আবির হাসান ইবনে হাবিবের কবিতা

আবির হাসান ইবনে হাবিবের কবিতা

#কবিতা
#সন্ধ্যা_নেমেছে
#আবির_হাসান_ইবনে_হাবিব
সন্ধ্যা নেমেছে,
থেমেছে কোলাহল
পাখি সব ফিরে নীড়ে
এখন শুধু তোমার আমার অবসর
কতশত মানুষের ভীড়ে।
ছুটছে সবাই মর্ত্যলোকে
বিরামহীন পথের আঁকেবাঁকে,
সোডিয়াম আলো দিকে দিকে
এত আয়োজন, এত ছোটাছুটি
সন্ধ্যা তুই আসলি বলে।
তুই তাকালেই, চোখে চোখ রাখলেই
আনমনে ভাবনায় দিগন্তে হারালেই,
আমি সিক্ত হই, বিবশ হই তোর প্রেমেতেই
মনে মনে আঁকি তোর ছবি,মত্ত তোর ভালোবাসাতেই।
এই অবসরে, সন্ধ্যার সাথে চলতে চলতে
চুপিসারে, দুজনে কত কথা বলতে বলতে,
অভিসারে আনমনে কত স্মৃতি ভাবতে ভাবতে
জনম জনম চাই তোকে শুধু ভালোবাসতে ভালোবাসতে
তুই ফিক করে হাসলেই, গালে টোল পড়লেই
তোর চোখে না বলা জমে থাকা কথা অনুভব করলেই
চাঁদের আলোয়, নক্ষত্রের নিচে হাতে হাত রেখে
ফিরে ফিরে আসব, তোকে ভালোবাসব জনম জনমে।

#কবিতা
#আবির_হাসান_ইবনে_হাবিব
ফাগুন হাওয়ায় বসন্ত
ঋতুরাজ বসন্ত এসেছে
কড়া নাড়ছে দরজায়,
ফুলেদের রাজ্যে ভরা মৌসুম
যেদিকে তাকাই দুচোখ জুড়ায়।
ফাগুন হাওয়ায় আনমনে ভাবনায়
হাতে হাত রেখে কত পথ হেঁটেছি,
দুজনার কত অবসর কেটেছে কৃষ্ণচূড়ার ছায়ায়
সব স্মৃতি জমে আছে স্মৃতির পাতায় পাতায় ।
ধূসর কুয়াশা সরে সোনারোদ খেলা করে
গাছে গাছে ফুলের মুকুল বাগান জুড়ে ।
চারিদিকে গাইছে কোকিল গান
নাচছে মন উতলা হচ্ছে প্রাণ,
সখী খুলে দাও বাতায়ন
দখিনা বাতাস মনে জাগায় শিহরণ ।
রক্তরাঙা শিমুলের রূপে ছুটে আসে পাখিরা
আমের মুকুলের গন্ধে ছুটে আসে অলিরা,
পহেলা ফাল্গুনে খোঁপায় গাঁদা ফুল গুজে
বাসন্তী পিরানে রমনিরা সাজে ।
জোছনা রাতে সুবাস ছড়ায় সন্ধ্যামালতী
বসন্ত জুড়ে অপরূপ সাজে থাকে প্রকৃতি,
বসন্ত জুড়ে থাকে বেলি ফুলের সম্ভার
মালা গাথায় এ ফুলের জুড়ি মেলা ভার ।
বারবার বসন্ত ফিরে ফিরে আসুক
নানা রূপে প্রকৃতি হাসুক,
আনন্দে মাতুক মানুষের মন
বসন্তে প্রকৃতি করুক নানা আয়োজন।

কবিতা
শিশির ভেজা শীত
আবির হাসান ইবনে হাবিব
পত্র কুঞ্জে জলে স্থলে সর্বত্র
শীতের আগমন,
ষড়ঋতুর বাংলাদেশ সৌন্দর্যের
লীলা নিকেতন।
বিষাদময় মূর্তি রূপেই শীতের আবির্ভাব
হিমেল হাওয়া নিস্তব্ধ প্রকৃতি শীতের স্বভাব,
হাড় কাঁপানি শীত চারিদিকে জেকে বসেছে
কুয়াশা মাখা ধবল চাদর গায়ে ভোর এসেছে।
কি মুগ্ধতা সূর্যের সোনালি রশ্মিতে,
হলুদ চাদর বিছিয়েছে প্রকৃতি সরিষার ক্ষেতে।
মহুয়া গাছের ফাঁকে ফাঁকে
মৌমাছিরা গুনগুন করে ডাকে।
কি আনন্দ আকাশে বাতাসে
বনে জঙ্গলে পাপিয়ারা মধু পিয়ে নাচে।
শিশির ভেজা রাতে
অঙ্গ বুলাই সবুজ ঘাসে,
সবাই শীত বস্ত্র শরীরে জড়িয়ে
শীত কমায় আগুন জ্বালিয়ে।
সকালবেলা খেজুরের মিষ্টি রসে
প্রাণ জুড়ায়,
ঘরে ঘরে উৎসবে মাতে সবাই
হরেক রকম পিঠায়।
পথে পথে জীর্ণ শীর্ণ দেহের সীমাহীন কষ্ট,
কনকনে শীতে কাহিল,
জীবনটা তাদের দুর্বিষহ
দুঃখে জর্জরিত।

#কবিতা
#শরৎ_এসেছে_ধরায়
#আবির_হাসান_ইবনে_হাবিব
সাদা মেঘের পোশাকে ঢেকেছে শরতের আকাশ
প্রকৃতির হালকা মেজাজে বইছে বাতাস ,
চল দুজনে ভাসি সাদা মেঘের ভেলায়
হৃদয় রাঙাই শরতের শুভ্রতায়।
উচ্ছল প্রকৃতি আর হাওয়ায় দুলছে কাশের বন
ভেজা ঘাসে শুভ্র চাদর বিছিয়েছে শিউলির দল,
ভোরবেলায় শিউলি তলায় লেগেছে ফুল কুড়ানোর ধুম
পাঁচ পাপড়ির সাদা ওই ফুল ছুঁয়ে দেখি চল।
প্রজাপতি নাচে, এলোকেশ উড়ে, কাশফুলেরা হাসে
শিউলির সুবাসমাখা শেষরাতে আকাশ জোছনায় ভাসে,
সেই নীলচে আলোয় তোর আমার প্রণয়
মিশে যাই প্রকৃতিতে ভেঙে সব সংশয় ।
ঘন সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে সুবাস ছড়ায় কামেনি
সন্ধ্যায় ফোটে, সারারাত হেসে ঝরে ভোরবেলায়,
শরতে পুকুর, ডোবা, হাওর আর বাওরে ফোটে শাপলা
গাঢ় লাল আর গোলাপি রঙে কি মুগ্ধতা ছড়ায়।
প্রকৃতিতে বারবার শরৎ ফিরে ফিরে আসুক
চারিদিকে জুঁই, জবা আর টগর ফুলেরা হাসুক ,
শরতের শুভ্রতা আর বাতাসের মিতালি ছড়িয়ে পড়ুক
হৃদয়ে হৃদয়ে শুভ্র শরতে ভালোবাসা জাগুক ।

#আবির_হাসান_ইবনে_হাবিব
#অনুভূতির_ব্যবচ্ছেদ
তুমি করেছো ব্যবচ্ছেদ আমার সব অনুভূতির
আমার চারপাশে অন্ধকার, শুধুই মরুভূমি প্রান্তর
পৃথিবীর সব আলো আর জোছনা হোক তোমার আমার শুধুই ছেড়া স্বপ্ন, হাহাকার আর দুমড়ানো খেলাঘর।
আমি চোখ বুজলেই দেখি শরতের ভেজা ঘাস ঘাসের চাদরে বসে শিশির মেখে কেটেছে কত রাত, শান বাধানো পদ্মপুকুরের ছলাৎ ছলাৎ ঢেউ আছড়ে পরে বুকের গভীর অন্ধকারে দেয় আঘাত।
আমার ভেজা চোখ শুধু আমারই থাক রঙিন স্বপ্নগুলো নির্বাসনে চলে যাক সাদা কালো অবাক রঙে মাখা প্রণয় পুড়ে ছাই কি করে আবার নতুন ফানুস উড়াই, জীবন রাঙাই।তুমি করেছো ব্যবচ্ছেদ আমার সব অনুভূতির
আমার চারপাশে অন্ধকার, শুধুই মরুভূমি প্রান্তর ।
হাতে হাত রেখে অবেলায় অবসন্ন গোধূলি লগ্নে আনমনে ভাবনায় হৃদয়ের তাড়নায়, কত পথ হেঁটেছি তুমি আমি বসন্ত বিকেলে কেটেছে অলস সময় ফাগুন হাওয়ায়।
তোমার সুবাস মাখা স্মৃতিতে আজও ভাসি অঙ্গ বুলাই রাতের আকাশে তারার আলোয় খুঁজে খুঁজে ফিরি তোমায়।
অজানা গল্পগুলো আজও ভেসে ভেসে বেড়ায় ছুটে ছুটে চলে আকাশে মেঘের ভেলায়
তুমি আজ অন্য শহরে অন্য মানুষের বক্ষে
আছও বেশ নতুন স্বপে নতুন গল্পে
তোমার আমার আজ কত ভেদাভেদ
তুমি করেছো আমার সব অনুভূতির ব্যবচ্ছেদ ।
আমার চারপাশে অন্ধকার,শুধুই মরুভূমি প্রান্তর
পৃথিবীর সব আলো আর জোছনা হোক তোমার আমার শুধুই ছেড়া স্বপ্ন, হাহাকার আর দুমড়ানো খেলাঘর।

রক্তচোষা জোঁক

তোরা সব রক্তচোষা জোঁক
শ্রমিকের ঘাম শুষে হয়েছিস বড়লোক,
ঐ শ্রমিকের মলিন বদন
দেখে ফিরেনা তোদের চেতন।
শ্রমিকের ঘামে তোরা সোনায় সোহাগা
দিনশেষে এই দিনমজুরেরা বড়োই অভাগা,
জীর্ণশীর্ণ দেহে দারিদ্র্যের নিদারুণ ছাপ
নিত্য দিনের সঙ্গী ওদের অনাহার অভাব।
ভেঙে ফেল রক্তচোষাদের শৃঙ্খল
ন্যায্য দাবিতে থাক তোরা নিশ্চল অবিচল,
মরণ তো আসবেই, আসুক থাক তোরা অটল
সমাজে শ্রমিকের বেতন বৈষম্য একদিন হবেরে কতল।

#কবিতা_কৃষ্ণচূড়ার_নীড়
#আবির_হাসান_ইবনে_হাবিব
আমাদের ছোট পরিবার, ছোট এই ঘর কৃষ্ণচূড়ার নীড়,
একদিন হবে লোকে লোকারণ্য, হবে কত মানুষের ভিড়।
আমাদের ছোট ছোট কথা, ছোট ছোট গল্প
কত প্রকৃতির ছবি, জীবনের প্রতিচ্ছবি হয় প্রকাশ,
এই ইট পাথরের শহরে কত কোলাহল, নেই প্রশান্তি
কৃষ্ণচূড়ার নীড়ে উঁকি দিয়ে খুঁজে পাই একটু অবকাশ।
কত শব্দমালায়, কত বাচনভঙ্গিতায় মোরা সৃষ্টি করি দীর্ঘ আখ্যায়িকা
সকলের মনে কত স্বপ্ন, কত চিত্র,কত গল্প আঁকা
মায়া,মমতা আবেগময় কতশত জীবনের গল্প,
সাহিত্যের ছোঁয়ায়,সৃজনশীলতায় কাটুক জীবন
নশ্বর এই পৃথিবীতে সময় যে বড় অল্প।
বাংলাদেশ থেকে মেরিল্যাণ্ড কিংবা নানা প্রাণ্তের হোক যতোই দূরত্ব,
কৃষ্ণচূড়ার নীড় এক পরিবার,এক ঘর,সবার মাঝে অনড় ভ্রাতৃত্ব।
জোছনা রাতে চাঁদের আলোয় মোরা সবাই ভাসি
দেখি ভোরের আলোয় সদ্য ফোটা কত
ফুলের হাসি,
আকাশের ছবি, পুষ্পের ছবি, প্রবাহিণীর ছবি
প্রাণ্তরের ছবি,শিশির ভেজা ঘাসের ছবি,
বাগানবিলাসে উড়তে থাকা প্রজাপতির ছবি,ফড়িংয়ের ছবি,
ঐ নীল আকাশে জমে জমে থাকা মেঘের ছবি,
মেঘ থেকে গলে গলে পড়া ঐ বাদলের ছবি,
বাদলে ভেজা ঐ কদম ফুলের ছবি নয়তো
মধ্য দুপুরে তপ্ত রোদে আগুন লাগা ঐ কৃষ্ণচূড়ার ছবি,
সাঁঝের বেলায় সোডিয়াম লাইটের আলোমাখা পিচ ঢালা পথের ছবি,
গাঁয়ের মেঠো পথের ছবি,শেষ রাতে ঝাউবনের ওপর আছড়ে পরা জোছনার ছবি,
মোরা প্রকৃতির সব চিত্র ধারণ করি,প্রকাশ করি
স্মৃতির পাতায় আগলে রাখি,মোদের কৃষ্ণচূড়ার নীড়ে বাড়ি।
একদিন হয়তো মোরা থাকবনা, লিখবনা রচনা,
কফি হাউসের মতো হবে শত নতুনের আনাগোনা
মোরা থাকব হয়তো মহাকালে, নতুন কোন ঠিকানায়
সবকিছু বদলাক তবু যেন শুধু কৃষ্ণচূড়ার নীড় রয়ে যায়।

কবিতার নাম
“মমতা তোমায় মনে পড়ে”
জীবনের শেষ বেলায় কত স্মৃতি ভেসে ওঠে হৃদয়পটে,
কত খুনসুটি, কত আহলাদে চোখে চোখ রেখে কেটেছে নির্ঘুম রাত
আজ অশ্রুসিক্ত নয়নে ,অপরাহ্ণে, মমতা তোমায় ভেবে দিবারাত্র কাটে।
মমতা তুমি ঘুমিয়ে আছো বাড়ির পশ্চিম পাশে ঐ লিচু গাছ তলায়,
তোমার হাতে লাগানো সে গাছ আজ সেজেছে তোমারই শয্যায়।
আমার সামান্য জ্বর হলে তুমি হতে দিশেহারা
সারারাত জেগে কপালে হাত রেখে ,বসে থাকতে আমার শিয়রে,
আজ আমি বড় একা তুমি ছাড়া
মমতা খুব বেশি তোমায় মনে পড়ে।
মমতা তোমার লাল পিরান আজও আছে আমার সঙ্গী হয়ে
তোমার ঘ্রাণ নিয়ে আমার বেলা অবেলা কাটে,
মাটির টোপায় পয়সা জমিয়ে
লাল পিরান কিনতে গিয়েছিলাম
বউবাজারের হাটে।
লাল পিরান হাতে নিয়ে অঝোরে কেঁদেছিলে সেদিন,
জড়িয়ে ধরেছিলে শক্ত করে
বলেছিলে ছেড়ে যাবেনা আমায় কোনোদিন।
মমতা তোমার হাতে হাত রেখে, কাঁধে মাথা রেখে বৃষ্টিস্নাত দিনে
কদমফুলের সুবাস মেখে কত ভিজেছি এই পুকুরঘাটে,
ঘাট আছে, লাল পিরান আছে, তোমার ঘ্রাণ আছে, লিচু গাছ আছে
আজও বৃষ্টি নামে প্রকৃতি ভাসে শ্রাবণ জলে,
শুধু তুমি নেই, ভালোবাসা নেই
কদম ফুলের সুবাস মাখা
সব স্মৃতি জমে আছে এ হৃদয়পটে।
মমতা তোমায় মনে পড়ে
চোখ ভিজে উঠে,আছি প্রতীক্ষায়,
কবে আসব ছুটে তোমার কাছে
ঠাই হবে, শয্যায় যাব ঐ লিচু গাছ তলায়।
মমতা তোমার পরশ মেখে রেখে গিয়েছো বাড়ির পরতে পরতে
আমি বার্ধক্যে কুপোকাত,
হাত বুলাই তোমার সাজানো সংসারের সবখানে
অনুভব করি তোমায়, চোখ বন্ধ করি, তখন ফিরে যাই যৌবনে।
এইতো সেদিন তোমার কোল জুড়ে খোকা এলো
মুচকি হেসে পৃথিবীর সব ঢেলে দিলে
জড়ালে আমায় সে কি মধুময় আলিঙ্গনে।
খোকনসোনা আজ কত বড় ডাক্তার,
ছুটে যায় সবখানে , গরিব দুঃখীর পাশে, বীর সেবক হয়ে
ভালোবাসা জয় করে হয়েছে দূত মানবতার।
মমতা আমি আসছি, প্রহর গুণছি
প্রতিদিন এসে দেখি,হাত বুলাই তোমার কবরে,
চোখ মুছি জলে,অনুভব করি তোমায়
বাড়ির পশ্চিম পাশে তোমার লিচুগাছ তলায়
আশ্রয় নিব আমি শেষ শয্যায়।

কবিতার নামঃ ঠিক সন্ধ্যায়
লেখকঃ আবির হাসান ইবনে হাবিব

ঠিক সন্ধ্যায় যখন পাখি সব ফিরে যায় নীড়ে,
ঠিক সন্ধ্যাায় প্রকৃতি খেলে অদ্ভুত খেলা
কত কোলাহলের ভীড়ে।
একটু একটু করে রং হারায় দিনের আলো,
ধীরে ধীরে ঘনীভূত হয় আঁধার
ঠিক যেন প্রেয়সীর চোখের মতো কাজলকালো।
ঠিক সন্ধ্যাায় কত দূরে হারিয়েছি তুমি আমি দুজনায়,
বিকেল পেড়িয়ে কত পথ পাড়ি দিয়েছি, কেটেছে সময় কত আনমনে ভাবনায়।
আজকের পৃথিবীর কত রুপ, কত মানব, কত মানবী কত সাজে সাজে এই বসুধা,
একই রুপে তুমি আমি সেই প্রেম
আজও আছে, সব স্মৃতি জমে আছে, ভাজে ভাজে সাজানো হৃদয়ের ক্যানভাসে
তোমার আমার সন্ধ্যা।
ঠিক সন্ধ্যায় বলেছিলাম তোমাকে বড় ভালোবাসি
তারপর চলছি দুজনে হাতে হাত রেখে একই পথে পাশাপাশি।

মানবিক মানুষ

আমি হতে চাই মানুষের মত মানুষ
চারিদিকে ছড়াতে চাই সত্যের ফানুস
মিথ্যা না বলে মিথ্যাকে করি বর্জন,
সমাজে শুধু ছড়াব সত্যের গর্জন।

বাবা–মা আর বড়দের করি সম্মান
তাহলেই হব আমি পৃথিবীতে অম্লান
অন্যায় ছেড়ে অনুসরন আর রপ্ত করি ন্যায়,
সততা আর ন্যায়ের পথে জীবন করি ব্যয়।

ন্যায়ের পথে আসতে পারে বাধা, বিপত্তি, যন্ত্রণা
দেশ আমার মা তাই তার সাথে করব না প্রতারণা
অসৎ পথে, অন্যায় করে, করব না, অর্থ উপার্জন।

মানুষের মত মানুষ হতে পারব না, বৃথা হবে এই জীবন।
আমি মানুষ হলে আমায় সবাই করবে অনুসরন
তাহলেই দেশ এগিয়ে যাবে, হবে উন্নয়ন।

মানুষকে ভালোবাসবো কারন মানুষ মানুষের জন্য
হিংসা, বিদ্বেষ, ভয় দূর করলে এ জীবন হবে ধন্য।

মনুষত্ব্য হলো মানুষের প্রতি মানুষের মমতা
গড়ে তুলতে হবে শিশুকাল থেকেই নৈতিকতা
হব না অসৎ, করব না কোন অপরাধ
অন্যায়ের সবসময় করব প্রতিবাদ
দেশের জন্য সর্বদা রাখব জীবনবাজি,
এসেছে সময়, সেই শপথ করতে হবে আজি।

মনোযোগসহকারে গ্রহন করতে হবে শিক্ষা
কারন শিক্ষাই দিবে মোদের নানামূখী দিক্ষা।

ভালো মানুষের ভালো হতে হবে চরিত্র
কারন চরিত্র মানুষের সম্পদ, ইহা মহাপবিত্র
মানুষ, বৃক্ষ, পশু–প্রানী সবার প্রতি থাকতে হবে মায়া
সমাজে কোথাও থাকবেনা অপরাধ আর দুর্নীতির ছায়া
ভালো মানুষের প্রয়োজন আর গুনের নাই কোন শেষ,
ভালো মানুষ মরলেও বেঁচে থাকবে সমাজ, বেঁচে থাকবে দেশ।

মানুষে মানুষে করা যাবে না মারামারি, রক্তপাত,
থাকতে হবে মায়া–ভালবাসা, অহংকার নিপাত যাক।

করা যাবে না অসুদাপায়, আর নেওয়া যাবে না ঘুষ
মানুষের মত মানুষের থাকে সততা আর নৈতিকতার হুঁশ।

করব না অহংকার, দেখাব না যদি থাকে ক্ষমতা
মিলেমিশে থাকব সবাই, বজায় রাখব একতা
সবাই চিন্তা করি, মাথা খাটাই, বুদ্ধি দিয়ে ভাবি,
ভালবাসাময় আর ন্যায়ের পৃথিবী গড়ব, এটাই শুধু দাবি।

আমি হতে চাই মানুষের মত মানুষ
চারিদিকে ছড়াতে চাই সত্যের ফানুস।

 

 

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Articles