mission71

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের নাম দিয়েছে ওমিক্রন। গ্রিক বর্ণমালার আলফা, ডেল্টার মতোই নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের কোড নাম দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই ভ্যারিয়েন্টটি মিউটেট বা তার রূপ পরিবর্তন করেছে অনেকভাবে।

দক্ষিণ আফ্রিকার সেন্টার ফর এপিডেমিক রেসপন্স অ্যান্ড ইনোভেশনের পরিচালক অধ্যাপক টুলিও ডি অলিভিয়েরা বলছেন, ‘এখন পর্যন্ত অন্য যেসব ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়েছে তার চেয়ে এটি অনেকখানিই বিপজ্জনক।’

এরই মধ্যে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের খবরে বিভিন্ন দেশের বিমনাবন্দরে জারি হয়েছে নতুন সতর্কতা। এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডি অলিভিয়েরা জানিয়েছেন, ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট মিউটেট করেছে ৫০ বার।

আর এর স্পাইক প্রোটিন বদলেছে ৩০ বার। মানুষের দেহের মধ্যে ঢুকতে কোভিড ভাইরাস এই স্পাইক প্রোটিন ব্যবহার করে। এবং করোনার ভ্যাকসিন সাধারণত এই স্পাইক প্রোটিনকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়।

ভাইরাসের যে অংশটি প্রথম মানুষের দেহকোষের সঙ্গে সংযোগ ঘটায় তার নাম ‘রিসেপ্টার বাইন্ডিং ডোমেইন’। ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট সেই রিসেপ্টার বাইন্ডিং ডোমেইনে মিউটেশন ঘটিয়েছে ১০ বার। সেই তুলনায় করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে এই পরিবর্তন হয়েছে মাত্র দু’বার।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এ ধরনের মিউটেশন সম্ভবত একজন রোগীর দেহের জীবাণু থেকে এসেছে, যিনি এই ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে পারেননি।

ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টর লক্ষণসমূহ

চিকিৎসকদের মতে, ওমিক্রনের কিছু লক্ষণ আছে যা সম্পূর্ণ ভিন্ন। যদিও আক্রান্তদের মধ্যে ওমিক্রনের লক্ষণ হালকা মিলেছে। আবার কিছু রোগী হাসপাতালে ভর্তি না হয়েই সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (সামা) প্রধান ডা. অ্যাঞ্জেলিক কোয়েজি বলেছেন, ‘ওমিক্রনে আক্রান্ত রোগীদের বিভিন্ন উপসর্গের মধ্যে দেখা গেছে- চরম ক্লান্তি, গলা ব্যথা, পেশী ব্যথা ও শুকনো কাশির মতো সমস্যা। একই সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট থেকে এর লক্ষণগুলো বেশ ভিন্ন।’

ডা. অ্যাঞ্জেলিক কোয়েজি আরও জানিয়েছেন, তিনি এখন পর্যন্ত যত রোগী দেখেছেন তাদের সবার টিকা নেওয়া হয়নি। তাদের ওমিক্রনের হালকা লক্ষণ ছিল।

তার মতে, ইউরোপের বিপুল সংখ্যক মানুষ করোনার এই নতুন প্রজাতি দ্বারা সংক্রামিত। এখনও পর্যন্ত ওমিক্রন দ্বারা সংক্রামিত বেশিরভাগ রোগীর বয়স ৪০ বছরের কম।

আরো একটি বিষয় হলো, ডেল্টা আক্রান্তদের মতো ওমিক্রনে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত স্বাদ-গন্ধ হারিয়ে ফেলার ঘটনা ঘটেনি। এমনকি এই ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রে করোনা রোগীর রক্তে অক্সিজেন মাত্রাও হঠাৎ নেমে যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি।

বিজ্ঞানীরা কী বলছেন?

বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, কোভিডের মূল স্ট্রেইনকে মাথায় রেখে তৈরি করা ভ্যাকসিন এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর নাও হতে পারে।

দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু-নাটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিচার্ড লেসেলস বলছেন, ‘এই ভাইরাসটির সংক্রমণের ক্ষমতা শঙ্কার মধ্যে ফেলেছে। আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ভেদ করার কিছু ক্ষমতাও সম্ভবত এর আছে।’

চলতি বছরের শুরুর দিকে বেটা ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে সবাই দুর্ভাবনায় ছিলেন। এরপর দেখা গেলো ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট এর চেয়েও দ্রুত গতিতে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাভি গুপ্তা বলেন, ‘বেটা ভ্যারিয়েন্ট শুধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ভেদ করতে পারতো। ডেল্টার সংক্রমণ ক্ষমতা ছিল বেশি। তবে ওমিক্রন দুদিক দিয়েই সমান পারদর্শী।’

ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার গটেং প্রদেশে। বোতসোয়ানায় পাওয়া গেছে চারটি কেস ও হংকংয়ে পাওয়া গেছে একটি কেস। ইসরায়েল ও বেলজিয়ামেও ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে।

বিশ্বের ১৩টি দেশে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের বেশির ভাগ সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা বা অন্য কোনো দেশে গিয়েছিলেন। ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার পরই এর প্রভাব ও ভয়াবহতা নিয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। ওমিক্রন টিকার সুরক্ষা ভেদ করতে পারে—এমন উদ্বেগ থেকে অনেক দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা ও আশপাশের দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

ওমিক্রন যেসব দেশে শনাক্ত হয়েছে
দক্ষিণ আফ্রিকা: রাজধানী জোহানেসবার্গ নিয়ে গঠিত দক্ষিণ আফ্রিকার একটি প্রদেশে পিসিআর পরীক্ষায় পাওয়া নমুনায় দেখা গেছে যে এ সপ্তাহের মাঝামাঝি দক্ষিণ আফ্রিকায় মোট করোনা শনাক্ত ১ হাজার ১০০ রোগীর মধ্যে ৯০ শতাংশ ওমিক্রন ধরনে আক্রান্ত।
বতসোয়ানা: দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে সীমান্ত লাগোয়া দেশ বতসোয়ানায় কমপক্ষে ১৯ জনের ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে।
যুক্তরাজ্য: দেশটিতে তিনজন ওমিক্রন ধরনে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের সবাই দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
জার্মানি: দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে মিউনিখ বিমানবন্দরে যাওয়া দুজনের ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাতে এ খবর জানিয়েছে এএফপি।

 

নেদারল্যান্ডস: দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নেদারল্যান্ডসে যাওয়া কয়েক শ যাত্রীর ৬১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জন ওমিক্রন ধরনে আক্রান্ত।
ডেনমার্ক: দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে যাওয়া দুজনের শরীরে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে।
বেলজিয়াম: একজনের ওমিক্রনে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানা গেছে। ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে বেলজিয়ামে ওমিক্রন ধরন শনাক্ত হয়।
ইসরায়েল: ২৭ নভেম্বর ইসরায়েলে একজন নতুন এই ধরনে আক্রান্ত হন। আরও একজন ওমিক্রনে আক্রান্ত বলে ধারণা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ইতালি: ইতালিতে একজনের ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। ওই ব্যক্তি আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হওয়ার আগে গোটা দেশ ঘুরে বেরিয়েছেন।
চেক প্রজাতন্ত্র: স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশটিতে একজনের ওমিক্রনে আক্রান্ত হওয়ার কথা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

হংকং: সন্দেহভাজন আক্রান্ত হিসেবে হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকা দুজনের ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া: দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে ওমিক্রনে আক্রান্ত দুজন শনাক্ত হয়েছেন। তাঁরা উভয়ই সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়েছিলেন।
কানাডা: সম্প্রতি নাইজেরিয়া সফর করা দুই ব্যক্তির দেহে ওমিক্রন ধরনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

করোনার নতুন ধরন অমিক্রনের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বে। এর মধ্যেই গতকাল সোমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে বসেছে। ডব্লিউএইচও সাধারণত মে মাসে অধিবেশনের আয়োজন করে। তবে আজ সোমবার সংস্থাটির সদস্যদেশগুলোর গৃহীত সিদ্ধান্তে একটি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হয়। ৭৩ বছরের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশেষ অধিবেশনে বসেছে ডব্লিউএইচও।

এর আগে এক দিনের মাথায় নিজের অবস্থান থেকে সরে এসেছে ডব্লিউএইচও। গত রোববার সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, অমিক্রন করোনার ‘উদ্বেগজনক ধরন’। তখন সংস্থাটি বলেছে, করোনার নতুন এ ধরন অন্যান্য ধরনের তুলনায় বেশি সংক্রামক বা এ ধরনের সংক্রমণে রোগীর অবস্থা আরও বেশি গুরুতর হয় কি না, সেটা এখনো জানা যায়নি। এ ছাড়া অমিক্রন মোকাবিলায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি না করারও মতামত ব্যক্ত করে। এক দিন পর আজ অমিক্রন নিয়ে প্রকাশিত এক সংক্ষিপ্ত নিবন্ধে ডব্লিউএইচও সতর্কবার্তা দেয়। এতে ডব্লিউএইচও হুঁশিয়ার করে বলে, করোনার নতুন ধরন অমিক্রন বিশ্বকে অত্যন্ত ‘উচ্চ ঝুঁকি’তে রেখেছে। বিশ্বকে তা মোকাবিলায় প্রস্তুত হওয়ার তাগিদ দেয় বিশ্ব সংস্থাটি।

 

এদিকে করোনার নতুন ধরন নিয়ে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অমিক্রন নিয়ে তারা কোনো ঝুঁকি নেবে না। শিগগিরই তারা জরুরিভাবে জি-৭ বৈঠক ডাকবে। জার্মানি বলছে, ডব্লিউএইচওকে আরও বেশি অর্থায়ন করতে হবে। অন্তত বর্তমানের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি অর্থায়নের প্রয়োজন।

সম্প্রতি আফ্রিকা অঞ্চলে শনাক্ত হয় করোনার নতুন ধরন বি.১.১.৫২৯। এর নাম দেওয়া হয়েছে অমিক্রন। ধারণা করা হচ্ছে, ডেলটাসহ করোনার আগের সব ধরনের চেয়ে এটি অনেক বেশি সংক্রামক। ডব্লিউএইচওর আশঙ্কা, নতুন এ ধরন বিশ্বের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৩টি দেশে করোনার নতুন ধরন অমিক্রনে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং প্রায় ৪০টির বেশি দেশ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

ডব্লিউএইচও বলছে, এখন পর্যন্ত অমিক্রন ধরনে আক্রান্ত হয়ে কারোর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। নতুন এ ধরনের বিরুদ্ধে এখনকার কোভিড টিকা, পরীক্ষার পদ্ধতি ও চিকিৎসার পদ্ধতি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে আরটি-পিসিআর টেস্টের মাধ্যমে এ ধরনের সফল নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব।
এনডিটিভি জানায়, করোনার উদ্বেগজনক ধরন অমিক্রনের সংক্রমণ নিয়ে বাংলাদেশসহ ১২টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে উচ্চ ঝুঁকির একটি তালিকা তৈরি করেছে ভারত। এসব দেশ থেকে ভারতে যাওয়া নাগরিকদের নয়াদিল্লির আইজিআই বিমানবন্দরে করোনার আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করা হচ্ছে।

 

দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়া নতুন এ ধরনের বিষয়ে এখনো পরিষ্কার কিছু বলতে পারছেন না বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগবিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউসি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে বলেন, অমিক্রনের সংক্রমণ ক্ষমতা ও অন্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে স্পষ্ট হতে এবং বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়ার জন্য আরও আনুমানিক দুই সপ্তাহ সময় লাগবে।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত অনুসারে, দক্ষিণ আফ্রিকায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হার বাড়ছে। অমিক্রনের ভয়াবহতা বোঝার জন্য কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যেতে পারে। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার এক চিকিৎসক বলেছেন, তাঁর রোগীদের মধ্যে যাঁরা অমিক্রনে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের উপসর্গ মৃদু।

ডব্লিউএইচও বলছে, এখন পর্যন্ত অমিক্রন ধরনে আক্রান্ত হয়ে কারোর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। নতুন এ ধরনের বিরুদ্ধে এখনকার কোভিড টিকা, পরীক্ষার পদ্ধতি ও চিকিৎসার পদ্ধতি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে আরটি-পিসিআর টেস্টের মাধ্যমে এ ধরনের সফল নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব।

ডব্লিউএইচওর এক বিবৃতিতে বলা হয়, যে আলামতগুলো উপস্থাপিত হয়েছে, তার ভিত্তিতে বলা যায়, কোভিড রোগতাত্ত্বিক গবেষণায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে হবে।

ডব্লিউএইচও হুঁশিয়ার করে বলে, করোনার নতুন ধরন অমিক্রন বিশ্বকে অত্যন্ত ‘উচ্চ ঝুঁকি’তে রেখেছে। বিশ্বকে তা মোকাবিলায় প্রস্তুত হওয়ার তাগিদ দেয় বিশ্ব সংস্থাটি।
এদিকে অমিক্রন শনাক্ত হওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর একের পর এক দেশের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের নিন্দা জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপে মারাত্মক হতাশ তিনি। এ ছাড়া এ নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টিকে অন্যায্য হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি দ্রুত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে করোনার অমিক্রন ধরন শনাক্ত হওয়ার পর আফ্রিকাকে লক্ষ্য করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক সংহতির ওপর আঘাত।
মাতশিদিসো মোয়েতি, ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক মহাপরিচালক
ডব্লিউএইচওর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কোভিডের বিস্তার সামান্য কমানো গেলেও, তা জীবন ও জীবিকাকে অত্যন্ত জটিল করে তোলে। এসব বিধিনিষেধ অহেতুক আক্রমণাত্মকভাবে আরোপ করা উচিত নয়। এগুলো বিজ্ঞানসম্মত হতে হবে।

ওমিক্রন নামে করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্টের ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ১৫ দফা নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শনিবার যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছিলেন, ওমিক্রনের বিস্তার ঠেকাতে দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে বিমান যোগাযোগ বন্ধ হচ্ছে, তবে সবশেষ নির্দেশনায় কোন দেশের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করার মত কিছু বলা হয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র- সিডিসির পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর মো. নাজমুল ইসলামের রবিবার স্বাক্ষর করা এক চিঠিতে এসব নির্দেশনার উল্লেখ রয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অন্যান্য দেশে নতুন ধরণের করোনাভাইরাস সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন (বি.১.১৫২৯) এর সংক্রমণ দেখা দেয়ায় ‘অধিকতর সতর্কতা’ অবলম্বন করতে হবে।

চিঠিতে নির্দেশনাগুলোকে “কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ” করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে।

১৫ দফা নির্দেশনা:

১. দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, বতসোয়ানা, এসওয়াতিনি, লেসোথোসহ যেসব দেশে ওমিক্রনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, সেসব দেশ থেকে আসা যাত্রীদের বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং জোরদার করতে হবে।

২. সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও অন্যান্য জনসমাগম নিরুৎসাহিত করতে হবে।

৩. প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে গেলে প্রত্যেককে বাড়ির বাইরে সব সময় সঠিকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরাসহ সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।

৪. রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়ার ক্ষেত্রে ধারণক্ষমতার অর্ধেক বা তার কম আসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

৫. সকল প্রকার জনসমাবেশ, পর্যটন স্থান, বিনোদনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার, সিনেমা হল/থিয়েটার হল ও সামাজিক অনুষ্ঠানে (বিয়ে, বৌভাত, জন্মদিন, পিকনিক পার্টি ইত্যাদি) ধারণক্ষমতার অর্ধেক বা তার কম সংখ্যক লোক অংশগ্রহণ করতে পারবে।

৬. মসজিদসহ সকল উপাসনালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।

৭. গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে।

৮. যেসব দেশে এই ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে, সেসব দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে।

৯. সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ মাদ্রাসা, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়সহ কোচিং সেন্টারে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে।

১০. সকল স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে সেবাগ্রহীতা, সেবা প্রদানকারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঠিকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরাসহ সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।

১১. স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

১২. কোভিড উপসর্গ/লক্ষণযুক্ত সন্দেহজনক ও নিশ্চিত করোনা রোগীর আইসোলেশন ও কোভিড পজিটিভ রোগীর সংস্পর্শে আসা অন্যান্যদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে।

১৩. কোভিড-১৯ এর লক্ষণযুক্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রাখা এবং তার নমুনা পরীক্ষার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সহায়তা করা যেতে পারে।

১৪. অফিসে প্রবেশ এবং অবস্থানকালীন সময়ে বাধ্যতামূলকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাটা দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

১৫. কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ ও হ্রাস করতে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সচেতনতা তৈরির জন্য কমিউনিটি পর্যায়ে মাইকিং ও প্রচার চালানো যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে মসজিদ/মন্দির/গির্জা/প্যাগোডার মাইক ব্যবহার করা যেতে পারে এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর/ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যসহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।