে। সে ধারায় কোনো অসুবিধা হবে না। মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে যাবে এবং বিচার হবে।

তিনি বলেন, আমার যত দূর জানা আছে, নাসিরনগরের যে ঘটনা সেটার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। আমি বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, যতক্ষণ পর্যন্ত তদন্ত শেষ না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত কিন্তু আদালতের বিচারিক এখতিয়ার হয় না। আদালতের হয়তো অনেকগুলো ইন্টারিম অর্ডার দেওয়ার ক্ষমতা থাকে, কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত পুলিশ প্রতিবেদন না আসে আদালত কিন্তু বিচারিক কাজ শুরু করতে পারে না।

 

আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা সেটার জন্য অপেক্ষা করছি। আমি সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই, যে মুহূর্তে তদন্ত শেষ হয়ে এটা বিচারিক আদালতে আসবে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সমাপ্তি করা হবে।

মতবিনিময় সভায় নারায়ণগঞ্জের জেলা রেজিস্ট্রার মো. জিয়াউল হকের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মো. মইনুল কবির, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শহীদুল আলম ঝিনুক প্রমুখ।

শারদীয় দুর্গাপূজার মহা অষ্টমীর দিন ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লা শহরের নানুয়া দীঘির উত্তর পাড়ে দর্পণ সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন দেখা যায়। এরপর কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগ তুলে ওই মণ্ডপে হামলা চালায় একদল লোক। সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। ওই ঘটনার জেরে সেদিনই চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে মন্দিরে হামলা হয়, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয় পাঁচজন।

পরের কয়েকদিন নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ কয়েকটি জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হয়। তাতে নোয়াখালীতে নিহত হয় দুজন। এর মধ্যে কুমিল্লা পুলিশ বুধবার নানুয়া দীঘির পাড়ের দুটি সিসি ক্যামেরার ভিডিও বিশ্লেষণ করে ইকবাল নামে এক যুবককে শনাক্তের কথা জানায়। এরপর গত বৃহস্পতিবার ইকবালকে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করার পর কুমিল্লায় আনে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার সাত দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।