mission71

জোমবি ব্যাঙের সন্ধান মিলল অ্যামাজনের জঙ্গলে। ভয়ংকর দেখতে ব্যাঙটি আসলে তত ক্ষতিকারক নয়।

দীর্ঘদিন ব্যাঙ এবং সাপের মতো উভচর ও সরিসৃপ প্রাণীদের নিয়ে কাজ করছেন জার্মান গবেষক রাফায়েল আর্নস্ট। সম্প্রতি তিনি এবং তার টিম অ্যামাজনের জঙ্গলে আবিষ্কার করেছেন জোমবি ব্যাঙের। ডিডাব্লিউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন নতুন প্রজাতির ব্যাঙ আবিষ্কারের গল্প।

নতুন প্রজাতির এই ব্যাঙের গায়ের রং গাঢ় কমলা। তার উপর ছোট ছোট স্পট আছে। রাতের দিকে এই ধরনের ব্যাঙ অ্যাক্টিভ হয়ে ওঠে। মাটির তলায় গর্ত করে থাকে এই ধরনের ব্যাঙ। রাফায়েল জানিয়েছেন, সন্ধের পর জঙ্গলে ঢুকে তারা বৃষ্টির অপেক্ষা করতেন। বৃষ্টি শুরু হলেই খালি হাতে তারা গর্ত বানানোর কাজ শুরু করতেন। গোটা শরীর ভরে যেত মাটিতে। গর্ত খোড়ার ওই আওয়াজের সঙ্গে তারা অপেক্ষা করতেন কখন ব্যাঙের ডাক শোনা যাবে। আওয়াজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শব্দ অনুসরণ করে তারা ব্যাঙের পিছনে ছুটতেন। আগেই তারা নতুন প্রজাতির ব্যাঙের আওয়াজ পেয়েছিলেন। কিন্তু চোখে দেখতে পাননি। গর্ত করতে শুরু করার পরেই প্রথম তারা জোম্বি ব্যাঙের সন্ধান পান।
জোম্বি কিন্তু জোম্বি নয়

রাফায়েল জানিয়েছেন, নামে জোম্বি থাকলেও আসলে নতুন প্রজাতির এই ব্যাঙ আচরণে ভয়ংকর নয়। তা সত্ত্বেও তারা এই নাম দিয়েছেন কারণ, মাটিতে গর্ত করার সময় গবেষকদের জোম্বির মতো দেখতে লাগত। স্বভাবে নতুন প্রজাতির এই ব্যাঙ অত্যন্ত ভালো। তবে খুব সতর্ক না হলে তাকে দেখতে পাওয়া মুশকিল। দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যেতে পারে ব্যাঙটি। আর গায়ের রঙের জন্য মাটির সঙ্গে মিশে যায়।

প্রায় দুই বছর ধরে অ্যামাজনের জঙ্গলে পড়ে থেকে নতুন এই ব্যাঙ আবিষ্কার করেছেন রাফায়েল। আরও দুইটি নতুন প্রজাতির ব্যাঙ আগেই আবিষ্কার করেছিলেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক আবিষ্কারটি গুরুত্বপূর্ণ। রাফায়েল জানিয়েছেন, অ্যামাজনের জঙ্গল দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জঙ্গল কেটে ফেলা হচ্ছে। নতুন প্রজাতির ব্যাঙটি কার্যত অবলুপ্তির পথে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে একে আর বাঁচানো যাবে না। সূত্র: ডয়চে ভেলে