mission71

মানবতার কল্যাণে তথ্য-প্রযুক্তি তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ এবং ব্যবহারে সকলেই মূল্যবোধ এবং নীতি-নৈতিকতা সমুন্নত রাখার অভিপ্রায়ে ২৫ নভেম্বর ইউনেস্কোর সকল সদস্য (১৯৩) রাষ্ট্রই ঐতিহাসিক একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে।

তথ্য-প্রযুক্তির এতটাই বিকাশ ঘটেছে যে, দৈনন্দিন অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’র সহায়তা নিতে হচ্ছে। বিমানের টিকিট বুকিং এবং চালকহীন গাড়ি ক্রয়ের আবেদনেও প্রযুক্তি সকলের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। এমনকি, দূরারোগ্য হিসেবে একসময়ের পরিচিত ক্যান্সার চিকিৎসা অথবা প্রতিবন্ধীদের সমাজের সকল পর্যায়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরীর ক্ষেত্রেও অপরিসীম ভূমিকা পালন করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সক্ষম প্রযুক্তি। ইউনেস্কোর মতে অনেক দেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি প্রাইভেট সেক্টরের নীতি-নির্ধারণেও সহায়তা করছে প্রযুক্তি। জলবায়ু পরিবর্তন রোধে এবং ক্ষুধা মুক্তির ক্ষেত্রেও আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স নির্ভরযোগ্য পরামর্শ দিচ্ছে।
এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে উন্নীত হওয়া সত্বেও সর্বাধুনিক এই প্রযুক্তিকে এখন অপ্রত্যাশিত অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে জাতিসংঘের এই সংস্থা মনে করছে। এ প্রসঙ্গে ইউনেস্কোর প্রধান অদ্রে অজুলে ২৫ নভেম্বর বলেছেন, এখন প্রয়োজন হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে মানবতার সার্বিক কল্যাণে ব্যবহারের জন্যে নীতিমালা তৈরী করার। এক্ষেত্রে নীতি-নৈতিকতা এবং মূল্যবোধে উজ্জীবত থাকতে হবে সকলকে, তাহলেই অপব্যবহারের ক্ষেত্র সংকুচিত হতে বাধ্য। রাষ্ট্রসমূহ নিজ নিজ অবস্থান থেকে যে সিদ্ধান্তে উপনীত হলো তা তথ্য-প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে ঐতিহাসিক একটি পদক্ষেপ বলে মনে করা যেতে পারে।

ইউনেস্কো (জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান, সাংস্কৃতিক সংস্থা)’র পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, আমরা দেখতে পাচ্ছি লিঙ্গ এবং সম্প্রদায়গত পক্ষপাতিত্ব ক্রমান্বয়ে বাড়ছে, ব্যক্তি-গোপনীয়তা, মর্যাদা এবং সামাজিকতা হুমকিতে পড়ছে, গণহারে তদারকির ভয়াবহতার পাশাপাশি বিশ্বাসযোগ্য নয় এমন টেকনোলজিও ব্যবহার করা হচ্ছে আইন প্রয়োগকারি সংস্থার কাজে। এমন পরিস্থিতির অবতারণা হয়েছে কারণ, এখন পর্যন্ত সর্বসম্মত কোন বিধি তৈরী হয়নি এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে। সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ইউনেস্কো তথ্য-প্রযুক্তির অপব্যবহারের বিরুদ্ধে যথাযথ একটি আইন তৈরীতে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।