‘কৃষিকে শিল্পে রূপান্তর করলে কৃষক পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন’

বাংলাদেশে কৃষি পণ্যের যোগান ও চাহিদার মধ্যে বড়রকমের ভারসাম্যহীনতা আছে। অনেক সময় একটি পণ্যের অনেক বেশি উৎপাদন হয়। তখন কৃষক বাড়তি উৎপাদনের জন্য বিপদে পড়ে যায়। তিনি তার ফসলের ন্যায্য মূল্য পান না। অন্যদিকে কখনো আবার কোনো পণ্যের কম ফলনের কারণে বা আমদানি নির্ভরতার কারণে বাজারে দাম অনেক বেড়ে যায়। তাতে ভোক্তাদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। এই সংকট উত্তরণে কৃষিকে নিয়ে বড় পরিকল্পনা করতে হবে এবং দেশে কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে। তাতে বাড়তি ফলন কৃষকের জন্য দায় হয়ে উঠবে না। ভোক্তারাও সারাবছর পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ পাবেন। কৃষিতে মূল্য সযোজন বাড়বে। কৃষি আরও স্থিতিশীল হবে।

আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ এগ্রিবিজনেস সোসাইটি আয়োজিত “কৃষি প্রক্রিয়াজাত করণে শিল্পভাবনা (Agro processing industria ideas) ” শীর্ষক ভার্চুয়াল সেশনে আলোচকরা এ কথা বলেন।

আলোচনায় প্যানেলিস্ট হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন- ন্যাশনাল এগ্ৰিকেয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, সজীব গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহান শাহ আজাদ, বাংলাদেশ এগ্রিবিজনেস সোসাইটির চিফ এডভাইজার এবং শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স এন্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবু জাফর আহমেদ মুকুল এবং ইকোনমিক রিপোর্টারস ফোরাম (ইআরএফ) এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও অনলাইন পত্রিকা অর্থসূচকের সম্পাদক জিয়াউর রহমান।

সূচনা বক্তব্যে বাংলাদেশ এগ্রিবিজনেস সোসাইটির সদস্য সঞ্চালক ফারজানা তাসনিম সিমরান কৃষি প্রক্রিয়াজাত করণে শিল্পভাবনার নানা দিকগুলো উপস্থাপন করেন।

ন্যাশনাল এগ্ৰিকেয়ার গ্ৰুপের এমডি ও সিআইপি মোস্তাফিজুর রহমান কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পের নানা চ্যালেঞ্জগুলো অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে বহুমুখী প্রতিযোগিতায় মোকাবেলা করতে কিছু উল্লেখযোগ্য নীতিমাল বাস্তবায়ন করার কথা উল্লেখ করেন যাতে সর্বাধিক সম্ভাবনা হিসেবে সম্পূর্ণ রূপে কাজে লাগানো যায়। এছাড়া তিনি এগ্ৰো প্রসেসিং এ এগ্ৰিবিজনেস গ্ৰ্যাজুয়েটদের স্কিল ডেভেলপমেন্টের নানা দিকগুলো তুলে ধরেন।

সজীব গ্ৰুপের সিইও মোহাম্মদ শাহান শাহ আজাদ অপর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা , অদক্ষ কৃষি বাজার, সীমিত বৈদেশিক চাহিদা প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের অভাবের কারণে যে কৃষি পণ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ অবদান রাখতে পারছে না এসব সমস্যাগুলো কিভাবে সমাধান করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করেন এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে বাংলাদেশে আলাদা অবস্থান করে নিতে কিছু উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ এগ্রিবিজনেস সোসাইটির চিফ এডভাইজার এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স এন্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবু জাফর আহমেদ মুকুল কৃষি বাণিজ্য করণে কৃষি গ্র্যাজুয়েটদের বাণিজ্যিক জ্ঞান এবং এগ্ৰিবিজনেস গ্ৰ্যাজুয়েটদের ক্যারিয়ার পারস্পেকটিভের নানা দিকগুলো বর্ণনা করেন। সেই সাথে কৃষি বাণিজ্যকরণে সরকারকে কৃষি প্রক্রিয়াকরন জোন প্রতিষ্ঠা এবং কৃষি মন্ত্রণালয় ও গবেষনা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কৃষি বানিজ্যিকরনের জন্য আলাদা উইং করা প্রয়োজন বলে মনে করেন।

ইকোনমিক রিপোর্টারস ফোরামের জিয়াউর রহমান কৃষি বাণিজ্য করণে রিপোর্টারদের ভূমিকার কথা আলোচনা করেন এবং অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠতে কৃষিক্ষেত্রের ভূমিকা এবং আরও কিছু গ্ৰহণযোগ্য উদ্যোগের কথা বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এছাড়া প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপের সম্মানীত সদস্যসহ প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।সংলাপে সরকারি কর্মকর্তা, যুব প্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি, ব্যাক্তিখাতের উদ্যোক্তা,সমাজকর্মী,পেশাজীবী,গণমাধ্যমকর্মী সহ নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Articles