mission71

বৃহস্পতিবার ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে টিকা না পেয়ে বিক্ষোভ করেন প্রবাসী শ্রমিকরা। বিক্ষোভের পর জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বা বিএমইটি’র থেকে জানানো হয়, আজ শুক্রবার থেকে সারা দেশে ৫৩টি কেন্দ্রে প্রবাসী শ্রমিকদের নিবন্ধন শুরু হবে।

টিকার জন্য নিবন্ধন করতে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বা বিএমইটি’র অধীনে নিবন্ধন করে তবেই টিকার জন্য নিবন্ধন করা যাবে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এছাড়া সারা দেশে বিএমইটি’র যে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো রয়েছে তার মধ্যে নয়টি এবং নারায়ণগঞ্জের ইন্সটিটিউট অফ মেরিন টেকনোলজিতে গেলেও তা করা যাবে।

দেশের ৪২টি জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস, ৯ টিটিসি (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষীপুর, মাদারীপুর, মেহেরপুর, শরীয়তপুর, সুনামগঞ্জ, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট) এবং বিআইএমটি, নারায়নগঞ্জ-এ (তালিকা: www.bmet.gov.bd তে পাওয়া যাবে) স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে হাজির হয়ে নির্ধারিত ও নিজ জেলায় সকাল ৯.০০টা থেকে বিকাল ৪.০০ পর্যন্ত অথবা অনলাইনে ‘আমি প্রবাসী’ (Ami Probashi) এ্যাপ এ নিবন্ধন করা যাবে।

নয়টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো হচ্ছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, মাদারীপুর, মেহেরপুর, শরীয়তপুর, সুনামগঞ্জ, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম এবং লালমনিরহাটে অবস্থিত।

বিএমইটির ডাটাবেজে নিবন্ধিত কর্মীগণ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রাপ্তির লক্ষ্যে Surokkha Apps বা www.surokkha.gov.bd এর মাধ্যমে জরুরিভাবে টিকা গ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে। surokkha App এ রেজিস্ট্রেশন সফল হলে মোবাইল ম্যাসেজে এর মাধ্যমে টিকা সেন্টার ও তারিখ জানা যাবে।

কোভিড-১৯ টিকা প্রদান ও সনদায়ন কার্যক্রম সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড। সেকারণে surokkha App বা www.surokkha.gov.bd এ নিবন্ধিত হয়ে টিকা কেন্দ্র ও তারিখ সংক্রান্ত ম্যাসেজ না পাওয়া পর্যন্ত বিদেশগামী কর্মীগণের কোনো হাসপাতাল, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বিএমইটি বা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ করে জমায়েত হয়ে টিকা গ্রহণের সুযোগ নেই। বিষয়টি অনুধাবনের জন্য বিএমইটি থেকে বিদেশগামী কর্মীদের অনুরোধ করা হয়েছে।

ঢাকার সাতটি হাসপাতালে শ্রমিকদের টিকা কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলো হল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল।

সাধারণ মানুষেরা যেভাবে নিবন্ধন করবেন ,বিস্তারিত :

টিকা গ্রহণের জন্য আগ্রহীদের অনলাইনের নিবন্ধন করতে হবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে করোনার টিকার জন্য নিবন্ধন করবেন—

আগ্রহী ব্যক্তিকে প্রথমে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলের গুগল প্লে-স্টোর থেকে বিনামূল্যে ‘সুরক্ষা অ্যাপ’ নামের নিবন্ধন অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে। অথবা কম্পিউটারের যেকোনো ব্রাউজার থেকে www.surokkha.gov.bd ওয়েবসাইটে যেতে হবে।

ওয়েবসাইট বা অ্যাপে প্রবেশের পর হোম পেইজে ‘ভ্যাকসিনের জন্য নিবন্ধন করুন’, ‘নিবন্ধন স্ট্যাটাস’, ‘টিকা কার্ড সংগ্রহ’, ‘টিকা সনদ সংগ্রহ’, ‘সহায়িকা’ ও ‘সচরাচর জিজ্ঞাসা’ ক্যাটাগরি পাওয়া যাবে।

নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর, মোবাইল নম্বর (যে নম্বরে সকল তথ্য পাঠানো হবে) এবং কিছু তথ্যের প্রয়োজন হবে। তাই সেগুলো আগে থেকে সংগ্রহে রাখুন।

এরপর ‘ভ্যাকসিনের জন্য নিবন্ধন করুন’ ক্যাটাগরির ওপর ক্লিক বা ট্যাপ করলে পরবর্তী পেইজে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিবন্ধন ফর্ম পাওয়া যাবে। যেখানে নিবন্ধনকারীর পরিচয় যাচাই করা হবে। এ ধাপে এসে নিবন্ধকারী ১৮টি শ্রেণি পাবেন।

শ্রেণিগুলো হলো- নাগরিক নিবন্ধন, সরকারি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, অনুমোদিত বেসরকারি ও প্রাইভেট স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত সকল সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা কর্মকর্তা-কর্মচারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনা, সম্মুখসারির আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সামরিক ও আধা সামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী, রাষ্ট্র পরিচালনায় নিমিত্ত অপরিহার্য কার্যালয়, সম্মুখসারির গণমাধ্যমকর্মী, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার সম্মুখসারির কর্মকর্তা-কর্মচারী, ধর্মীয় প্রতিনিধি (সকল ধর্ম), মৃতদেহ সৎকার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি, জরুরি বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, পয়ঃনিষ্কাশন ও ফায়ার সার্ভিসের সম্মুখসারির সকল কর্মকর্তা, রেল স্টেশন, বিমান বন্দর ও নৌ বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলা ও উপজেলা সমূহে জরুরি জনসেবায় সম্পৃক্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রবাসী ও অদক্ষ শ্রমিক।

এই ১৮ শ্রেণির মধ্যে যেকোনো একটি সিলেক্ট করলেই নিবন্ধনকারী তার এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ দেওয়ার অপশন পাবেন। সেগুলো নির্ভুলভাবে পূরণ করার পর ক্যাপচা কোড (যাচাই নম্বর) দিতে হবে। এরপর এনআইডি নম্বর স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই হয়ে স্ক্রিনে নিবন্ধনকারীর নাম (বাংলা ও ইংরেজি) দেখাবে। এ সময় পাশে আরেকটি ঘরে নিবন্ধনকারীর ফোন নম্বর চাওয়া হবে। এই নম্বরটিতেই পরবর্তী সময়ে টিকাদান সংক্রান্ত সকল তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে দেওয়া হবে।

মোবাইল নম্বর দেওয়ার পর একটি ঘরে জানতে চাওয়া হবে নিবন্ধনকারীর কোনো দীর্ঘমেয়াদী রোগ বা কো-মরবিডিটি (একাধিক রোগ) আছে কিনা। যদি থাকে তাহলে কোন কোন রোগ আছে— এসব তথ্য পূরণ করার পর নিবন্ধনকারীর পেশা এবং তিনি করোনা সংক্রান্ত কোনো কাজে সরাসরি জড়িত কিনা জানতে চাওয়া হবে।

এরপর নিবন্ধনকারীর বর্তমান ঠিকানা ও কোন কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে আগ্রহী সেটি জানতে চাওয়া হবে। এ সকল তথ্য দিয়ে ‘সেইভ’ দিলে নিবন্ধনকারী তার দেওয়া মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি কোড পাবেন। এরপর আবার হোম পেইজে গিয়ে ‘নিবন্ধন স্ট্যাটাস’ ক্যাটাগরিতে যেতে হবে। তারপর সেখানে মোবাইল নম্বরে পাওয়া ওটিপি কোড দিয়ে যাচাই করে দেখতে হবে সকল তথ্য ঠিক আছে কিনা। এভাবে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

তবে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার ট্রায়াল না হওয়ায় ১৮ বছরের নিচের কেউ নিবন্ধন করতে পারবেন না। এছাড়া যাদের ইন্টারনেট বা অ্যাপ ব্যবহারের মতো ডিভাইস নেই তারা যেন ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে গিয়ে বিনামূল্যে নিবন্ধন করতে পারেন সেই পরিকল্পনা করছে সরকার।

নিবন্ধন সম্পন্ন করার পর পরবর্তীতে টিকা প্রদানের তারিখ ও কেন্দ্রর নাম নিবন্ধনকারীর মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। তখন ‘সুরক্ষা অ্যাপ’ বা ওয়েবসাইটের হোম পেইজে গিয়ে ‘টিকা কার্ড সংগ্রহ’ ক্যাটাগরিতে যেতে হবে। সেখানে এনআইডি নম্বর, জন্ম তারিখ ও এসএমএসের মাধ্যমে পাওয়া ওটিপি কোড দিয়ে টিকা গ্রহণ কার্ড ডাউনলোড করতে হবে। এরপর সেই কার্ড ও এনআইডি কার্ড নিয়ে নির্ধারিত দিনে কেন্দ্রে গিয়ে প্রথম টিকা গ্রহণ করতে হবে। এভাবে নির্দিষ্ট সময় পর আরো একটি ডোজ গ্রহণ করতে হবে।

টিকার দুইটি ডোজ নেওয়া সম্পন্ন হলে সুরক্ষা অ্যাপ বা ওয়েব সাইটে গিয়ে ভ্যাকসিন প্রাপ্তির সনদ সংগ্রহ করে রাখতে হবে।