mission71

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায় বারোমাসি ব্ল্যাক বেবি তরমুজের চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। তাদের একজন বলরামপুর গ্রামের কাজী আনোয়ার হোসেন। ভালো ফলন পেয়ে খুশি তিনি। তার মাচায় ঝুলে থাকা তরমুজ দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন আশেপাশের গ্রামের কৃষকরা।

সোমবার বিকালে জমিতে গিয়ে দেখা যায়, উঁচু বেডের মাটি মালচিং শিট পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তার মাঝে গোল করে কাটা স্থানে তরমুজ গাছ লাগানো হয়েছে। মাচায় ঝুলছে তরমুজ। ছিঁড়ে না পড়ার জন্য ব্যাগ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাতাসে সারি সারি তরমুজ দুলছে। খুচরা ও পাইকারি ক্রেতারা খেত থেকে তরমুজ কিনছেন।

খুচরা ক্রেতা স্থানীয় কমলপুরের মো.ইউনুস বলেন,খেত থেকে তরমুজ কিনে খেয়ে দেখলাম। দেখতে সুন্দর ও খেতে মিষ্টি। চৌয়ারা গ্রামের পাইকারি ক্রেতা জামাল হোসেন বলেন,কেজি ১০০টাকা দরে কিনেছি। আশা করছি ১২০ থেকে ১৫০টাকা দরে বিক্রি করতে পারবো।

স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাহিদা খাতুন বলেন, এই এলাকায় আগে তরমুজের চাষ হয়নি। আনোয়ার হোসেনকে প্রাকৃতিক উপায়ে পোকা দমন প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। তার ফলন দেখে ভালো লাগছে। কম সময়ে তরমুজ চাষে কৃষকরা ভালো লাভ করতে পারবেন।

কাজী আনোয়ার হোসন বলেন, ইউটিউবে দেখে এই তরমুজ চাষে আগ্রহী হন। কিশোরগঞ্জ থেকে বীজ সংগ্রহ করেন। বিশেষ পলিথিন দিয়ে ঢাকা বেড তৈরি করেন। পলিথিনের নিচে একসাথে সার গোবর দিয়ে দেন। পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেয়ায় সার নষ্ট হয়না,একাধিকবার দিতে হয় না। এতে পোকার আক্রমণ কম হয়। মাচা তৈরি করেন। তাতে সুতা বেঁধে দেন। তরমুজ বড় হলে কাপড় ব্যাগ দিয়ে সুতায় ঝুলিয়ে দেন। প্রথমে স্থানীয় কৃষকরা তার অসময়ে এই তরমুজ চাষের বিষয়টিকে পাগলামি বলতেন। এখন ভালো ফলন দেখে সবাই তরমুজ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ২০ শতক জমিতে তার ৩৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। আশা করছেন দুই লাখ ৪০হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন।
তিনি খেত থেকে একশ’ টাকা কেজি ধরে তরমুজ বিক্রি করছেন। প্রতিটি তরমুজের ওজন তিন থেকে সাড়ে তিন কেজি। তিনি এই পর্যন্ত ১০০টির মতো তরমুজ বিক্রি করেছেন।