mission71

মিশন একাত্তর

ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে আগামীকাল। ঈদ মানেই আনন্দ। আর আনন্দের অন্যতম অনুষঙ্গ উন্নত মানের খাবার। তবে এ আনন্দের মধ্যেও মনে রাখতে হবে, গোটা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও এখন করোনার মহামারী চলছে। ফলে খাদ্য গ্রহণে বিশেষ সতর্ক হতে হবে। এমন কোনো বাড়তি আয়োজন বা অতিরিক্ত ভোজন ঠিক হবে না, যেন এ মুহূর্তে অসুস্থ হয়ে নতুন বিপদ সৃষ্টি হয়। বরং খাবারের পুষ্টিগুণের দিকে তাকাতে হবে এ সময়। তাই ঈদের মেন্যুতে সবারই উচিত পুষ্টি ও স্বাদের সমন্বয় করা। খাবারে বাড়তি স্বাদ আনতে আমরা ব্যবহার করি অতিরিক্ত তেল আর মসলা।

সবজি বা টক ফল দিয়ে মজাদার খাবার আগেই বানিয়ে রাখুন। ঈদের দিন দুপুরে পোলাও বা হালকা মসলার খিচুড়ি থাকতে পারে মেন্যুতে। সেই সঙ্গে মাছের কোনো রেসিপি ও সবজি থাকলে ভালো। খাবার তালিকায় মাংস-পোলাও-বিরিয়ানির সঙ্গে রাখুন সবজি ও সালাদ। টক দই, সবজির সালাদ খাবার হজমে সাহায্য করে। শসা, টমেটো, লেবু, গাজরের সালাদ এবং আঁশযুক্ত সবজি প্রতি বেলার খাবারের সঙ্গে যেন থাকে সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখুন। সালাদ আগে থেকে কেটে রাখবেন না। আগে কেটে রাখলে সালাদের ভিটামিন সি নষ্ট হয়ে যায়। পোলাও-বিরিয়ানি তৈরিতে যথাসম্ভব কম তেল বা ঘি ব্যবহার করুন। ঈদের দিন রাতের খাবার একটু হালকা হলেই ভালো।

যেহেতু অতিরিক্ত গুরুপাক খাবারগুলোয় পাকস্থলী অনভ্যস্ত, তাই ঈদের দিন এসব খেয়ে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। ঈদের দিন একটি সাধারণ সমস্যা হলো কৌষ্ঠকাঠিন্য। ঈদে মাংস, তেল, চর্বি বেশি খাওয়ায় শরীরে পানির অভাব দেখা দেয়। এতে অনেকেই, বিশেষ করে বৃদ্ধরা সমস্যায় পড়েন। এ ক্ষেত্রে ঈদের আগের রাতে বা ঈদের দিন সকালে ইসবগুলের ভুসি পানিতে মিশিয়ে খেয়ে নিতে পারেন। এর সঙ্গে প্রচুর পানি পান করবেন। ঈদের দিন দুপুর ও রাতে অবশ্যই সবজির একটি খাবার রাখবেন। আর সব খাবারের ফাঁকে ফাঁকে পানি বা লেবুর শরবত পান করতে পারেন। সেমাই ছাড়া ঈদ হয় না। সেমাই-পায়েস ক্যালসিয়ামের উৎস। কারণ এতে দুধ ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া সেমাই-পায়েসের সঙ্গে বাদাম, কিশমিশ যোগ করলে পুষ্টিমান আরও বেড়ে যায়। তবে ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।


লেখক : প্রধান পুষ্টিবিদ, ইমপেরিয়াল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম।