mission71

পৃথিবীতে ইহুদীদের মোট সংখ্যা দেড় কোটির মত।
একটি মাত্র ইহুদী রাষ্ট্র – ইসরাইল।
ইসরাইলে ইহুদীর সংখ্যা ৫৪ লাখ, অবশিষ্ট প্রায় এক কোটি ইহুদী সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে।
এর মধ্যে আমেরিকাতে ৭০ লাখ, কানাডাতে ৪ লাখ আর ব্রিটেনে ৩ লাখ ইহুদী থাকে।
ইহুদীরা মার্কিন জনসংখ্যার মাত্র ২%, আর পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার মাত্র ০.২%।
অর্থাৎ পৃথিবীর প্রতি ৫০০ জনে একজন ইহুদী!
কিন্তু জনসংখ্যার দিক দিয়ে ঢাকা শহরের কাছাকাছি হলেও বিশ্বে ইহুদি সম্প্রদায় থেকে যুগে যুগে বেরিয়ে এসেছে অসংখ্য প্রতিভাবান ব্যক্তি।
প্রধান ধর্মগুলোর পর পৃথিবীতে যে মতবাদটি সবচেয়ে বেশী প্রভাব ফেলেছে সেই কমিউনিজমের স্বপ্নদ্রষ্টা কার্ল মার্কস ইহুদি সম্প্রদায় থেকে এসেছেন।
বিশ্বের মানুষকে মুগ্ধ করে রাখা যাদু শিল্পি হুডিনি ও বর্তমানে ডেভিড কপারফিল্ড এসেছেন একই কমিউনিটি থেকে।
এসেছেন আলবার্ট আইনস্টাইনের মত বিজ্ঞানী, যাকে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী বলা হয় আর প্রফেসর নোয়াম চমস্কি – র মত শিক্ষাবিদ ও দার্শনিক যাকে প্রদত্ত ডক্টরেটের সংখ্যা আশিটির ও বেশি।
এর অন্যতম কারণ সাধারণ আমেরিকান রা যেখানে হাইস্কুল পাশকেই যথেষ্ট মনে করে সেখানে আমেরিকান ইহুদীদের ৮৫% বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া।
আর আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর দৃষ্টান্ত হচ্ছে এমনঃ ওআইসি-র ৫৭টি দেশে বিশ্ববিদ্যালয় আছে পাঁচ হাজারের মত, আর এক আমেরিকাতেই বিশ্ববিদ্যালয় আছে প্রায় ছয় হাজার এর কাছাকাছি।
ওআইসি ভুক্ত দেশগুলোর একটা বিশ্ববিদ্যালয়ও যেখানে The World University Ranking সাইট এর প্রথম ১০০টা বিশ্ববিদ্যালয়েরর মধ্যে স্থান পায়নি, সেখানে প্রথম একশোর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে আমেরিকার ৪৫টা বিশ্ববিদ্যালয়। (প্রথম দশটার মধ্যে সাতটা)
যেখানে প্রথম ২০০ র মধ্যে ওআইসি-ভুক্ত ৫৭ টি মুসলিম দেশের একটি মাত্র বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে তুরস্কের Bogazici University (১৯৯ তম)
সেখানে আমেরিকার বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ২০% স্টুডেন্টস ইহুদী সম্প্রদায় থেকে আসা।
আমেরিকান নোবেল বিজয়ীদের মোটামুটি ৪০% ইহুদী অর্থাৎ নোবেল বিজয়ী প্রতি চার থেকে পাঁচ জনের একজন ইহুদী।
আমেরিকার অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রফেসররা ইহুদী।
আমেরিকার উত্তর পূর্ব উপকূলের ১২ টি বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়কে এক সাথে আইভি লীগ বলা হয়।
২০০৯ সালের ১টি জরিপে দেখা গেছে আইভি লীগ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক’জন ভিসি-ই ইহুদী।
হতে পারে ইহুদীরা আমেরিকার মোট জনসংখ্যার ২ শতাংশ, কিন্তু আমেরিকান রাজনীতিতে তাদের প্রভাব একচেটিয়া। আমেরিকার ১০০ জন সিনেটরের ১৩ জন ইহুদী।
এর চেয়ে ভয়ংকর তথ্য হল ইহুদীদের সমর্থন ব্যতীত কোন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হতে পারেনা, কোন প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট থাকতে পারেনা।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব যতখানি- আমেরিকান রাজনীতিতে ইহুদীদের প্রভাব তার চেয়েও অনেক অনেক বেশি।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নির্বাচনী ফাণ্ড বা তহবিল সংগ্রহ একটা বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ। বারাক ওবামা বা ক্লিনটন নিজের টাকায় প্রেসিডেন্ট হতে পারতেন না। ডোনেশান এবং পার্টির টাকায় তাদের নির্বাচনী ব্যয় মিটাতে হয়েছে। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী ফাণ্ড দাতা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে – AIPAC – America Israel Public Affairs Committee. ::
আমেরিকার এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংকসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকগুলো ইহুদীদের দখলে। ফলে আমেরিকার কেউ চাইলেও এদের কিছু করতে পারবে না। বরং জুইশ কমিউনিটি বা ইহুদি সম্প্রদাকে হাতে না-রাখলে ক্ষমতায় টেকা যাবে না। এসব কারণে শুধু জুইশ কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্টে প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করে যেতে হয়।
আমেরিকার রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করে মূলতঃ কর্পোরেট হাউজগুলো। তারা প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত বানাতে পারে, এবং প্রেসিডেন্টকে সরাতে পারে। এসব কর্পোরেট হাউজগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় এদের মালিক কিংবা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কম্পানিগুলোর মূল দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা চীফ এক্সজিকিউটিভ অফিসার, সিইও হলেন ইহুদী কমিউনিটির মানুষ।
এই কথা মাইক্রোসফটের ক্ষেত্রে যেমন সত্য তেমনি জাপানিজ কোম্পানি সনির আমেরিকান অফিসের জন্যও সত্য। প্রায় অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ পদে জুইশ আমেরিকানরা কাজ করছেন। জুইশ কমিউনিটির ক্ষমতাধর বিলিয়নেয়াররা মিলিতভাবে যে-কোনো ঘটনা ঘটিয়ে দিতে পারেন।
মিডিয়া জগতে যদি আপনি তাকান তাহলে দেখবেন;
CNN, AOL, HBO, Cartoon Network, New line cinema, Warner Bross, Sports illustrated, People – Gerald Levin – ইহুদী মালিক নিয়ন্ত্রিত।
ABC, Disney Channel, ESPN, Touchstone pictures – Michael Eisner – ইহুদী মালিক নিয়ন্ত্রিত।
Fox Network, National Geographic, 20th century Fox Rupert Murdoch – ইহুদী মালিক নিয়ন্ত্রিত।
Top 4 famous Newspapers of USA & their editors
New York Times – Arthur Sulzberger
New York Post – Rupert Murdoch
Washington Post – K.M. Graham
Wall street journal – Robert Thomson
সব কয়টি খবরের কাগজ ই ইহুদী মালিক নিয়ন্ত্রিত।
আপনার প্রিয় মিডিয়া ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা Mark Zuckerberg পর্যন্ত একজন ইহুদী।
ইরাকের বিরুদ্ধে আমেরিকার আগ্রাসনকে সাধারণ আমেরিকানদের কাছে বৈধ হিসেবে চিত্রায়িত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ফক্স নিউজ। বিশ্ববিখ্যাত মিডিয়া মুগলরুপার্ট মারডকের নিয়ন্ত্রণাধীন এরকম প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই জুইশদের সমর্থন দিয়ে এসেছে। রুপার্ট মারডকের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সারা বিশ্বের ১৮৫ টি পত্রপত্রিকা ও অসংখ্য টিভি চ্যানেল। বলা হয় পৃথিবীর মোট তথ্য প্রবাহের ৬০% ই কোন ন কোনভাবে নিয়ন্ত্রণ করে রুপার্ট মারডকের The News Corporation.
টিভি চ্যানেলগুলোর মধ্যে এবিসি, স্পোর্টস চ্যানেল, ইএসপিএন, ইতিহাস বিষয়ক হিস্টৃ চ্যানেলসহ আমেরিকার প্রভাবশালী অধিকাংশ টিভি-ই ইহুদিরা নিয়ন্ত্রণ করছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে।
আমেরিকায় দৈনিক পত্রিকা বিক্রি হয় প্রতিদিন কমপক্ষে ৫৮ মিলিয়ন কপি। জাতীয় ও স্থানীয় মিলিয়ে দেড় হাজার পত্রিকা সেখানে প্রকাশিত হয়। এসব পত্রিকাসহ বিশ্বের অধিকাংশ পত্রিকা যে নিউজ সার্ভিসের সাহায্য নেয় তার নাম দি এসোসিয়েটেড প্রেস বা এপি (AP)। এ প্রতিষ্ঠানটি এখন নিয়ন্ত্রণ করছেন এর ইহুদি ম্যানেজিং এডিটর ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইকেল সিলভারম্যান। তিনি প্রতিদিনের খবর কী যাবে, না-যাবে তা ঠিক করেন।
আমেরিকার পত্রিকাগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী তিনটি পত্রিকা হলো নিউইয়র্ক টাইমস্ , ওয়াল ষ্টৃট জার্ণাল এবং ওয়াশিংটন পোষ্ট। এ তিনটি পত্রিকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইহুদিদের হাতে।
ওয়াটারগেট কেলেংকারীর জন্য প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছিলো ওয়াশিংটন পোষ্ট। এর বর্তমান সিইও ডোনাল্ড গ্রেহাম ইহুদি মালিকানার তৃতীয় প্রজন্ম হিসেবে কাজ করছেন। উগ্রবাদী ইহুদী হিসেবে তিনি পরিচিত। ওয়াশিংটন পোষ্ট আরও অনেক পত্রিকা প্রকাশ করে। এর মধ্যে আর্মিদের জন্যই করে ১১টি পত্রিকা। এই গ্রুপের আরেকটি সাপ্তাহিক পত্রিকা পৃথিবী জুড়ে বিখ্যাত। টাইম এর পরে বিশ্বের দ্বিতীয় প্রভাবশালী এই সাপ্তাহিক পত্রিকাটির নাম নিউজউইক।
আমেরিকার রাজনৈতিক জগতে প্রভাবশালী নিউইয়র্ক টাইমস্-এর প্রকাশক প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ইহুদিরা হয়ে আসছেন। বর্তমান প্রকাশক ও চেয়ারম্যান আর্থার সালজবার্গার প্রসিডেন্ট ও সিইও রাসেল টি লুইস এবং ভাইস চেয়ারম্যান মাইকেল গোলডেন সবাই ইহুদি।
বিশ্বের অর্থনীতি যারা নিয়ন্ত্রণ করেন তাদের নিয়ন্ত্রণ করে ওয়াল ষ্টৃট জার্নাল। আঠার লাখেরও বেশী কপি চলা এই পত্রিকার ইহুদি প্রকাশক ও চেয়ারম্যান পিটার আর কান তেত্রিশটিরও বেশী পত্রিকা ও প্রকাশনা সংস্থা নিয়ন্ত্রণ করেন।
প্রিয় পাঠক, এবার প্রশ্ন হচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের ৩২টা দেশের ৩২ × ২৩ জন খেলোয়াড়ের কতজন ইহুদী???
উত্তর হচ্ছে – একজন ও না।
অথবা আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের ১৬টা দেশের ১৬ × ১৫ জন খেলোয়াড়ের কতজন ইহুদী????
যদি প্রশ্ন করা হয় পৃথিবীর বেস্ট ১০০ জন ফুটবলারের কতজন ইহুদী? কিংবা পৃথিবীর বেস্ট ১০০ জন ক্রিকেটারের কতজন ইহুদী?
উত্তর হচ্ছে – একজন ও না।
কেন??????
বছরের কিছু সময় টি টুয়েন্টি আর ফ্ল্যাশ মব, কিছু সময় আইপিএল আর চিয়ার্স লিডার, কিছু সময় ফিফা বিশ্বকাপ বা আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ, বাকি সময় ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ আর স্প্যানিশ প্রিমিয়ার লীগ বা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ নিয়ে ব্যস্ত থাকা আমাদের মনের মধ্যে কী কখনো এই প্রশ্ন আসেনা?
ক্যামনে আসবে ভাই, পয়লা বৈশাখ, পয়লা ফাল্গুন, চৈত্র সংক্রান্তি, থার্টি ফার্স্ট আছেনা? এত এত কাজের ভিড়ে এই ধরণের হাইপোথিটিকাল চিন্তা মাথায় আসবে ক্যামনে? হ্যাঁ, আসেনা বলেই আমি আপনি বসবাসের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে অযোগ্য শহরের বাসিন্দা, এই প্রশ্নগুলো আমাদের আসেনা বলেই আমরা এমন একটা দেশের এমন
একটা জাতির একজন – যে দেশের নাম নেইমার মেসিরা শুনেই নি, যে দেশকে ভিক্ষুকের দেশ হিসেবে পৃথিবী চিনে, কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে চিনে মজুর আর কাজের বুয়ার দেশ হিসেবে, যে দেশটি আন্তর্জাতিক ভাবে টানা দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নের রেকর্ড গড়ে।
আমার লেখার এটুকু পড়েই অনেকের উত্তর শোনার গরজ থাকার কথা না, তবু উত্তরটা দিয়ে দেই, কেন ইহুদীরা ফুটবল ক্রিকেটে এত পিছিয়ে।
একটা ফুটবলের ব্যাস হয়ত ২০ – ৩০ সে.মি. বা একটা ক্রিকেট বলের ব্যাস আর ও কম হয়ত ১০ – ১২ সে.মি.
ইহুদীরা বিশ্ববাসীকে ১০ – ৩০ সেন্টিমিটারের এই ফুটবল ক্রিকেটের বল নিয়ে ব্যস্ত রেখে ১২৮০০ কিলোমিটার ব্যাসের বেশ বড় একটা ফুটবল নিয়ে খেলছে – আর এই বড় ফুটবলটাই হচ্চে পৃথিবী।

ইসরাইল, প্রযুক্তির উন্নয়নে সফল এক দেশ

কয়েক দশক ধরে নিজেদেরকে পৃথিবীর অন্যতম প্রযুক্তিধর দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে ইসরাইল। মাত্র ৮০ লক্ষের চেয়ে সামান্য বেশি জনসংখ্যার এই দেশে অবিশ্বাস্যভাবে ৪ হাজারেরও বেশি প্রযুক্তি কোম্পানি রয়েছে। সিসকো, পেপাল, মাইক্রোসফট, গুগল, ফেসবুক, অ্যাপল কিংবা ইনটেল হচ্ছে এমনই কিছু হাতেগোনা কোম্পানির নাম, যারা ইসরাইলে নিজেদের নতুন পণ্য উৎপাদন ও গবেষণার কাজ করে।
কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের এই বিষফোঁড়া কীভাবে যুদ্ধ বিগ্রহকে পাশ কাটিয়ে নিজেদেরকে বিশ্বে প্রযুক্তি বিপ্লব ঘটিয়েছে? কীভাবেই বা তারা প্রযুক্তি বিশ্বকে নিজেদের হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে? ডেইলি বাংলাদেশের পাঠকদের সামনে সেটাই তুলে ধরা হলো।

ইসরাইলকে নির্দ্বিধায় বলা যায় বিশ্বের সবচেয়ে বিতর্কিত রাষ্ট্র। ইসরাইলের প্রসঙ্গ চলে আসলে যুদ্ধ-বিগ্রহ, ধর্মীয় কিংবা রাজনৈতিক সংঘাতের কথা অবধারিতভাবেই চলে আসে। কিন্তু আজকে আমরা তাদের এগিয়ে যাবার কথা বলতে চাই। বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে অসাধারণভাবে এগিয়ে যাওয়া এই দেশটি কীভাবে এই সাফল্য অর্জন করলো, তার পেছনের চিত্র তুলে ধরবো আজ।

পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরাইলে ৪ হাজারেরও বেশি টেক কোম্পানি রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের প্রথম সারির সবচেয়ে বড় কোম্পানিগুলোর নাম। বিশ্বের সবচেয়ে প্রধান ৫০০টি টেক জায়ান্টের ৮০টিরই গবেষণাকেন্দ্র এবং নব্যপ্রযুক্তি বিষয়ক কেন্দ্র রয়েছে ইসরাইলে! আদতে টেক স্টার্টআপের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির ঠিক পরেই রয়েছে ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবের নাম, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি কেন্দ্র। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত টেক কোম্পানিগুলোর শেয়ারের জন্য তৈরি ন্যাসড্যাক স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকায় ইসরাইল রয়েছে ৩ নাম্বারে, শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র আর চীনই রয়েছে ইসরাইলের উপরে। জার্মানি, স্পেন, ইতালি, ফ্রান্সের সম্মিলিত প্রযুক্তি কোম্পানির তালিকাও রয়েছে ইসরাইলের পিছনে!

কিছু উদাহরণ দেওয়া যাক। ঠিক এই মুহূর্তে পরবর্তী মডেলের আইফোনের হার্ডওয়্যারের বেশিরভাগই তৈরি করা হচ্ছে ইসরাইলে। চীন হয়তো উৎপাদনের দিক থেকে এগিয়ে থাকতে পারে, কিন্তু নতুন প্রযুক্তি গবেষণা, আবিষ্কার আর তা বাস্তবে তৈরি করার দিক থেকে সবার উপরে রয়েছে ইসরাইল। গুগলের নতুন প্রযুক্তিগুলোর অনেকগুলোই তৈরি করেছে এই ইসরাইলিরা। ইনটেল, বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রসেসর তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান, মাইক্রোচিপ নিয়ে গবেষণার জন্যও ইসরাইলের গবেষকদের মুখাপেক্ষী। ইসরাইলের ইনটেল কারখানায় কাজ করে ১১ হাজারেরও বেশি কর্মী, যেটি দেশের অন্যতম বড় প্রযুক্তি কারখানা। বিল গেটসের মাইক্রোসফটকেও ধরা হয় একটি আধা-ইসরাইলি কোম্পানি হিসেবে, অর্থাৎ আপনার কম্পিউটারে চালিত উইন্ডোজ সফটওয়্যারটি ডেভেলপ করতেও অবদান রয়েছে কোনো ইসরাইলি প্রযুক্তিবিদের।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, ইসরাইলের আয়ের অন্যতম বড় একটি অংশই আসে এই প্রযুক্তি খাত থেকে। আইবিএম, পেপাল, সিসকো, আমাজন, ফেসবুকসহ বড় বড় কোম্পানিগুলোর ‘রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ সেক্টরে কাজ করার ফলে এবং প্রযুক্তি আমদানির ফলে যে অর্থ আয় হয়, তা ইসরাইলের জিডিপির ১২.৫%! এখন আপনার মাথায় নিশ্চয়ই ঘুরছে, কীভাবে ইসরাইল এই সক্ষমতা অর্জন করলো। সেগুলোই শুনে আসা যাক।

ইনটেল ৮০৮৮, বিশ্বের প্রথম পিসি সিপিইউ, তৈরি হয়েছে ইসরাইলের হাইফা ল্যাবরেটরিতে

নব্বইয়ের দশককে ধরা হয় ইসরাইলের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ দশটি বছর, বিশেষ করে অর্থনীতির দিক থেকে। প্রতিবছর প্রায় ১০০% মুদ্রাস্ফীতির কারণে অর্থব্যবস্থায় ধস নেমেছে, বাজেটের ঘাটতি আর ঋণের বোঝা তখন দেশের প্রতিটি কোণার মানুষের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। মোদ্দাকথা, ইসরাইলিদেরকে খেয়ে পরে চলার জন্য পুরোটাই নির্ভর করতে হচ্ছে বিদেশি সাহায্যের উপর। দশকের শেষ দিকে ইসরাইল চেষ্টা করছে এই বাজে অবস্থা থেকে উঠে আসার জন্য, ঠিক তখনই ভেঙে যাওয়া সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে হাজির হলো প্রায় ৮ লক্ষ ইহুদি। সংখ্যাটা বেশ কম মনে হলেও তৎকালীন সময়ে ইসরাইলের নাজুক অবস্থাকে আরো শোচনীয় করে তুলতে এটুকুই যথেষ্ট ছিল। এখন ইসরাইলের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ালো একটিই, কীভাবে এতগুলো বেকার মানুষের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করা যাবে? ইসরাইলের হাতে একটাই উপায়, পুরো অর্থনীতি ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো।

প্রথমদিকে ইসরাইল সরকার চেষ্টা করলো উদ্যোক্তাদেরকে নতুন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য, কিন্তু যে দেশে টাকাই নেই সেখানে কীভাবে নতুন উদ্যোক্তা এগিয়ে আসবে? আর কেই বা ইসরাইলের মতো হাঙ্গামাপূর্ণ দেশে তাদের মূল্যবান অর্থ বিনিয়োগ করবে? আর তখনই সরকার বুঝতে পারলো যে একমাত্র আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের মাধ্যমেই এ অবস্থা থেকে উত্তরণ পাওয়া সম্ভব। আর সেখান থেকেই শুরু হলো ‘ইয়জমা প্রোগ্রাম’।

লেজার প্রজেকশন কী-বোর্ড তৈরি হয়েছে ইসরায়েলেই

হিব্রু ভাষায় ইয়জমার অর্থ হচ্ছে উদ্যোগ। এই পরিকল্পনার অধীনে ইসরাইল সরকার ১০০ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ১০টি ফান্ড তৈরি করলো। বহিরাগত কোম্পানির প্রতি ১২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পিছনে ইসরাইল সরকার ৮ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার মাধ্যমে কোম্পানির ৪০% মালিকানা দখলে রাখবে। যদি এখান থেকে লাভ হয়, তাহলে বিদেশি প্রতিষ্ঠান সামান্য সুদসহ সরকারের টাকা পরিশোধ করে সম্পূর্ণ কোম্পানির মালিক হয়ে যেতে পারবে, অর্থাৎ বিনিয়োগকারীদের জন্য পুরোটাই লাভ। অন্যদিকে আপাতদৃষ্টিতে ইসরাইল সরকারের কোনো লাভ নেই মনে হলেও নতুন কোম্পানি আর কর্মসংস্থানের ফলে অর্জিত ট্যাক্স থেকেই সরকারের বিনিয়োগের খরচ উঠে যাবে।

আর এই পরিকল্পনার বাস্তব ফলাফল এর চেয়ে ভালো হওয়াও সম্ভব ছিল না। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো ইসরাইলে বিনিয়োগ করা শুরু করলো, যেকোনো আইডিয়া বাস্তবায়নের জন্যই টাকার বরাদ্দ রয়েছে। প্রথম আট বছরের মধ্যেই ফান্ডের সংখ্যা দাঁড়ালো ২০ থেকে ৫১৩ তে! আর ফলাফল? ইসরাইলকে এখন ধরা হয় উদ্যোক্তাদের রাজধানী হিসেবে, এবং পরিসংখ্যানুযায়ী, প্রতিটি কোম্পানির প্রতিটি কর্মীর পিছনে প্রতি বছর ১৫০ মার্কিন ডলার করে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ছে। তুলনা করা হলে, এটি স্পেনের একজন উদ্যোক্তার পেছনে বিনিয়োগের তুলনায় ৪০ গুণ বেশি! আর শুধু টাকাই নয়, টাকার সাথে সাথে যোগ হচ্ছে অভিজ্ঞতার পাহাড়ও।

জেরুজালেম টেকনোলজি পার্ক

অভিবাসন নীতি
কোনো দেশের জনসংখ্যা অভিবাসীদের উপর নির্ভরশীল, প্রশ্নটির উত্তর নিঃসন্দেহে হবে ইসরাইল। আদতে প্রতি ৩ জন ইসরাইলির একজন বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছে! এবং প্রতি ১০ জনের ৯ জনই অভিবাসী এবং অভিবাসীদের সন্তান-সন্ততি। আর এটিই প্রমাণ করে কীভাবে স্বাধীনতার সত্তর বছরের মধ্যে একটি দেশের জনসংখ্যা ১০ গুণ বেড়ে গেল। ইসরাইলের সংবিধান অনুযায়ী,

প্রত্যেক ইহুদির ইসরায়েলে বাস করার অধিকার রয়েছে

প্রত্যাবর্তনের আইন, ধারা ১

আর এই নীতিকে কোনো ছোটখাট জিনিস মনে করলে ভুল করে থাকবেন। জরিপ অনুযায়ী, যে দেশে অভিবাসীর সংখ্যা যত বেশি, সে দেশ ঠিক ততটাই ধনী। কারণ, অভিবাসীদের মধ্যে উদ্যোগ নেওয়ার প্রবণতা বেশি। তাছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা এই ইহুদিদের সম্মেলন নতুন নতুন আইডিয়া বের করতে বড় ভূমিকা পালন করেছে।

ইসরায়েলে অভিবাসীদের আগমন

শিক্ষাব্যবস্থা
ইসরাইলের এই বিরাট সাফল্যের মূল কারণ হচ্ছে এর শিক্ষাব্যবস্থা। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা হওয়ার ৩০ বছর আগেই ইহুদিরা জেরুজালেমে প্রতিষ্ঠা করে ‘দ্য হিব্রু ইউনিভার্সিটি অফ জেরুজালেম’। বর্তমানে কলেজ ডিগ্রি অর্জনের দিক থেকে ইসরাইল রয়েছে একেবারে প্রথমসারিতে। আর অন্য দেশ থেকে ইসরাইলকে যা আলাদা করা হয়েছে তা হলো এর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

ইসরায়েলের একটি রসায়ন ল্যাবরেটরিতে ছাত্ররা

ইসরাইলের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করে একেকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থের যোগানদাতা হিসেবে আবার রয়েছে বিভিন্ন বৈদেশিক প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ফলে একজন শিক্ষার্থী যে শুধুই শিক্ষা গ্রহণ করে তা-ই নয়, বরং একইসাথে পেশাদার গবেষক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করে। এর ফলে ছাত্রাবস্থাতেই বের হয়ে আসে একেকজন উদ্যোক্তা, যার মাথায় ঘুরতে থাকে অসাধারণ সব আইডিয়া। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে এসব গবেষণা আর উদ্ভাবনের মাধ্যমেই ইসরাইল নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছে বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তিধর দেশ হিসেবে।

আশির দশকের বিধ্বস্ত অবস্থা থেকে ইসরাইল তাদের জনসংখ্যা দুই গুণ বাড়িয়েছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে চার গুণ, জিডিপির দিক থেকে ছাড়িয়ে গেছে স্পেন কিংবা ইতালির মতো উন্নত দেশকে। সর্বোপরি, প্রযুক্তি বিশ্বকে নিজেদের হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে তারা। বর্তমান যুগ হচ্ছে প্রযুক্তির যুগ। প্রযুক্তির উন্নয়ন ছাড়া কোনো দেশের উন্নতি একপ্রকার অসম্ভব। ইসরাইলকে মডেল হিসেবে ধরে অন্যান্য দেশও কি প্রযুক্তিগত উন্নয়নের দিকে চোখ ফেলবে? আপনার কী মনে হয়?